Back

ⓘ বিষয়শ্রেণী:পুষ্টি




                                               

অতিস্থূলতা

মেদাধিক্য হলো শরীরের এক বিশেষ অবস্থা, এই অবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হয় এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, ফলে আয়ু কমে যেতে পারে এবং একইসঙ্গে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বডি মাস ইনডেক্স হলো শরীরের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার, যা দিয়ে বোঝা যায় যে কোনো ব্যক্তি মাত্রাধিক ওজন বিশিষ্ট কিনা। যদি কারো বডি মাস ইনডেক্স ২৫ kg/m 2 থেকে ৩০ kg/m 2 মধ্যে থাকে তখন তাকে স্থূলকায় বা মোটা বলা যেতে পারে, আর যখন বডি মাস ইনডেক্স ৩০ kg/m 2 বেশি থাকে তখন তাকে অতি স্থূলকায় বা অতিরিক্ত মোটা বলা হয়। স্থূলতা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রোগের সম্ভাবনা দেখা ...

                                               

আমিষ

আমিষ মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। এটি দেহকলার গাঠনিক উপাদানগুলির একটি এবং জ্বালানির উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারে। জ্বালানি হিসেবে আমিষ শর্করার সমপরিমাণ শক্তি ঘনত্ব প্রদান করে: প্রতি গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি । এর বিপরীতে স্নেহপদার্থ বা মেদ প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি বা ৩৭ কিলোজুল শক্তি প্রদান করে। পুষ্টিগত দৃষ্টিকোণ থেকে আমিষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ও সংজ্ঞাসূচক বৈশিষ্ট্য হল এর ভেতরে অ্যামিনো অ্যাসিডসমূহের সংযুক্তি। আণবিক জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আমিষ বা প্রোটিন হল পেপটাইড বন্ধনসমূহ দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার শৃঙ্খল। মানব পরিপাকের সময় পাকস্থলীতে হাইড্রোক্ ...

                                               

খাদ্য শক্তি

খাদ্য শক্তি বলতে প্রাণীরা তাদের ভুক্ত খাদ্য ও আণবিক অক্সিজেন থেকে কোষীয় শ্বসন নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে রাসায়নিক শক্তি বের করে আনে, তাকে বোঝায়। কোষীয় শ্বসনে বাতাস থেকে প্রাপ্ত অক্সিজেনের সাথে খাদ্যের অণুর সংযোজন ঘটানো হতে পারে কিংবা অণুগুলির ভেতরের পরমাণুকে পুনর্বিন্যস্ত করা হতে পারে । মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের তাদের দেহের বিপাক প্রক্রিয়াগুলিকে চালু রাখার জন্য ও তাদের পেশীগুলিকে চালনার জন্য ন্যূনতম পরিমাণ খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। খাদ্য মূলত শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, পানি, খাদ্যপ্রাণ ও খনিজ পদার্থ দিয়ে গঠিত। খাদ্যপ্রাণ ও খনিজগুলি খাদ্যের ওজনের খুবই কম একটি অংশ গঠন করে। খাদ্যেভর ...

                                               

গ্লাইকোজেন

গ্লাইকোজেন হোল একটি পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড। এটি প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য উপাদান হলেও নীলাভ সবুজ শৈবাল ও কতিপয় ছত্রাক -এর খাদ্য উপাদান হিসেবে বিরাজ করে। গ্লাইকোজেনের মূল গাঠনিক একক হলো α-D-গ্লুকোজ। অ্যামাইলোপেকটিন এর মত এর অণু শৃঙ্খল ও শাখান্বিত। প্রতি শাখায় ১০-২০ টি গ্লুকোজ একক থাকে। হাইড্রোলাইসিস শেষে গ্লাইকোজেন হতে কেবল আলফা - D গ্লুকোজ অণু পাওয়া যায়।এর আণবিক সংকেত C 6 H 10 O 5 । প্রাণিদেহে লিভার ও পেশিতে বেশি করে গ্লাইকোজেন জমা থাকে যা প্রয়োজনে গ্লুকোজ এ পরিণত হয়ে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ করে।

                                               

পানিশূন্যতা

শরীরে পানিশূন্যতা বা পানির স্বল্পতাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ডিহাইড্রেশন। একজন ব্যক্তি খুবই অল্প পরিমাণে পানি পান করেন, তখন ব্যক্তির পানিশূন্যতা বা পানিস্বল্পতা হতে পারে। এছাড়া ব্যায়াম, রোগ বা পরিবেশগত উচ্চ তাপমাত্রার কারণেও পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

                                               

পুষ্টি তথ্যছক

পুষ্টি তথ্যছক বিশ্বের বহু দেশে বেশির ভাগ মোড়কজাত খাদ্যদ্রব্যের মোড়কের উপরে মুদ্রিত বাধ্যতামূলক তথ্যের ছক যাতে ঐ খাদ্যে কী কী পুষ্টি উপাদান কী পরিমাণে আছে, তার একটি তালিকা ছকাকারে দেওয়া থাকে। বিশেষ করে খাদ্যশক্তি, স্নেহ পদার্থ, শর্করা, আমিষ ইত্যাদির পরিমাণ, দৈনিক চাহিদার শতকরা কতভাগ, ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য থাকে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে সাধারণত বেশির ভাগ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন রুটি, সিরিয়াল, টিনজাত ও হিমায়িত খাদ্য, জলখাবার, মিষ্টান্ন, পানীয়, ইত্যাদির মোড়কের গায়ে পুষ্টি তথ্যছক লাগানো বাধ্যতামূলক। এর বিপরীতে কাঁচা খাবার যেমন ফলমূল, শাক-সবজি ও মাছের সাথে এগুলি লাগানো বাধ্যতামূলক নয়। ...