Back

ⓘ সুধাংশু দত্ত মজুমদার




সুধাংশু দত্ত মজুমদার
                                     

ⓘ সুধাংশু দত্ত মজুমদার

১৯১৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বর্তমান বাংলাদেশ সিলেট শহরে সুধাংশু দত্ত মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেটে প্রাথমিক পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক ও রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কয়েক দশকব্যাপী কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কর্মক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- পালিত পদার্থবিজ্ঞান বিজ্ঞানাগার, রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি বিখ্যাত মজুমদার-পাপানেত্রু গবেষণাপত্র রচনা করেন। তিনি ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৬০ সালে তিনি সেখানে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করেন ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ডিরাকের সাথে দেখা করেন। ১৯৬২ সালে সুধাংশু কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। জন আর্চিবল্ড হুইলার তাঁর অভিসন্দর্ভ পরীক্ষণকারীদের মধ্যে ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি খড়গপুর প্রযুক্তি ইনস্টিটউটের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন ও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে নিউ ইয়র্কের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ভাষণ প্রদানের জন্য আহবান জানান। ১৯৭৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কলকাতা গণিতবিদ সমিতি ১৯৮০ সালে তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করে। সাধারণ আপেক্ষিকতা, গ্রুপ তত্ত্ব, তড়িচ্চুম্বকত্ব, বর্ণালীবীক্ষণ-সহ পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। সুধাংশু দত্ত মজুমদার ১৯৯৭ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

                                     

1. মজুমদার-পাপানেত্রু সমাধান

নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞানে বিন্দু আধানের স্থির সাম্যের বিষয়টি সুপরিচিত। আধানের মানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন Fine tuning মাধ্যমে আধানদ্বয়ের মধ্যে ক্রিয়াশীল অভিকর্ষজ বল ও স্থির তড়িৎ বল সাম্যাবস্থায় আনয়ন করা সম্ভব হয়। সুধাংশু ও পাপানেত্রু আলাদা আলাদাভাবে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে আইনস্টাইন-ম্যাক্সওয়েল সমীকরণের স্থির তাড়িতিক সমাধানরূপে এই সাধারণীকৃত রূপরেখা আবিষ্কার করেন। এক্ষেত্রে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রসমূহে স্থানিক প্রতিসমতা অনুপস্থিত এবং এদের মধ্যে অসম্পূর্ণ জিওডেসিক অবস্থিত। এই সমাধানগুলোকে আরো ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য ভের্নার ইসরায়েল ও উইলসন আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯৭২ সালে তারা পর্যবেক্ষণ করেন, ভরযুক্ত স্থান-সময়ের মান মজুমদার-পাপানেত্রু দশায় আধানের মানের সমান। একই বছর হার্টল এবং হকিং বলেন, এ সকল স্থান-সময়কে বিশ্লেষণী প্রেক্ষাপটে তড়িৎশূন্য কৃষ্ণবিবরীয় স্থান-সময়ে বিস্তৃত করা যাবে। তাঁরা একে আধানযুক্ত কৃষ্ণবিবররূপে বর্ণনা করেন, যাদের মধ্যে অভিকর্ষজ ও তাড়িতিক বল কাজ করছে। এই বহু-সংখ্যক কৃষ্ণবিবরের টপোলজি গোলীয় ধরনের এবং বস্তু হিসেবে এরা অনেকটাই নিয়মিত আকৃতির Regular object। এই অনবদ্য বিষয়টি পরবর্তীতে বিজ্ঞানী ক্রুইশেল ও হিউসলারসহ অনেক বিজ্ঞানীকে আকৃষ্ট করে এবং তারা এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ধ্রুপদি পদার্থবিজ্ঞান চর্চাকারী-রাও পাপানেত্রু-মজুমদার সমাধানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন । স্ট্রিং তত্ত্বেও এর ব্যবহার লক্ষণীয়। কৃষ্ণবিবরের বিশৃঙ্খলা মাত্রা নিয়ে স্ট্রিং তত্ত্বের আলোচ্য অনেক বিষয়ে এ সমাধানের বিশেষ গুরুত্ব লক্ষণীয়।

                                     

2. মজুমদার-পাপানেত্রু জ্যামিতি

হারম্যান ভেইল আবিষ্কৃত আইনস্টাইন-ম্যাক্সওয়েল সমীকরণের অক্ষীয় সমাধানকে মজুমদার-পাপানেত্রু জ্যামিতি অপ্রতিসম কিংবা সাধারণ ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণীকরণে Generalization ভূমিকা রাখে।