Back

ⓘ হেডলি কিথ




হেডলি কিথ
                                     

ⓘ হেডলি কিথ

হেডলি জেমস কিথ নাটাল প্রদেশের ডান্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন হেডলি কিথ ।

                                     

1. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম পর্যন্ত হেডলি কিথের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। পিছনের পায়ের উপর ভর রেখে খেলতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিন্দ্যসুন্দর খেলা উপস্থাপন করলেও টেস্ট ক্রিকেটে এ সফলতা অনুপস্থিত ছিল।

১৯২৭ সালে নাটাল প্রদেশের ডান্ডি এলাকায় হেডলি কিথের জন্ম। অক্টোবর, ১৯৫০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। কারি কাপে বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নাটালের সদস্যরূপে ঐ খেলায় বর্ডারের মুখোমুখি হন। ঐ সময়ে নাটালের শক্তিধর ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হন। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে কার্যকর ধীরগতির বামহাতি বোলিংয়ে দলে অবদান রাখতেন।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন হেডলি কিথ। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে ডারবানে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ হয় তার। ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এমসিজি অভিষেক ঘটে তার। অপরাজিত ৪০ রান তুলে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সিরিজে দলকে সমতায় আনেন। এরপূর্বে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে একই মাঠে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। সেখানে চার টেস্টে অংশ নেন। এরপর, পরবর্তী শীতকালে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমনে আসে। এ পর্যায়ে সফরকারী দলের বিপক্ষে প্রথম তিন টেস্টে অংশ নেন। তবে, টেস্ট আঙ্গিনায় আক্রমণের তুলনায় সতর্ক ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস রয়েছে তার। ১৯৫৫ সালের লর্ডস টেস্টে ৫৭ ও দুই বছর বাদে লিডসের হেডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টে ৭৩ রান করেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অতীব সতর্কপন্থা অবলম্বন করে খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে আট টেস্টে অংশ নিলেও বাদ-বাকী খেলাগুলোয় কিঞ্চিৎ ভূমিকা রাখেন।

                                     

3. অবসর

১৯৫৫ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন। নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে নিজস্ব সর্বশেষ তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। সবমিলিয়ে ৭৪টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, ৩৭টি নাটাল দলের পক্ষে ছিল।

১৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ৭০ বছর বয়সে কোয়াজুলু-নাটালের পেনিংটন এলাকায় হেডলি কিথের দেহাবসান ঘটে।