Back

ⓘ কুমায়ূনী ভাষা




কুমায়ূনী ভাষা
                                     

ⓘ কুমায়ূনী ভাষা

কুমায়ূনী ভাষা ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি উত্তরা ইন্দো-আর্য বা পাহাড়ী ভাষাগুলি একটি৷ একুশ লক্ষ জনের ভাষা এই কুমায়ূনীর সাথে পার্শ্ববর্তী গাড়োয়ালী ভাষার প্রভূত সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়৷ ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের এই ভাষা দুটি একত্রে কেন্দ্রীয় পাহাড়ী ভাষাগোষ্ঠী গঠন করে৷

কুমায়ূনী বিপন্ন ভাষার তালিকার অন্তর্ভুক্ত না হলেও ইউনেস্কোর আটলাস অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস ল্যাঙ্গুয়েজ ইন ডেঞ্জার -এর তথ্য অনুসারে এটি একটি অসুরক্ষিত ভাষা, কঠোরভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজন। মোটামুটি ভাবে যারা কুমায়ূনী ভাষা বলেন, বোঝেন এবং প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার করেন তারা একই রকমভাবে হিন্দিও বুঝতে সক্ষম। ভাষাটি বর্তমানে বৃহত্তর হিন্দি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

                                     

1. লিপি

বর্তমানে কুমায়ুন ভাষা লেখার জন্য সরকারিভাবে মান্যতা প্রাপ্ত দেবনাগরী লিপির ব্যবহার হলেও ঐতিহাসিকভাবে অন্যান্য পাহাড়ী ভাষাগুলির মত এই ভাষাটি টাকরী লিপিতে লেখা হতো। পরবর্তীকালে দেবনাগরী লিপি উক্ত লিপির একাধিক রকমফেরকে প্রতি স্থাপিত করে।

এতদ্ব্যতীত অতি সাম্প্রতিককালে কুমায়ূনের তালেশ্বর মন্দির থেকে পাওয়া গিয়েছে টাকরী লিপির জনক গুপ্ত লিপিতে খোদিত কিছু নিদর্শন, যা তালেশ্বর তাম্রলেখদ্বয় নামেও পরিচিত।

কত্যুরী ও চাঁদ রাজবংশের রাজাদের রাজত্বকালের কুমায়ূনী ভাষায় লিখিত নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে একাধিক মন্দিরে। কুমায়ূনী ভাষা ছিল পূর্বতন কুমায়ূন রাজ্যের দাপ্তরিক ভাষা।

                                     

2. ভৌগোলিক বিস্তার ও উপভাষা

কুমায়ূন অঞ্চলে একাধিক উপভাষা রয়েছে। কুমায়ূনী ভাষার উপভাষাগুলিকে একে অপরের থেকে পৃথক করার বিশেষ কোনো যুক্তিসম্মত প্রক্রিয়া নেই। সর্বাধিক ব্যক্তি বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় বা কালি কুমায়ূনী উপভাষাটি আলমোড়া জেলা এবং নৈনিতাল জেলার উত্তরাংশে কথিত। উত্তর-পূর্ব কুমায়ূনী বলা হয় পিথোরাগড় অঞ্চলে। নৈনিতাল জেলার দক্ষিণ পূর্ব দিকের কথিত উপভাষাটি দক্ষিণ-পূর্ব কুমায়ূনী। পশ্চিমা কুমায়ূনীবলা হয় আলমোড়া এবং নৈনিতাল জেলার পশ্চিম দিকে।

সবিস্তারে:

  • পিথোরাগড় - সোরিয়ালী
  • জোহার উপত্যকা - জোহারী
  • রানীক্ষেত, দ্বারহাট - পছাই
  • রামনগর - ভাভরী
  • ডিডিহাট - সিরালী
  • কাণ্ডা, গঙ্গোলীহাট, বেরিনাগ‌ - গঙ্গোলী
  • আলমোড়া - খাসপরজিয়া
  • নৈনিতাল - রাউ
  • ফালদকোট - ফালদকোটীয়া
  • অস্কোট - অস্কোটী
  • চম্পাবত - কুমাইয়া
  • পশ্চিমা
  • মিলাম মুন্সিয়ারি - মল্ল ও তল্ল জোহারী
  • চৌগরখা - চৌগরখিয়ালি
  • বাগেশ্বর কাপকোট দানপুর - দানপুরিয়া

নেপালের সুদূর পশ্চিম প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে কুমায়ূনী ভাষীরা বসবাস করেন।

                                     

2.1. ভৌগোলিক বিস্তার ও উপভাষা জেলা অনুযায়ী পরিসংখ্যান

  • নৈনিতাল জেলা - ৪,৬২,৪৯৩ ৪৮.৪৫%
  • দেরাদুন জেলা - ১৮,৫৯৭ ০.৯৮%
  • উধম সিং নগর জেলা - ৮৬,০৭৮ ৫.২২%
  • আলমোড়া জেলা - ৫,৬১,৬৪২ ৯০.২২%
  • চম্পাবত জেলা - ২,০৩,০২২ ৭৮.১৯%
  • চামোলি জেলা - ৩,৭১৯ ০.৯৫%
  • পিথোরাগড় জেলা - ৪,২৩,৮৬২ ৮৭.৬৮%
  • বাগেশ্বর জেলা - ২,৪৩,৯৬৫ ৯৩.৮৭%
  • পৌড়ী গাড়োয়াল জেলা - ৪,৬৪৫ ০.৬৮%
                                     

3. ব্যাকরণ

ইন্দো আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে কুমায়ূনীর সাথে অন্যান্য ইন্দো আর্য ভাষা যথা হিন্দি, গাড়োয়ালী, কাশ্মীরি, পশ্চিমা পাহাড়ী এবং নেপালি ভাষার মিল পাওয়া যায়৷ কেন্দ্রীয় পাহাড়ী গাড়োয়ালী ভাষা ও পূর্ব পাহাড়ী মতান্তরে কেন্দ্রীয় ডোটেলী ভাষা ও পশ্চিমা পাহাড়ী জৌনসারী ভাষার সাথে বিশেষ সাদৃশ্য পাওয়া যায়৷

বাহ্লিক ভাষী খশ জাতি ছিলো পার্বত্য অঞ্চলে আগত প্রথম জাতি৷ পরবর্তীকালে তাদের ভাষা অবলুপ্ত হয়ে পড়লেও তারই প্রভাবে পাহাড়ী ভাষাগুলির ব্যকরণ মোটামুটিভাবে একই৷ কুমায়ূনী ভাষায় ক্রিয়াপদের স্বতন্ত্র রূপ একটি মূল ক্রিয়ার থেকে বিবর্তিত হয়ে আসে যা কাশ্মীরি ভাষার ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়। কুমায়ূনীতে কর্তার লিঙ্গ অনুসারে পরিবর্তিত হয়৷

ক্রিয়া ধাতুরূপ

"লেখ" ক্রিয়ার কাল, বচন ও পুরুষভেদে ক্রিয়ার ধাতুরূপ বদল৷

                                     

4. সরকারী পদমর্যাদা

ভারতের মর্যাদাপ্রাপ্ত ভাষাগুলির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কুমায়ূনী ও গাড়োয়ালী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলভুক্ত করার জন্য বহু দিন দাবী প্রকাশ করা হচ্ছে৷ ২০১০ খ্রিস্টাব্দে একটি বেসরকারী সদস্য বিল উপস্থাপন করা হয় লোকসভায় গাড়োয়ালী ও কুমায়ূনী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার কথা আলোচনার জন্য রাজ্য লোকসভায় সোচ্চার হওয়ার জন্য৷

জনজাতির কথ্য ভাষা সংরক্ষণ ও জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকার কুমায়ূন বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে কূমায়ূনী ভাষার বই প্রকাশিত করেন৷

                                     

5. কলাকৌশল

চলচ্চিত্র

  • তেরি সৌঁ, প্রথম কুমায়ূনী ও গাড়োয়ালী উভয়ভাষার চলচ্চিত্র, লেখক, প্রযোজক ও পরিচালক অনুজ যোশী, ২০০৩৷
  • মেঘ আ, প্রথম কুমায়ূনী চলচ্চিত্র, পরিচালক কাকা শর্মা, প্রযোজক এস.এস বিষ্ট, ১৯৮৭৷
                                     

5.1. কলাকৌশল চলচ্চিত্র

  • তেরি সৌঁ, প্রথম কুমায়ূনী ও গাড়োয়ালী উভয়ভাষার চলচ্চিত্র, লেখক, প্রযোজক ও পরিচালক অনুজ যোশী, ২০০৩৷
  • মেঘ আ, প্রথম কুমায়ূনী চলচ্চিত্র, পরিচালক কাকা শর্মা, প্রযোজক এস.এস বিষ্ট, ১৯৮৭৷
                                     

5.2. কলাকৌশল বেতার

  • ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে আকাশবাণী লক্ষ্ণৌ থেকে "উত্তরায়ন" নামে একটি নতুন অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়৷ এটি ছিলো মূলত রাজ্যের চিনা সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের জন্য৷
  • উত্তরাখণ্ডের লোকগীতি প্রচারের লক্ষ্যে ও বিশ্বের কাছে হিমালয়ের ভাষাগুলি পৌঁছে দিতে কুমায়ূন, গাড়োয়াল ও জৌনসার ইন্টারনেট রেডিও শুরু হয়৷ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত এক উত্তরাখণ্ডী এই চ্যানেলটি শুরু করাপর অধিক জনপ্রিয়তার কারণে ২০১০ খ্রিস্টাব্দে এটির বিটা ভার্সনও শুরু হয়৷ পরে এটি হিমালয়ের চিরাচরিত সুর বেদুপাকো বরমসা ও নারাইন কাফল পাকো চৈত - নামে নামাঙ্কিত৷
  • স্থানীয় জনজাতিগুলির অন্নয়নের স্বার্থে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১১ই মার্চ একটি কমিউনিটি রেডিও সার্ভিস শুরু হয়, যা ছিলো "কুমায়ূনবাণী"৷ উত্তরাখণ্ডের গভর্নর মার্গারেট আলভা প্রথম রাজ্যে সম্প্রদায় ভিত্তিক বেতার স্টেশন শুরু করেন৷ কুমায়ূনবাণীর প্রাথমিক বিষয় ছিলো আবহাওয়া, কৃষিকাজ, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার প্রসার৷ রেডিও স্টেশনটি মুক্তেশ্বর|মুক্তেশ্বরের ২০০০ জনসাধারণের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ে৷