Back

ⓘ মগৌক




মগৌক
                                     

ⓘ মগৌক

মগৌক হচ্ছে মায়ানমারের শান প্রদেশের পিয়িন উ-লয়িন জেলায় অবস্থিত একটি শহর, যা মান্দালয় হতে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে, এবং শোয়েবো হতে ১৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ইয়াঙ্গুন থেকে উত্তরে প্রায় ৮২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরটি।

                                     

1. ইতিহাস

ধারণা করা হয়, ১২১৭ সালে তিনজন পথহারা শিকারী একটি ধসে পড়া পাহাড়ের গোড়ায় তিনটি চুনি ruby আবিষ্কার করার পর, মগৌক প্রতিষ্ঠিত হয়। কল্পকাহিনী অনুসারে, ঐ শিকারীরা মোমেক Momeik এ তাদের বাড়িতে ফিরে গিয়ে সেই মূল্যবান রত্ন স্থানীয় সাওফা saopha কে উপহার দেয়, যে ঐখানে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করে যেখানে আধুনিক কালের মগৌক শহরটি অবস্থিত।

সামরিক জান্তার শাসনামলে মগৌকে বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১৯৯৫-৯৬ এ এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বছরখানেকের মধ্যেই তা আবার পুনর্বহাল করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে আবার বিদেশি পর্যটকদের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এখানে ভ্রমণের বিধান চালু হয়।

২০১৮ সালে, মগৌক শহর এর ৮০০-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে।

                                     

2. ভূগোল

১,১৭০ মিটার ৩,৮৪০ ফু উচ্চতায় অবস্থিত মগৌক শহরে সারা বছরই মোটামুটি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। শহরটিতে বামা Bamar, শান Shan, লিসু Lisu, পালাউঁ Palaung, এবং কারেন Karen জনগোষ্ঠী ছাড়াও চীনা, ভারতীয় ও গুর্খাদেরও বাস রয়েছে। এই শহর city আবার দুটি নগরে town বিভক্ত – মগৌক এবং ক্যাৎ পিন Kyat Pyin। মগৌক চার মাইল দীর্ঘ এবং দুই মাইল চওড়া। অনেকগুলো পর্বতবেষ্টিত একটি উপত্যকায় এটা অবস্থিত। মগৌকের প্রায় ৭ মাইল দক্ষিণ–পশ্চিমে ক্যাৎ পিন Kyat Pyin অবস্থিত। এই এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের বিশেষ অনুমতি এবং ভ্রমণপথ প্রদর্শক থাকা বাধ্যতামূলক।

                                     

3. অর্থনীতি

মগৌক এবং আশপাশের গ্রামগুলো প্রাচীনকাল থেকেই মূল্যবান রত্নপাথর, বিশেষত চুনি ruby ও নীলমণির sapphire জন্য বিখ্যাত, তবে এখানে স্পিনেল spinel, লাপিস লাজুলি lapis lazuli, তামড়ি garnet, চন্দ্রমণি moonstone, পেরিডট peridot এবং ক্রিসোবেরিল বা বৈদুর্য chrysoberyl সহ অনেক আধা-মূল্যবান পাথরও semi-precious stones পাওয়া যায়। এসব পাথর পাললিক মর্মরের নুড়ির মধ্যে পাওয়া যায়, যা খনি খনন panning, সুড়ঙ্গকরণ tunneling, স্বহস্তে কূপ খনন ইত্যাদি উপায়ে উত্তোলন করা হয়ে থাকে। খনন প্রক্রিয়ার যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে খুব সামান্যই। নুড়ি পাথরগুলো আসে মগৌক রূপান্তর বলয় Mogok metamorphic belt থেকে প্রাপ্ত রূপান্তরিত চুনাপাথর মর্মর হতে।

এসব রত্ন মগৌকের বাজারে বিক্রি করা হয়। তবে বিদেশিদেরকে এই শহর ভ্রমণ করতে বিশেষ অনুমতি নিতে হয় এবং অসরকারি লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের সাথে রত্ন ক্রয় বা রপ্তানি করা নিষিদ্ধ।

নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের চুনির শতকরা ৯০ শতাংশই আসে মায়ানমার থেকে। শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার কয়েকটি জায়গাসহ পৃথিবীর অনেক স্থানেই চুনি পাওয়া যায়। তবে গুণগত মানে মগৌকের চুনিই বিশ্বসেরা। এই লোহিত পাথরগুলো এদের বিশুদ্ধতা ও আভার hue জন্যই এত মহার্ঘ্য। মায়ানমারের রত্নপাথরের সিংহভাগের ক্রেতা হচ্ছে থাইল্যান্ড। মান্দালয় থেকে ২০০ কিমি ১২০ মা উত্তরে অবস্থিত পর্বতময় মগৌকের "চুনির উপত্যকা" Valley of Rubies- কে বলা হয় চুনির আদি উৎস, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট পিজিওনস ব্লাড pigeons blood চুনি এবং বিশ্বের সুন্দরতম "রাজকীয় নীল" রঙের নীলমণি পাথর।