Back

ⓘ হিরোশিমা দিবস




                                     

ⓘ হিরোশিমা দিবস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানকালে জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে ৮০০ কিমি দূরত্বে সমৃদ্ধ শহর হিরোশিমার বুকে প্রথম পরমাণু বোমা-বিস্ফোরণের কঠিন অভিজ্ঞতা স্মরণে উদযাপিত বার্ষিক দিবস হল হিরোশিমা দিবস । বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের শান্তির জন্য স্বতস্ফূর্ত উদযাপনের দিন।

বিশ্বসমরের অন্তিমলগ্নে জার্মানির পতনের পর, মার্কিনি চরমপত্র জাপান অগ্রাহ্য করার ফলস্বরূপ পারমাণবিক বোমার নির্মম আঘাতে তথা বীভৎস মারণযজ্ঞে - মানবিকতার প্রতি এক কলঙ্কিত ঘটনার ইতিহাস রচিত হয়েছিল সেদিন।

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ ই আগস্ট রাত্রির অন্ধকারে গা ঢেকে মার্কিন বি-২৯ সুপার ফোর্টরেস শ্রেণীর বোমারু বিমান এনোলা গে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন সমরঘাঁটি টিনিয়ান দ্বীপ থেকে জাপানের ছোট্ট সমৃদ্ধ শহর হিরোশিমা উদ্দেশ্যে। হিরোশিমা র আকাশে এনোলা গে যখন হাজিরা দিয়েছে তখন ৬ ই আগস্টের নতুন সূর্য উদীয়মান। তরুণ অরুণের সোনালী আলোয় হাসছে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার বাসিন্দার শহর। প্রভাতী কাজের ব্যস্ততা ঘরে ঘরে,পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, শিশুরাও স্কুলের উদ্দেশ্যে রাস্তায়।আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী দুটি মার্কিন বিমান অনুকূল রিপোর্ট দিল এনোলা গে কে। কিন্তু সুদূর নীল আকাশে যে ভয়াবহ অশনি-সংকেত তা তো শহরের বাসিন্দারা জানতো না! এমনকি এনোলা গে বারোজন যাত্রীর মধ্যে পাইলট কর্ণেপল টিবেটস,নেভি ক্যাপ্টেন উইলিয়াম পারসন এবং মেজর টমাস ফেরেবী ভিন্ন অন্যান্যরাও জানতেন না গোপনীয় সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ঘড়িতে কাঁটা সকাল ৮ টা ১১ মিনিটের সময় এনোলা গে হিরোশিমা উপরে এসে ৩১,৬০০ ফুট উপর থেকে নিক্ষিপ্ত করল ২০ হাজার টন টি-এন-টি র দানবিক বোমা । কল্পকথার আগুনমুখো ড্রাগনের মতো সেখান থেকে হিরোশিমার একটি হাসপাতালের প্রায় ১ হাজার নশো ফুট ওপর বিস্ফোরিত হল বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা লিটল বয়। বোমা বর্ষণের ফলাফল ও প্রতিক্রিয়া বিমান হতে ফটোতে গৃহীত হল -

হিরোশিমা শহর যেন অতি তীক্ষ্ম, তীব্র এবং চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। অর্থাৎ শহরটি আকস্মিক তীব্র আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর নিস্তব্ধতা নেমে এল শহরের কেন্দ্রস্থলে। বিস্ফোরনের দ্যুতি থেকে নানা রকমের আলো - নীল, কমলা, বেগুনী ও ধূসর রং বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। নানা আলোয়, উত্তাপে আর ভূমিকম্পের আলোড়নের মত প্রচণ্ড আঘাতে শহরে যা কিছু ছিল এক লহমায় আবর্জনায় পরিণত হল। কালান্তক বোমার বিস্কোরণের ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণনার অতীত ছিল। সেই দৃশ্যে এনোলা গে র একজন বৈমানিকেরও তাৎক্ষনিকের চিৎকার ছিল - মাই গড বা হা ঈশ্বর! ব্যাঙের ছাতার মত আকার নিয়ে নিবিড় ধূম্রজাল ঊর্ধ্বাকাশে উঠতে লাগল।মাটি থেকে হাজার ফুট পর্যন্ত ধূলা বালির ঘূর্ণিঝড় আর শহরের দিকে দিকে আগুন জ্বলতে লাগল। দু-তিন মিনিটের মধ্যে সেই ভয়াবহ ধূম্রজাল ৪০ হাজার ফুট ঊর্ধ্বে উঠে গেল। হিরোশিমা শহর যেন নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল। শহরের ষাট ভাগ অদৃশ্য হয়ে গেল। পাঁচটি বৃহৎ কারখানা নিশ্চিহ্ন হল। হাজার হাজার লোক জানতেই পারলো না তারা কিভাবে মারা গেলেন। অন্তত ঘটনাস্থলেই ৭৮ হাজার লোক সোজাসুজি নিহত হল। দশ হাজার লোক চিরকালের জন্য নিখোঁজ ও প্রায় ৮০ হাজার আহত। সেই সাথে মারাত্মক তেজস্ক্রিয় গামা রশ্মির প্রতিক্রিয়ায় অসংখ্য মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হল। আর সেই তেজস্ক্রিয়তার অভিশাপ থেকে গেল ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও। শহরের চারদিকের ব্যাপক "অগ্নিঝড়ে" হাজার হাজার মানুষ বিভ্রান্ত বিমূঢ় ও ত্রাসগ্রস্ত। আর বিশ্ববাসী হতচকিত। সোজা কথায় হিরোশিমার সেই নারকীয় বীভৎস ও বিপর্যয়কর দৃশ্যের বিবরণ বিশদে দেওয়া সম্ভব নয় কখনো। যদিও মার্কিনিরা কেবল ৬৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করছিল, কিন্তু পঁচিশ বছর পর ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে জাপানিদের তথ্যে প্রকাশ যে, একমাত্র হিরোশিমাতেই দুই লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান সোৎসাহে চিরস্থায়ী শান্তির জয়ধ্বনি তুলে আত্ম সাফাই গাইলেন -

ইতিহাসের এটা সর্ববৃহৎ ব্যাপার। এখন আমাদের ঘরে ফেরার সময় এলো"

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিলের বক্তব্য পটসডাম থেকে প্রচারিত চরমপত্র জাপান অগ্রাহ্য করাতেই হিরোশিমা ও তিনদিন পর নাগাশাকির উপর বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত।

                                     

1. স্মারক

হিরোশিমায় ঠিক যে স্থানের ওপর পারমাণবিক বোমাটি বিস্ফোরিত হয় তার ঠিক কাছেই হিরোশিমা প্রিফেকচারাল শিল্প উন্নয়ন ভবন অবস্থিত ছিল। ভবনের মূল গম্বুজ সহ অধিকাংশ এত বড় আঘাতেও আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত থেকে যায়। জাপানীরা এই বাড়িটিকে এরপর ‘গেনবাকু গম্বুজ’ বা হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ নামে ডাকতে থাকে - যার অর্থ পারমাণবিক গম্বুজ।

১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের কনভেনশনের ভিত্তিতে গেনবাকু গম্বুজকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করে এবং ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতি বহন করে - দিনটি হিরোশিমা দিবস হিসাবে পালিত হয়।

লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনাবসানের গ্লানি আর কালিমাতে রাষ্ট্রনায়কদের রণলিপ্সায় পৃথিবীতে মানব সভ্যতা চরম পর্যায়ে কলঙ্কিত হয়েছে। আর আজো যেন বিচ্ছিন্নভাবে হলেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সেই রণহুঙ্কার ও রণদামামা বেজেই চলেছে।

৬ ই আগস্ট ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের সেই প্রথম পরমাণু বোমা বিস্ফোরণে ভয়াল দিনের কথা স্মরণে রেখে জাপানসহ সারা বিশ্বের মানুষ পালন করেন হিরোশিমা দিবস - বিভিন্ন ভাবনায়। মূল উদ্দেশ্য, লক্ষ লক্ষ মৃত মানুষের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা - "সবার আত্মা শান্তিতে ঘুমাক", আর বিশ্ব শান্তির জন্য গৃহীত ৭ ই সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের শ্লোগান - যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই প্রকৃতই সার্থকতা লাভ করুক এ বিশ্ব।

                                     
  • আপত ত উপস থ পনসহ ব র দ ধ চরণ কর ন ওপ নহ ইম র র মত এ ধরন র ব ম জ প ন র হ র শ ম ও ন গ স ক ত ন ক ষ প ত আণব ক ব ম র ত লন য প র য গ ণ শক ত শ ল য র
  • ক য ত ফ ক ই, গ ফ ম য ওস ক ন র ওয ক য ম ত ত ত র ওক য ম হ র শ ম ত ক শ ম ক গ ওয এব ক ওচ প রশ সন ক অঞ চল ত ব রত র ম ত র ছ ল ক ষয ক ষত

Users also searched:

...