Back

ⓘ শান্টার কোয়েন




                                     

ⓘ শান্টার কোয়েন

স্ট্যানলি কেপেল শান্টার কোয়েন অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের হেইলব্রন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২৭ থেকে ১৯২৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডার, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন শান্টার কোয়েন ।

                                     

1. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত শান্টার কোয়েনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

ডানহাতে মাঝারিসারিতে কিংবা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতেন শান্টার কোয়েন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতি বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সুদীর্ঘকাল দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া ক্রিকেটে পদচারণ করেছেন। তবে, কেবলমাত্র দুই মৌসুমেই সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ১৯২০-এর দশক জুড়ে তিনি অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে দলটি দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম দূর্বল দল হিসেবে পরিচিত ছিল। নিজস্ব প্রথম তিন মৌসুমে দলে খুব কমই অবদান রাখতে পেরেছিলেন। তবে, ১৯২৪-২৫ মৌসুমে তারচেয়েও দূর্বলতর দল গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে ৬০ রানের ইনিংস খেলতে সক্ষম হন।

এরপর ঐ মৌসুমে আরেকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১০৩ রান তুলেন। দক্ষিণ আফ্রিকান উদ্যোক্তা এস. বি. জোয়েলের ব্যবস্থাপনায় অনানুষ্ঠানিক সফরে ইংল্যান্ডের টেস্ট ও কাউন্টি খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন।

১৯২৫-২৬ মৌসুমে তার খেলায় ভারসাম্য ছিল না। তবে, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আকস্মিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে তার উত্থান ঘটে। ৭৩.৭০ গড়ে ৭৩৭ রান তুলেন ও পূর্বকার মৌসুমগুলোয় কোন উইকেট না পেলেও এ মৌসুমে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। শুধুমাত্র দূর্বল দলগুলোর বিপক্ষেই তিনি এ সফলতা পাননি। বরঞ্চ ট্রান্সভালের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪/৯২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তবে, ৫৫৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত হয় তার দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রান তুললেও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট দল ১১১ রানে পরাজয়বরণ করেছিল। ব্লুমফন্তেইনে পরের খেলায় নাটালের বিপক্ষে ইনিংস উদ্বোধনের জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৬৫ রান তুলেন তিনি। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মিক কোমেইলের সাথে ৩০৫ রান তুলেন। তবে, নাটালের প্রথম উইকেট জুটিতে ৪২৪ রানের কারণে তা ম্লান হয়ে গেলেও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে অদ্যাবধি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়ে রয়েছে। পরের খেলায় আরও ভালো খেলা উপহারে সচেষ্ট হন। ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৭ রান করেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও মিক কোমাইলের সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রথম উইকেটে ২৩৬ রান করেন। তিনি ১৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। এটিও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে রেকর্ডরূপে টিকে রয়েছে। ঐ খেলায় তার দল জয়লাভ করেছিল।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন শান্টার কোয়েন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯২৭-২৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমনে আসে। সফররত দলের বিপক্ষে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের সদস্যরূপে তিনি খেলেন। তবে, খেলায় ব্যর্থ হলেও তাকে টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রথম টেস্টের পূর্বে সফররত দলের সদস্যরূপেও একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এ পর্যায়ে এমসিসি দলের একজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে, শূন্যতা পূরণে দুইদিনের খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলেছিলেন। একমাত্র ইনিংসে তিনি মাত্র তিন রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন।

প্রথম টেস্টটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যে সুখকর ছিল না। ১০ উইকেটে পরাজিত হয় তার দল। খেলা চলাকালে তিনি পায়ের গোড়ালীতে আঘাত পান। খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন কি-না সন্দেহ ছিল। তাসত্ত্বেও প্রথম ইনিংসে ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি সাত রান তুলেন। কেবলমাত্র দুই ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। কিন্তু কোন উইকেট পাননি। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। এ পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ৭৮/৮ ছিল। ইনিংস পরাজয় এড়াতে তখনো ৩৯ রান দূরে থাকা অবস্থায় নবম উইকেটে সিরিল ভিনসেন্টের সাথে ৮০ রান যুক্ত করেন। ঐ সময়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ সংগ্রহটি রেকর্ডসংখ্যক ছিল। ইনিংস শেষ হলে তিনি ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক রনি স্ট্যানিফোর্থ এ জুটিতে ভাঙ্গন ধরাতে গ্রিভিল স্টিভেন্স, ওয়ালি হ্যামন্ড, ইয়ান পিবলস, জর্জ গিয়েরি ও ইউয়ার্ট অ্যাস্টিলকে ব্যবহার করেন। তারা যথাসম্ভব চেষ্টা চালান ও হাল্কা বলগুলো থেকে রান সংগ্রহ করতে কার্পণ্য করেননি।

আঘাতের কারণে পরের খেলায় অংশ নিতে পারেননি ও সিরিজের চূড়ান্ত খেলার পূর্ব-পর্যন্ত তাকে আর খেলানো হয়নি। শেষ খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ও রাবারে সমতা আনে। ঐ খেলায় হার্বি টেলরের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ২৮ ও পরের ইনিংসে অপরাজিত ২৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল মাত্র ৬৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় ও আট উইকেটে জয়লাভে সমর্থ হয়। টেস্ট সিরিজের চার ইনিংসে দুইটিতে অপরাজিত থাকার ফলে এ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকানদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থানে থাকেন ও ৫০.৫০ গড়ে রান তোলার ফলে নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের চেয়েও অধিক হয়ে যায়। সর্বোচ্চ করেছিলেন অপরাজিত ৪১।

                                     

3. দলে প্রত্যাখ্যান

দূর্দান্তভাবে যাত্রা শুরুপর ক্রিকেটবোদ্ধারা তার মাঝে দীর্ঘ টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে, ১৯২৮-২৯ মৌসুমেই তার ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। ছয় ইনিংসে মাত্র মাত্র ৬৪ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরফলে, ১৯২৯ সালে তাকে ইংল্যান্ড গমনার্থে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে কোন খেলায় অংশগ্রহণ করেননি। এরপর, ১৯৩০-৩১ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ঐ পর্যায়ে তিনি বেশ কম সফল হন ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পরবর্তী সফরের জন্যে তাকে বিবেচনায় আনা হয়নি। তবে, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরকালে কোয়েন তার দ্বিতীয় মৌসুমে ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। ৬৩.০০ গড়ে ৬৩০ রান তুলেছিলেন। এ মৌসুমে ট্রান্সভালের বিপক্ষে ১৭৩ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। এটিই তার খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা সংগ্রহ ছিল।

১৯৩১-৩২ মৌসুম শেষে দল ত্যাগ করে ট্রান্সভালে চলে যান। তবে, শুরুর দিকের সুন্দর ক্রীড়াশৈলীর পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। পরবর্তী চার মৌসুমে নয়টি খেলায় অংশ নিয়েছেন ও মাত্র দুইটি খেলায় পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলতে পেরেছিলেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে আবারও দল ত্যাগ করেন। বর্ডারের পক্ষে তিন খেলায় অংশ নেয়াপর ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে ৬৪ বছর বয়সে ডারবানের ওয়েস্টরিজ এলাকায় শান্টার কোয়েনের দেহাবসান ঘটে।



                                     

4. আরও দেখুন

  • সাইভার্ট স্যামুয়েলসন
  • ফ্রেড সাসকিন্ড
  • প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট দলসমূহের বর্তমান তালিকা
  • দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী পরিবারের তালিকা
                                     
  • দল র শ র ষস থ ন য ন য ম ত খ ল য ড ছ ল ন তব দ ই খ ল য অ শ ন য শ ন ট র ক য ন দ ইব র অপর জ ত থ ক ত র চ য ভ ল গড র অধ ক র হন - ম স ম
  • র ন ত ল ন এ পর য য দ ব ত য উইক ট জ ট ত শ ন ট র ক য ন র স থ র ন ত ল ন এস. ক ক য ন কর ন র ন অদ য বধ ফ র স ট ট র প রথম - শ র ণ র
  • জক ক য ম রন - - - - - - শ ন ট র ক য ন - - - - - জ য ক ব স ড ম ন

Users also searched:

...