Back

ⓘ পূর্ব রাজ্যসঙ্ঘ




                                     

ⓘ পূর্ব রাজ্যসঙ্ঘ

পূর্ব রাজ্যসঙ্ঘ বা পূর্ব রাজ্য ইউনিয়ন কিংবা পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসঙ্ঘ বা পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ইউনিয়ন ছিল সদ্য স্বাধীন ভারত অধিরাজ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়া ব্রিটিশ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় দেশীয় রাজ্যগুলোর একটি স্বল্প-কালীন ইউনিয়ন বা জোট। ১৭৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতাপর ব্রিটিশ রাজের শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করার লক্ষ্যে প্রাক্তন উড়িষ্যার করদ-রাজ্য এবং ছত্তিসগড় রাজ্য সংস্থার অন্তর্ভূক্ত বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে এই ইউনিয়ন বা রাজ্য সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

                                     

1.1. ইতিহাস সৃষ্টি

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের ঠিক পরে এই ইউনিয়নটি গঠন করা হয়েছিল, এর ফলে দেশীয় রাজ্য গুলো ডি ফ্যাক্টো বা দে ফ্যাক্টো অর্থাৎ কার্যত স্বাধীন হয়ে ওঠে। ক্রান্তিকালীন সময়ে প্রাদেশিক ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সরকারগুলো দেশীয় রাজ্যগুলোকে সহায়তা অস্বীকার করে। কারণ, ঐতিহ্যবাহী দেশীয় রাজ্যগুলোর সাথে তাদের বৈরী সম্পর্ক ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে তারা দেশীয় রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে জনপ্রিয় আন্দোলনে জড়িত ছিল। নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি এবং জনশৃঙ্খলার ধারাবাহিক অশান্তির মুখোমুখি হওয়ার ফলে পূর্ব রাজ্য সংস্থার দেশীয় রাজ্যগুলোর শাসকেরা একত্রিত হয়ে বর্তমান ছত্তিশগড় রাজ্যের রাজধানী রায়পুরের রাজ কুমার কলেজ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ব রাজ্যসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সঙ্ঘের তথা দেশীয় রাজ্যগুলোর শাসকগণের লক্ষ্য ছিল সবগুলো রাজ্য নিয়ে একটি একক ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা যা ভারতীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি রাষ্ট্র হিসাবে বিদ্যমান থাকার পক্ষে যথেষ্ট বড় হবে, পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং সামরিক বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ভাগ করে নেওয়া হবে।

                                     

1.2. ইতিহাস প্রতিষ্ঠান

পূর্ব রাজ্যসঙ্ঘের একজন প্রিমিয়ার, একজন প্রধান সচিব, একটি যৌথ পুলিশ বাহিনী এবং আপিল আদালত ছিল, তবে এর কোন আইনসভা ছিল না। ইউনিয়ন রায়পুরকে তার রাজধানী হিসাবে বেছে নিয়েছিল এবং কালাহান্দিতে ইন্দ্রবতী নদীর উপর বাঁধ তৈরির কারণটি দ্রুত গ্রহণ করেছিল। তবে মায়ুরভঞ্জ ও বাস্তারের মতো বৃহত্তর কয়েকটি রাজ্যের পাশাপাশি কিছু ছোট রাজ্যও এই সাধারণ প্রচেষ্টায় যোগ না দেওয়ার পক্ষে বেছে নিয়েছিল।

                                     

1.3. ইতিহাস বিলুপ্তি ও উত্তরসূরি রাজ্য

শেষ পর্যন্ত পূর্ব রাজ্য ইউনিয়নের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে হিন্দোল, নীলগিরি, ঢেঙ্কানল এবং তালচরে তীব্র প্রজা মন্ডল আন্দোলনের ফলে ১৯৪৮ সালের গোড়ার দিকে রাজ্য ইউনিয়নটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

যেসব দেশীয় রাজ্য একীভূত হয়ে এই ইউনিয়ন গঠন করেছিল, সেগুলি নতুন প্রতিষ্ঠিত ওড়িশা, বিহার এবং মধ্য প্রদেশ রাজ্যের অংশে পরিণত হয়।

পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসঙ্ঘের বিলুপ্তির ফলে এর অন্তর্ভুক্ত বড়ম্বা, আটগড়, টিগরিয়া, নয়াগড়, রানপুর, সোনাপুর, অথমল্লিক, পাল লাহারা, তালচের, পাটনা, বৌধ, ঢেঙ্কানল, হিন্দোল, দশপাল, নরসিংহপুর, এবং কালাহান্ডি রাজ্য উড়িষ্যার অধুনা ওড়িশা রাজ্য অংশে পরিণত হয়।

খারসওয়ান এবং সরণাইকেলা রাজ্য ১৯৪৮ সালের মে মাসে বিহার রাজ্যে যোগ দেয়।

চাংভাবকরি, কোরিয়া, সুরগুজা, যশপুর, উদয়পুর, রায়গড়, সরনগড়, কাওয়ারধা, খাইরাগড়, নন্দগাও এবং কঙ্কার রাজ্য মধ্য প্রদেশের অংশে পরিণত হয়। ২০০০ সালে মধ্য প্রদেশ ভেঙে ছত্তিশগড় গঠন করা হলে তৎকালীন মধ্য প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রাক্তন দেশীয় রাজ্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত এলাকা্র অধিকাংশই ছত্তিশগড় রাজ্যের অংশে পরিণত হয়।