Back

ⓘ ২০১৮ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের আয়ারল্যান্ড সফর




২০১৮ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের আয়ারল্যান্ড সফর
                                     

ⓘ ২০১৮ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের আয়ারল্যান্ড সফর

পাকিস্তান ক্রিকেট দল মে, ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ড সফর করে। এ সফরে দলটি আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জুন, ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে টেস্ট মর্যাদা লাভেপর আয়ারল্যান্ডের পুরুষ দলের এটিই প্রথম টেস্ট খেলা ছিল। এরপূর্বে জুলাই, ২০০০ সালে আয়ারল্যান্ড মহিলা দল পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

পূর্ব-নির্ধারিত ঐ টেস্টে পাকিস্তান দল পাঁচ উইকেটে জয়লাভ করে। তবে, আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়েন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তিনি টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। পরাজিত হওয়া স্বত্ত্বেও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ খেলার সফলতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ খেলায় আয়ারল্যান্ডের ক্রীড়াশৈলীতে যথেষ্ট আনন্দিত হন।

                                     

1. প্রেক্ষাপট

জুলাই, ২০০০ সালে ডাবলিনের কলেজ পার্কে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের মহিলা দল একে-অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ঐ খেলায় আইরিশ মহিলারা ইনিংস ও ৫৪ রানে জয়লাভ করে। ইসোবেল জয়েস ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এটিই আয়ারল্যান্ড মহিলা দলের প্রথম টেস্ট খেলা ছিল।

২২ জুন, ২০১৭ তারিখে আইসিসি’র বার্ষিক সাধার সভায় আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের পুরুষ দলকে টেস্ট মর্যাদা প্রদান করে পূর্ণাঙ্গ সদস্যে রূপান্তরিত করা হয়। অক্টোবর, ২০১৭ সালে অকল্যান্ডে আইসিসি’র সভায় আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার একটি টেস্ট আয়োজনের কথা ঘোষণা করা হয়। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড অক্টোবর, ২০১৭ সালে তাদের পরিচালনা পরিষদের সভায় টেস্ট খেলার তারিখ নির্ধারণ করে। পরের মাসে মালাহাইডের দ্য ভিলেজে খেলা আয়োজনের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়। এ খেলাটি ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আই সিরিজে অংশগ্রহণের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়।

ঐ খেলায় আইসিসি কর্তৃপক্ষ তিনজন ইংরেজ কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দেয়। রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও নাইজেল লং মাঠে আম্পায়ার হিসেবে এবং ক্রিস ব্রড ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। এ টেস্টে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পদ্ধতি ডিআরএস ব্যবহার করা হয়নি। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ বহনে সম্মতিজ্ঞাপন করেনি।

ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সিইও ওয়ারেন ডিউট্রম মন্তব্য করেন যে, নিজ দেশে আয়ারল্যান্ডের অভিষেক টেস্ট আয়োজনের ফলে তিনি বেশ উৎফুল্ল। আয়ারল্যান্ডের প্রথম টেস্ট প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে পিসিবি ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরমেন্স পরিচালক রিচার্ড হোল্ডসওয়ার্থ মন্তব্য করেন যে, দেশের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বিরাজমান সত্ত্বেও পাকিস্তানের মাটিতে ফিরতি খেলায় আয়ারল্যান্ড অংশ নিতে প্রস্তুত। ডিউট্রম পরবর্তীতে নিশ্চিত করেন যে, পিসিবি’র অনুরোধে পাকিস্তানের সফরটি পিছিয়ে নেয়া হয়।

এ টেস্ট খেলা আয়োজনের পূর্বে এপ্রিল, ২০১৮ সালে করাচীতে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ তিনটি টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে পাকিস্তান দল তাদের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিয়েছিল। পাকিস্তান দল ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর, ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেয়। তবে, শ্রীলঙ্কা দল উভয় খেলায় জয়ী হয়েছিল।

মার্চ, ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে আয়ারল্যান্ড দল ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল। দশ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ঐ প্রতিযোগিতায় দলটি পঞ্চম স্থান অধিকার করে। ফলে তারা ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায়।

টেস্ট খেলা শুরুর পূর্বে আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড মন্তব্য করেন যে, স্থানীয় পরিবেশ তার দলকে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি মন্তব্য করেন যে, উপমহাদেশের দলগুলো এখানের পরিবেশের সাথে খাঁপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ মন্তব্য করেন যে, তার দল প্রকৃত অর্থেই প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অধীরভাবে অপেক্ষা করছে। যে-কোন কঠিন পরিস্থিতিতেও তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি ভাল করবে বলে তার বিশ্বাস রয়েছে। এরপর সরফরাজ বলেন যে, আমাকে ও আমার দলকে এই ঐতিহাসিক টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় সম্মানিত বোধ করছি এবং আমার দল খেলার জন্যে প্রস্তুত।

খেলা শুরুর পূর্বদিন পোর্টারফিল্ড সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন যে, অনেক লোক তাদের জীবদ্দশায় এ টেস্টের বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন ও বিশেষভাবে এটি হতে চলেছে।