Back

ⓘ কোশলপতি অজ




                                     

ⓘ কোশলপতি অজ

কোশলপতি অজ সূর্যবংশীয় রাজা রঘুর পুত্র। তিনি দশরথের পিতা।

রামায়ণ ও অন্যান্য পুরাণে মহারাজ অজের জীবনচরিত পাওয়া যায়না। কিন্তু মহারাজ স্কন্দগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের সভাকবি মহাকবি কালিদাস রচিত রঘুবংশম কাব্যে অজ এবং অন্যান্য রাম-পূর্ব ইক্ষ্বাকুবংশীয় জীবনচরিত পাওয়া যায়।

ঋষি কৌৎস মহারাজ রঘুকে আত্মগুণারূপ অনুসারে পুত্রের নাম রাখা হলো অজ। অজের শারীরিক গঠন, তেজস্বীতা ও স্বাভাবিক উন্নতি পিতা রঘুর মতোই হয়েছিল। কালিদাসের ভাষায়, একটি প্রদীপ দিয়ে জ্বালানো অন্য একটি প্রজ্বলিত প্রদীপের যেমন কোনো পার্থক্য থাকে না, তেমনি রঘু ও অজের মধ্যেও কোনো বিভিন্নতা ছিলো না। কুমার এজ যথাসময়ে গুরুর নিকট বিদ্যালাভ করে যুবরাজ হলেন।

বিদর্ভরাজ ভোজের বোন ইন্দুমতীর স্বয়ম্বর সভায় যাবার জন্য অযোধ্যায় নিমন্ত্রণপত্র এসেছিল। পিতা রঘুর ইচ্ছায় অজ সসৈন্যে বিদর্ভ নগরে যাত্রা করলেন। পথের মধ্যে ক্লান্ত হয়ে একটি বনের মধ্যে যখন তাঁরা বিশ্রাম করছেন, সেই সময় এক মদমত্ত হাতি তাঁদের আক্রমণ করে। বন্যহাতি রাজাদের অবধ্য, এই শাস্ত্রজ্ঞান জেনে শুধুু হাতিটিকে থামানোর জন্য অজ হাতির শরীরে একটি মাত্র তীর বিদ্ধ করেন। তীরবিদ্ধ হওয়ামাত্র সেই হাতিটি এক অপরূপ গন্ধর্বকুমারের রূপলাভ করল। গন্ধর্বকুমার অজকে জানায়, একজন ঋষিকে অপমান করবার জন্য ঋষির অভিশাপে গন্ধর্বটি মত্তহাতিতে পরিনত হয়েছিল। গন্ধর্বকুমারের নাম প্রিয়ম্বদ। অজ তাঁকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, এই কৃতজ্ঞতায় গন্ধর্ব অজকে সম্মোহন অস্ত্র প্রদান করলেন। অতঃপর গন্ধর্বকুমার বিদায় নিলে অজ বিদর্ভরাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করলেন।

বিদর্ভের স্বয়ম্বরসভায় ইন্দুমতী অজের রূপ ও তেজস্বীতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকেই বরমালা প্রদান করলেন। কিন্তু স্বয়ম্বরে আগত অন্য রাজারা ঈর্ষাবশত অজকে আক্রমণ করে। সেইসময় অজ সম্মোহন অস্ত্র প্রয়োগ করে তাঁদের অজ্ঞান করে পরাজিত করে। ইন্দুমতীকে নিয়ে অজ রাজধানী অযোধ্যায় ফিরে এলেন। এর কিছুকাল পরে রঘু অজকে সিংহাসনে বসিয়ে বানপ্রস্থে গেলেন।

তারপর বহুদিন সুখে-শান্তিতে রাজত্ব করবাপর অজ-ইন্দুমতীর পুত্র দশরথের জন্ম হলো। ক্রমে দশরথ বড় হয়ে যৌবরাজ্যে অধিষ্ঠিত হলেন। একদিন অজ-ইন্দুমতী বনবিহার করছিলেন। সেই সময় দেবর্ষি নারদ ও বনে বনে বিহার করছিলেন। আচমকা তাঁর বীণার প্রান্তে রাখা ফুলের মালা উড়ে এসে ইন্দুমতীর শরীরে আঘাত করল। সেই ফুলের মালার আঘাতে ইন্দুমতী মৃত হলেন। প্রিয়তম স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকার্ত অজ দশরথকে অযোধ্যার রাজসিংহাসনে বসিয়ে বানপ্রস্থ অবলম্বন করে বনে চলে গেলেন।

মৎস্যপুরাণ মতে, দিলীপের পুত্র অজ, তস্যপুত্র দীর্ঘবাহু, তস্যপুত্র অজপাল, তৎপুত্র দশরথ।

Users also searched:

...