Back

ⓘ পাওথৌ




পাওথৌ
                                     

ⓘ পাওথৌ

পাওথৌ উত্তর চীনের অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল নগরী। এই জেলা-স্তরের পৌরসভাটি হুয়াং হো নদীর উত্তরীয় মহাবাঁক অংশে নদীটির উত্তর তীরে অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী হোহ্‌-হত নগরী থেকে ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। মূল পাওথৌ নগরীতে ২০ লক্ষ এবং এর বৃহত্তর প্রশাসনিক অঞ্চলে ২৬ লক্ষের বেশি লোকের বাস। "পাওথৌ" কথাটির অর্থ "হরিণের শহর"। এছাড়া এটিকে "গোবি মরুভূমির ইস্পাত নগরী" নামেও ডাকা হয়।

৭ম থেকে ১০ম শতকের মধ্যে থাং রাজবংশের শাসনামলে এই এলাকায় একটি বসতি ও সেনাছাউনি স্থাপিত হয়। এরপরে মঙ্গোল জাতির লোকেরা এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ১৮শ শতকের শুরু পর্যন্তও এটি একটি ছোট গ্রাম ছিল। ছিং রাজবংশের শাসনামলে ১৮শ শতকের শেষ দিকে এটি ধীরে ধীরে বাজার শহরে পরিণত হয়। ১৯২৩ সালে চীনের জাতীয় রাজধানী বেইজিং থেকে পাওথৌ পর্যন্ত রেলসংযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে শহরটি অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ১৯২৫ সালে এটিকে একটি প্রশাসনিক উপজেলা বা কাউন্টির মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর শহরটি দ্রুত মঙ্গোলিয়া ও উত্তর-পশ্চিম চীনের সাথে বাণিজ্যের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি জাপানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং জাপানিরা শহরের কাছেই কয়লা ও অন্যান্য খনিজের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার আবিষ্কার করে।

১৯৪৯-এর পরে বেইজিংয়ের সাথ রেলসংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। সেসময় এখানে মাত্র ১ লক্ষ লোকের বাস ছিল। চীনা সরকার এটিকে একটি শিল্পনগরীতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উত্তরের পাইয়ান ওপো এলাকার লৌহ আকরিক, পূর্বের শিকুয়াই অঞ্চলের তাছিং পর্বতমালা সংলগ্ন স্থানের কোক কয়লা এবং স্থানীয় চুনাপাথরের সুবাদে ১৯৬০-এর দশকে এসে পাওথৌ একটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রে পরিণত হয়। এখানে চীনের সেনাবাহিনীর জন্য লোহার ট্যাংক প্রস্তুত করা হত। এরপরে শহরটি কেবল অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়া বা উত্তর চীন নয়, বরং সমস্ত চীনের একটি প্রধান শিল্পনগরীতে পরিণত হয়। ১৯৯০-এর দশকে এখানে উচ্চ প্রযুক্তি শিল্প-উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য ও ইলেকট্রনীয় সামগ্রী শিল্পোৎপাদনের কারখানা আছে। মঙ্গোলীয় জাতির লোকেরা পাওথৌ নগরীর বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গঠন করেছে।

ইস্পাতের পাশাপাশি পাওথৌতে বিরল মৃত্তিকা ধাতু পরিশোধন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিরল ধাতুর দুই-তৃতীয়াংশই পাওথৌ শহরে পরিশোধন করা হয়। এই বিরল মৃত্তিকা ধাতুগুলি নিওডিমিয়াম ও সিরিয়াম অত্যাধুনিক জীবনের সর্বত্র বিরাজমান: বায়ুকলের চুম্বক, বৈদ্যুতিক মোটরগাড়ির ইঞ্জিন, স্মার্টফোন ও সমতল পর্দার টেলিভিশনের পর্দা ও ইলেকট্রনীয় বর্তনী, কানের ইয়ারফোন ও কম্পিউটার হার্ড ডিস্কের চুম্বক, সর্বত্রই এগুলি ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের আধুনিকতম তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রগুলির বিরল কাঁচামাল আক্ষরিক অর্থেই পাওথৌ থেকে আসে। তবে এই পরিশোধন প্রক্রিয়াটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, মাটির সাথে বিপুল পরিমাণে অম্ল বা অ্যাসিড চালনা করে এই ধাতুগুলিকে পৃথক করা হয়। বেশিরভাগ দেশই এই বিপজ্জনক কাজ করতে আগ্রহী না হলেও চীন সারা বিশ্বের পুঁজিবাদী প্রযুক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রয়োজনে এই কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে পাওথৌ শহর থেকে ৭৫ মাইল দূরে অত্যন্ত বিষাক্ত বর্জ্যের একটি বিশালাকার হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা সারা পৃথিবীর মানুষের উচ্চ ইলেকট্রনীয় প্রযুক্তির জন্য তৃষ্ণার কারণে সৃষ্ট এক দুঃখজনক পরিবেশ বিপর্যয়।

                                     
  • হ নত ন ওয ইফ হ য ই - আন স ব শ ওশ ইয নথ ই হ য ইচ ল ও - ইয ন নথ প ওথ ল উচ চ ন র র জধ ন নগর সম হ র ত ল ক চ ন র শহর ও নগর র ত ল ক চ ন র প র

Users also searched:

...