Back

ⓘ মণিবেন প্যাটেল




মণিবেন প্যাটেল
                                     

ⓘ মণিবেন প্যাটেল

মণিবেন প্যাটেল একজন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মী এবং ভারতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় নেতা সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের কন্যা। তিনি বোম্বেতে পড়াশোনা করেন। মণিবেন ১৯১৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং আহমেদাবাদে তার আশ্রমে নিয়মিত কাজ শুরু করেছিলেন।

                                     

1. প্রারম্ভিক জীবন

মণিবেন ১৯০৩ সালের ৩রা এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বাই প্রেসিডেন্সির, কারমাসাদে। ৬ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছিলেন। তাকে তার কাকা ভিট্টলভাই প্যাটেল বড় করেছিলেন। তিনি তার প্রাথমিক পড়াশুনা বোম্বাইয়ের কুইন মেরি হাই স্কুলে থেকে করেছেন। ১৯২০ সালে তিনি আহমেদাবাদে পাড়ি দেন এবং মহাত্মা গান্ধীর দ্বারা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় বিদ্যাপীঠে যোগ দেন। ১৯২৫ সালে স্নাতক শেষ করার পরে মণিবেন তার বাবার সহায়তায় যান।

                                     

2. বোর্সাদ আন্দোলন

১৯২৩-২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারী কর আদায় করে এবং পুনরুদ্ধারের জন্য তারা তাদের গবাদি পশু, জমি, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে থাকে। তার নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য, মণিবেন গান্ধীজি ও সর্দার প্যাটেলের নেতৃত্বে প্রচারে যোগ দেন এবং শুল্কবিহীন আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্য মানুষ কে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

                                     

3. বারদোলি সত্যগ্রহ

১৯২৮সালে বরসাদের মতো কৃষকদের ওপর ব্রিটিশরা অত‍্যাধিক কর আরোপ করেছিলো। মহাত্মা গান্ধী সর্দার বল্লভভাই প‍্যাটেলকে সত‍্যাগ্রহের নেতৃত্ব নিতে নির্দেশ দেন। প্রথমদিকে মহিলারা এই আন্দোলনে যোগ দিতে নারাজ ছিলেন, মিতুবেন পেতিত এবং ভক্তিবা দেশাইয়ের সাথে মণিবেন নারীদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যারা শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনে পুরুষদের চেয়েও অগণিত ছিল। প্রতিবাদের অংশ হিসাবে, তারা সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত জমিগুলিতে ছড়িয়ে পড়া ঝুপড়িগুলিতে অবস্থান করেছিল।

                                     

4. রাজকোট সত্যগ্রহ

১৯৩৮ সালে রাজকোট রাজ্যের দেওয়ানের অন্যায্য শাসনের বিরুদ্ধে একটি সত্যগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কস্তুরবা গান্ধী তার স্বাস্থ্য খারাপ থাকা সত্ত্বেও সত্যগ্রহে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন। মণিবেন তার সাথে ছিলেন। পরে সরকার উভয় মহিলাকে পৃথক করার জন্য একটি আদেশ পাশ করে। মণিবেন এই আদেশের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং কর্তৃপক্ষ তাকে কস্তুরবা গান্ধীর সাথে থাকতে দেয়।

                                     

5. অসহযোগ আন্দোলন

তিনি অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি লবণ সত্যগ্রহে অংশ নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘকাল কারাগারে বন্দী ছিলেন। ১৯৩০ এর দশকে তিনি তার পিতার সহযোগী হয়ে ওঠেন এবং তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের যত্নও নেন। মনিবেনপ্যাটেল ভারতবর্ষের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কারণে, তিনি আবারও ইয়ারওয়াদা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কারাবরণ করেছিলেন। মনিবেন ১৯৫০ সালে বাবার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তার বাবার কাছাকাছি ছিলেন এবং সেবা করেছিলেন। মুম্বাই চলে যাওয়ার পরে, তিনি সারাজীবন অসংখ্য দাতব্য সংস্থার সাথে এবং সর্দার প্যাটেল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের জন্য কাজ করেছিলেন । তিনি তার বাবার স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি বিবরণ লেখেন।

                                     

6. নির্বাচনী ইতিহাস

  • ১৯৫৭: সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে আনন্দ লোকসভা আসন জিতেছে
  • ১৯৬২: আনন্দ লোকসভা আসন থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র দলের নরেন্দ্রসিংহ মাহীদার কাছে হেরে গেছেন
  • ১৯৭৩: কংগ্রেসের শান্তুভাই প্যাটেলকে পরাস্ত করে সাবারকণ্ঠের উপনির্বাচনে জয়ী লোকসভায় প্রবেশ
  • ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০: রাজ্যসভার কংগ্রেস সদস্য
  • ১৯৭৭: সাধারণ নির্বাচনে জনতা পার্টির প্রার্থী হিসাবে মেহসানা লোকসভা আসন জিতেছেন
  • ১৯৫২: সাধারণ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে সাধারণ কায়রা লোকসভা আসন জিতেছেন
                                     

7. সহ-সভাপতি

মণিবেন ভাল্লাভাই প্যাটেল একসময় গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে, তিনি দক্ষিণ কায়রা আসন থেকে প্রথম লোকসভার ১৯৫২-–৫৭ নেহেরুর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, আনন্দ থেকে দ্বিতীয় লোকসভায় ১৯৫৭–-–৬২। তিনি সেক্রেটারি ১৯৫৩ -৫৬ এবং গুজরাট রাজ্য কংগ্রেসের সহসভাপতি ১৯৫৭–৬৪ ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিলেন। তিনি কংগ্রেস পার্টি ছেড়ে চলে যাওয়ার সঠিক বছর সম্পর্কে তথ্যের অভাব রয়েছে, তবে ১৯ ৭০এর দশকের গোড়ার দিকে তিনি স্বাধীনতা পার্টি বা এনসিও কংগ্রেস-ও তে যোগদান করেছিলেন; ১৯ ৬৭-১৯৭১ সালে স্বতন্ত্র পার্টি এবং এনসিও প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের কংগ্রেস গ্রুপ গুজরাটে শক্তিশালী ছিল। তিনি একাত্তরের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেননি। সবরকান্থ থেকে বাই-পোলে নির্বাচিত হয়ে তিনি ১৯৭০সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। সংকীর্ণ মার্জিন দ্বারা কংগ্রেসের শন্তুভাই প‍্যাটেল পরাজিত হন।

১৯৯৭৭ সালে জনতা পার্টির টিকিটে তিনি মেহসানা থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯০ সালে মৃত্যুর আগে তিনি গুজরাট বিদ্যাপীঠ, বল্লভ বিদীনগর, বরদোলি স্বরাজ আশ্রম ও নবজীভা ট্রাস্ট সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন।

২০১১ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নবজীবন পাবলিকেশনের সহযোগিতায় তার গুজরাটি ডায়েরি প্রকাশের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল।



                                     
  • এই দম পত র দ ট সন ত ন হয একজন হল ন মণ ব ন প য ট ল - ন ম এক ম য এব এক ছ ল দহ য ভ ই প য ট ল - সর দ র প য ট ল র কন য ছ ল ন

Users also searched:

...