Back

ⓘ রেসিং হেলমেট




রেসিং হেলমেট
                                     

ⓘ রেসিং হেলমেট

রেসিং হেলমেট এক প্রকার প্রতিরক্ষামূলক হেডগিয়ার যা রেসিং গাড়ি এবং র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী ড্রাইভাররা পরে থাকেন। মোটর রেসিং দীর্ঘকাল ধরে একটি ব্যতিক্রমী ঝুঁকিপূর্ণ খেলা হিসাবে পরিচিত: যদি কোনও প্রতিযোগিতামূলক মোটর রেসিংয়ে খুব বেশি গতিতে থাকা অবস্থায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বা র‌্যালিংয়ে রুক্ষ ভূখণ্ডের সম্মুখীন হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তবে মাথায় হঠাৎ মন্দণ-জনিত বলের কুপ্রভাব সহজেই ঘটতে পারে। মোটর রেসিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় অনন্য এক ঝুঁকি হল জ্বালানী দ্বারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা। সে ক্ষেত্রে গাড়ির জ্বালানী লাইন বা জ্বালানী ট্যাঙ্কটি দ্বারা এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে সেসব লঙ্ঘন করে চালক যথেষ্ট তাড়াতাড়ি গাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন না। ১৯৭৬ জার্মান গ্রাঁ প্রি দৌড়ে নুরবারিং দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন চালক নিকি লাউডা যিনি তার আগেই এমন পরিস্থিতি থেকে সবে বেঁচে ফিরেছিলেন।

রেসিং দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতাল যাওয়ার শতকরা প্রায় ২৫ শতাংশই হয় মোটর রেসিংয়ের ক্ষেত্রে থেকে যা অন্য যে কোনও বড় আন্তর্জাতিক খেলার চেয়ে বেশি এবং হাসপাতালে থাকার গড় সময়কালও হয় দীর্ঘতম। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিএক গবেষণায় আরও জানানো হয়েছে যে মোটর রেসিংয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত আঘাতের হার সমস্ত বড় ধরনের খেলাগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ হতে পারে। তবে শিজুওকার ফুজি তোরানোমোন আর্থোপেডিক হাসপাতালে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে বোঝা যায় যে এই আঘাতগুলির একটি সামান্য অংশই আসলে মাথা বা আশপাশের অংশের।

                                     

1. ইতিহাস

গ্রিডিরন ফুটবল এর সাথে সাদৃশ্যযুক্ত কাপড়ের বা চালকের চোখ ধুলো থেকে রক্ষা করতে গগলস সহ চামড়ার হেলমেট অনেক প্রাক-প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেসিং চালক ব্যবহার করতেন এবং ইতিমধ্যে ১৯১৪ সালে অটো সাইকেল ইউনিয়ন তাদের রেসিং গাড়ির চালকদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক করে। যাইহোক এমন কি রেসগুলিকে ব্যক্তিগত ট্র্যাকগুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরেও এই হেলমেট মাথার ব্যাপক আঘাত বা পুড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে কোনও সুরাহাই করতে পারেনি।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মোটর রেসিংয়ে মাথার আঘাতের বিষয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হেলমেট ডিজাইনের প্রচেষ্টার থেকে অনেক দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯২০ এবং ১৯৩০ এর দশকে কিছু রেসিং চালক ফুটবল অথবা অগ্নিনির্বাপক হেলমেট পরতেন। কারণ এগুলি তখনকার সময়ের স্ট্যান্ডার্ড রেসিং হেডড্রেসগুলির চেয়ে ভাল সুরক্ষা দিত। ১৯৩০ এর দশকে হার্ড-শেল হেলমেট মোটরসাইকেল রেসিং এ ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও ১৯৫০ এর দশকের আগ পর্যন্ত মোটামুটি রেসিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে হার্ড-শেল হেলমেট তৈরি করা হয়নি। প্রথম ধাতব হেলমেট বিকাশের পরে খুব শীঘ্রই ফর্মুলা ওয়ানের সমস্ত চালকের জন্য এই ধরনের হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে এনএএসসিএআর ন্যাসকার ২০০১ সালে ডেল এনারহার্ড মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত পূর্ণ-মুখের ফুল-ফেস হেলমেট বাধ্যতামূলক করে নি।

আগে থেকেই অন্যান্য দৌড়ে হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রযুক্তিতে সুরক্ষার ব্যাপক উন্নতি হওয়ায় উচ্চতর গতির খেলাতে তার ব্যবহার স্বীকৃত হতে থাকে। বেল স্পোর্টস ১৯৫৪ সালে প্রথম ব্যাপকভাবে উৎপাদিত অটো রেসিং হেলমেট তৈরি করে।

১৯৫০ এর দশকের শেষে পুরো মুখের ক্র্যাশ হেলমেট সমস্ত ধরনের মোটর রেসিং চালকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসাবে বিবেচিত হয়ে ওঠে এবং স্নেল মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ১৯৫৯ সালে প্রথম অটো রেসিং হেলমেট মানক তৈরি করে। সেই সময় থেকে স্নেলের বিকল্প মানক ফেডেরেশন ইন্টারনেশনেল ডি এলআটমোবাইল এর স্ট্যান্ডার্ড গ্রাঁ প্রি রেসিংয়ে ব্যবহৃত হতে থাকে। সেফটি হেলমেট কাউন্সিল অফ আমেরিকা-ও ১৯৭০ এর দশকে রেস-কার হেলমেট স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছিল।

রেসিং হেলমেটগুলি সাধারণ মানের সরঞ্জাম হয়ে ওঠায় রেসিং গাড়ির শক্তি এবং গতি বৃদ্ধি সহ্য করার জন্য তাদের নকশায় অনেক উন্নতিও হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিকতমটি হল নমনীয় "টেথার্স" এর বিকাশ যার জন্য হেলমেটের অভ্যন্তরে প্রচন্ড ঝাঁকুনিতেও মাথা এগিয়ে যাবেও না বা সাইডে সরেও যাবে না।