Back

ⓘ নুর মহল (পাকিস্তান)




নুর মহল (পাকিস্তান)
                                     

ⓘ নুর মহল (পাকিস্তান)

নুর মহল হলো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত একটি প্রাসাদ। এটি বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক অধিকৃত ও নিয়ন্ত্রিত। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে ইতালীয় শ্যাতোর আদলে নব্য ধ্রুপদি ধাঁচে প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে কেবলমাত্র আধুনিকতার যুগ শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজের সময় প্রাসাদটি দেশীয় করদ রাজ্য বাহাওয়ালপুরের নবাবদের অধীনে ছিল।

                                     

1. ইতিহাস

নুর মহলের নির্মাণ ও স্থাপনা নিয়ে অনেক গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে। একটি কিংবদন্তী অনুসারে নবাব চতুর্থ আদনান আব্বাসি তার স্ত্রীর জন্য প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী কেবল এক রাতের জন্য সেখানে ছিলেন। তিনি তার বারান্দা থেকে পার্শ্ববর্তী কবরস্থান দেখতে পেয়ে সেখানে দ্বিতীয়বার রাত কাটাতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে নবাব আদনান আব্বাসির আমলে প্রাসাদটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

জনপ্রচারের অভাবে নুর মহলকে বাহাওয়ালপুরের গুপ্তধন বিবেচনা করা হয়। তবে প্রাসাদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। প্রাসাদটি বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অধীনে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা হিসেবে বিদেশি রাষ্ট্র ও শুভেচ্ছাদূতের সাথে সাক্ষাৎকার ও রাজ্য দরবারের জন্য নুর মহল প্রাসাদটি ব্যবহৃত হয়৷

                                     

2. স্থাপত্য

বাহাওয়ালপুর রাজ্যের রাজ স্থপতি মি. হিন্নান প্রাসাদটির নির্মাণ করেন। মি. হিন্নান জাতিতে ইংরেজ ছিলেন। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শুভ আকাঙ্ক্ষায় রাজ্যের একটি মানচিত্র ও মুদ্রা ভিত্তিপ্রস্তরের সাথে মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রাসাদের অধিকাংশ নির্মাণ উপাদান ও আসবাবপত্র ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে আমদানি করা হয়েছিল। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছিল। এর নির্মাণে মোট ১.২ মিলিয়ন রুপি খরচ হয়। ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে এক ভারতীয় রূপিতে ১১.৬৬ গ্রাম রূপা বিবেচনায় ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে এর সমপরিমাণ অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৮.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নুর মহল প্রাসাদের মোট আয়তন ৪৪,৬০০ বর্গ ফুট বা ৪,১৪০ বর্গ মিটার। প্রাসাদের নিচতলায় ১৪টি কক্ষসহ মোট ৩২টি কক্ষ, ৬টি বারান্দা ও ৫টি গম্বুজ রয়েছে।

প্রাসাদের নকশায় করিন্থীয় ও ইসলামি স্থাপত্যের সাথে কিঞ্চিৎ ভারতীয় উপমহাদেশের স্থাপত্যের মিশেল ঘটানো হয়েছে। ভবনের স্তম্ভ, রেলিং, পেডিমেন্ট ও দরবার হলের ছাদের ভল্টে করিন্থীয় ছাপ রয়েছে। পাঁচটি গম্বুজে ইসলামি স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে। অন্যদিকে এর কৌণিক উপবৃত্তাকার আকারে উপমহাদেশীয় স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট। নবাব পঞ্চম মুহাম্মদ বাহাওয়াল খান ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে ২০,০০০ রুপি খরচ করে প্রাসাদের সাথে একটি মসজিদ সংযোজন করেন। এর নির্মাণশৈলী আইচিসন কলেজের মসজিদের আদলে নির্মিত।

১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বাহাওয়ালপুর রাজ্যের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তিপর প্রাসাদটি ওয়াকফ বিভাগের অধীনে চলে আসে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনী প্রাসাদটি ইজারা হিসেবে নেয়। এরপর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ১১৯ মিলিয়ন রুপির বিনিময়ে প্রাসাদটি কিনে নেয় সেনাবাহিনী।

২০০১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রাসাদটিকে "সংরক্ষিত স্থাপনা" হিসেবে ঘোষণা করে। প্রাসাদটি বর্তমানে ছাত্র, সাধারণ ও উৎসুক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

                                     

3. দর্শনীয় সামগ্রী

নুর মহল প্রাসাদে বেশ কিছু প্রাচীন দর্শনীয় সামগ্রী রয়েছে। নওয়াবদের ব্যবহৃত সামগ্রী এর অন্তর্ভুক্ত। প্রাসাদে বেশ কিছু পুরনো তলোয়ার, প্রাচীন কাগুজে ও ধাতব মুদ্রা, নওয়াবদের আমলে তৈরি করা আইনের অনুলিপি, নওয়াবদের ব্যবহৃত পিয়ানো ও প্রাচীন আসবাবপত্র প্রভৃতি সংরক্ষিত আছে। প্রাসাদের একটি লম্বা দেওয়াল নবাবদের চিত্র দ্বারা শোভিত। তন্মধ্যে একটিমাত্র চিত্র আসল এবং অবশিষ্ট সমস্ত চিত্র কাল্পনিক।

নুর মহলের পাশে একটি কারাগারও রয়েছে।

                                     
  • জন ম ফ জ আল 1980 - 10 - 05 অক ট বর বয স  জ ত য ত প ক স ত ন প শ অভ ন ত র মড ল কর মজ বন বর তম ন দ ম পত য সঙ গ ন র জ ফর খ ন ব

Users also searched:

...