Back

ⓘ লিউচৌ




লিউচৌ
                                     

ⓘ লিউচৌ

লিউচৌ দক্ষিণ চীনের কুয়াংশি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উত্তর-মধ্যভাগে অবস্থিত একটি নগরী। অতীতে মাফিং নামে পরিচিত এই নগরীটি অঞ্চলটির ২য় বৃহত্তম নগরী। এটি অঞ্চলের রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী নাননিং থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। লিউচৌ নগরীটি অনেকগুলি উপনদীর সঙ্গমস্থলে লিউ নদীর উৎপত্তিস্থলে অবস্থিত বলে স্বাভাবিকভাবেই একটি নৌযোগাযোগ কেন্দ্র। এখান থেকে লিউ নদীটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে শি নদীর একটি উপনদীতে পতিত হয়েছে। বর্তমানে লিউচৌ নগরীটি একটি মহাসড়কব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি রেলপথে উত্তরে হুনান প্রদেশের হুয়াইহুয়া ও চাংচিয়াচিয়ে শহর, উত্তর-পূর্বে হুনান প্রদেশের কুয়েইলিন ও হেংইয়াং নগরী, উত্তর-পশ্চিমে কুয়েইচৌ প্রদেশের কুয়েই ইয়াং, দক্ষিণ-পশ্চিমে নান্নিং ও ভিয়েতনামীয় সীমান্তে অবস্থিত ফিংশিয়াং এবং দক্ষিণ-পূর্বে কুয়াংতুং প্রদেশের চানচিয়াং বন্দরের সাথে সংযুক্ত। চারটি পৌরজেলা নিয়ে গঠিত লিউচৌ পৌর এলাকার আয়তন ১৮,৭৭৭ বর্গকিলোমিটার। মূল শহরে ৩৭ লক্ষের বেশি এবং বৃহত্তর পৌর এলাকাত ১ কোটি ৪৩ লক্ষের বেশি অধিবাসী বাস করে। শহরের জলবায়ু আর্দ্র উপক্রান্তীয় প্রকৃতির। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ ও আর্দ্র এবং শীতকাল স্বল্পস্থায়ী ও মৃদু।

ঐতিহাসিকভাবে এলাকাটি অ-হান জাতির লোকের দ্বারা অধ্যুষিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতকে এখানে থানচুং নামের একটি উপজেলা বা কাউন্টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৫৯১ সালে এর নাম বদলে মাফিং রাখা হয়। থাং রাজবংশের শাসনামলে ৭ম ও ৮ম শতক এটি একটি জেলা সদর শহরে পরিণত হয়। ১৩৬৮ সালে এটি অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর একটি জেলা লিউচৌয়ের সদরে পরিণত হয়। তবে মিং রাজবংশের শাসনামলের ১৩৬৮-১৬৪৪ সিংহভাগ সময় ধরেই এটি মূলত একটি সীমান্তবর্তী সেনাঘাঁটি ও বাণিজ্যকুঠি হিসেবেই কাজ করত, এবং এখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদেরকে নির্বাসনে পাঠানো হত। কেবল ১৭শ শতকে এসে হান চীনা জাতির লোকেরা এখানে সংখ্যায় ভারী হয়ে উঠতে শুরু করে।

ঐতিহ্যগতভাবে লিউচৌ কৃষিজাত দ্রব্য, কাঠ, শাকসব্জি ও থুং তেলের সংগ্রহ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে। এই দ্রব্যগুলি উত্তর-মধ্য কুয়াংশি ও দক্ষিণ কুয়েইচৌ থেকে এখানে প্রেরণ করা হয়। এখানে স্থানীয় দ্রব্যের হস্ত ও কুটির শিল্পও বিদ্যমান। শবাধার বা কফিন নির্মাণ, কাগজ উৎপাদন, তামাক সংরক্ষণ, বস্ত্র উৎপাদন, ইত্যাদির জন্যও শহরটি বিশেষ খ্যাত। এছাড়া এখানে ভোজ্য তেল নিষ্কাশন ও শস্যদানা চূর্ণকরণের কারখানা আছে।

১৯৪৯ সালেপর থেকে লিউচৌতে শিল্পখাতের বিস্তার ও বৈচিত্র্যায়ন ঘটেছে। লিউচৌ কুয়াংশি অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাষ্ঠদ্রব্য প্রস্তুত, রাসায়নিক দ্রব্য গন্ধক ও অ্যালকোহল নিষ্কাশন ও প্রস্তুত, কৃষি যন্ত্রপাতি, পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিন প্রস্তুত, রেলইঞ্জিন মেরামত, লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন, ট্রাকটর নির্মাণ, সার প্রস্তুত, সিমেন্ট প্রস্তুত, ইত্যাদির শিল্পকারখানা এখানে অবস্থিত। এখানে অনেকগুলি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। সাম্প্রতিককালে এখানে মোটরগাড়ি নির্মাণ, বস্ত্র উৎপাদন, নির্মাণ সামগ্রী ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি উৎপাদন, অলৌহ ধাতুর প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইত্যাদির কারখানা স্থাপিত হয়েছে।

                                     
  • ওয ইফ হ য ই - আন স ব শ ওশ ইয নথ ই হ য ইচ ল ও - ইয ন নথ প ওথ ল উচ চ ন র র জধ ন নগর সম হ র ত ল ক চ ন র শহর ও নগর র ত ল ক চ ন র প র এল ক সম হ র

Users also searched:

...