Back

ⓘ রিচার্ড বিচিং




                                     

ⓘ রিচার্ড বিচিং

রিচার্ড বিচিং, ব্যারন বিচিং একজন পদার্থবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী ছিলেন। সাধারণ্যে ড.বিচিং নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। খুবই সংক্ষিপ্ত, কিন্তু উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য তিনি ব্রিটিশ রেলওয়েজের চেয়ারম্যান ছিলেন। "ব্রিটিশ রেলপথের পুনর্গঠন" শীর্ষক প্রতিবেদন রচনা ও প্রকাশের জন্য ১৯৬০ এর দশকে রিচার্ড বিচিং ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। "বিচিং প্রতিবেদন" নামেই এটি অধিক পরিচিত। এটি রেলপথ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিচিং প্রতিবেদন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করে।

বিচিং প্রতিবেদনের ফলে ৪,০০০ রুট মাইল ৬,৪০০ কিলোমিটার রেলপথ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে ১৯৬৬ সালে ব্রিটিশ রেলপথের দৈর্ঘ্য কমে দাঁড়ায় ১৩,৭২১ মাইল ২২,০৮২ কিলোমিটার। ১৯৬০ এর দশকের শেষের ভাগে রেলপথের দৈর্ঘ্য আরো ২,০০০ মাইল ৩,২০০ কিলোমিটার হ্রাস পায়।

                                     

1. প্রারম্ভিক জীবন

বিচিং কেন্ট কাউন্টির শেপ্পে দ্বীপের শিয়ারনেস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। তাঁর বাবা হুবার্ট জোসিয়াহ বিচিং "কেন্ট মেসেঞ্জার" পত্রিকার প্রতিবেদক ছিলেন। তাঁর মা একজন স্কুলশিক্ষিকা ও মাতামহ জাহাজের ডকইয়ার্ডের কর্মী ছিলেন। বিচিংয়ের জন্মের কিছুদিন পরেই তাঁর পরিবার মেইডস্টোন শহরে বসবাস করতে শুরু করে । সেখানে রিচার্ডের দুই ভাই কেনেথ যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন ও জন জন্মগ্রহণ করেন। বিচিংরা চার ভাই ছিলেন; রিচার্ড তাদের মধ্যে দ্বিতীয়। তাঁরা সবাই চার্চ অব ইংল্যান্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁরা মেইডস্টোন গ্রামার স্কুলে পড়ার জন্য বৃত্তি অর্জন করেন। রিচার্ড ও তাঁর বড় ভাই জিওফ্রে লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন। দুই ভাই-ই পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন ও প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর ছোট দুই ভাই কেমব্রিজের ডাউনিং কলেজে লেখাপড়া করেন।

বিচিং স্যার জর্জ থমসনের অধীনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি অব্যাহত গবেষণা করেন। ১৯৩৬ সালে গ্রিনিচের জ্বালানি গবেষণা স্টেশন ও এর পরবর্তী বছর লন্ডনের মন্ড নিকেল বিজ্ঞানাগারে তিনি কাজ করেন। সেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ পদার্থবিদ নিযুক্ত হন; পদার্থবিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা ও যন্ত্র প্রকৌশল নিয়ে রিচার্ড বিস্তারিত গবেষণা করেন।

১৯৩৮ সালে তিনি এলা মার্গারেট টিলি-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা ওয়ারউইকশায়ারের সলিহুলে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ২৯ বছর বয়সী বিচিং "রসদ মন্ত্রক"Ministry of supply-এ নিযুক্ত হন। সেখানে সমরাস্ত্র নকশা ও নির্মাণ বিভাগে তিনি কাজ করেন। রিচার্ড ইমপেরিয়াল রাসায়নিক কোম্পানির আইসিআই প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী স্যার ফ্র্যাঙ্ক স্মিথের নেতৃত্বে যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কাজে ভূমিকা পালন করেন।

যুদ্ধের পরে স্মিথ প্রযুক্তি পরিচালক হিসেবে আইসিআই ফিরে আসেন। স্যার স্টুয়ার্ট মিশেল তাঁকে উপ-প্রধান প্রকৌশলীর পদে উন্নীত করেন। ১৯৪৮ সালে বিচিং স্যার ফ্র্যাঙ্ক স্মিথের প্রযুক্তি সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন। প্যান্টের জিপার, রং এবং চামড়ার কাপড় কিভাবে কম ব্যয়ে উৎপাদন করা যায়- বিচিং তার কৌশল উদ্ভাবন করেন। তারপর তিনি টেরিলিন কাউন্সিল ও আইসিআইয়ের তন্তু বিভাগে কাজ করেন।

১৯৫৩ সালে তিনি আইসিআই কানাডার উপপ্রধান পদে নিযুক্ত হন। অন্টারিও শহরে আইসিআইয়ের একটি টেরিলিন উৎপাদন প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠায় তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দুই বছর পরে তিনি স্যার ফ্র্যাঙ্ক স্মিথের পরামর্শে আইসিআই ধাতু উৎপাদন বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৫৭ সালে তিনি আইসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের প্রযুক্তি পরিচালক ও উন্নয়ন পরিচালক পদে নিযুক্ত হন।