Back

ⓘ গর্ডন লেগাট




                                     

ⓘ গর্ডন লেগাট

জন গর্ডন লেগাট ওয়েলিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন গর্ডন লেগাট । দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

                                     

1. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

২৭ মে, ১৯২৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী গর্ডন লেগাট ক্রাইস্টচার্চ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইনজীবি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত ক্যান্টারবারি দলের পক্ষে খেলেছিলেন।

ক্যান্টারবারির পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত গর্ডন লেগাটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। বিখ্যান নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেট লেখক ডিক ব্রিটেনডেন লেগাট সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, ইনিংস উদ্বোধনে একনিষ্ঠ মনোযোগ, অসাধারণ সহনশীলতা ও উচ্চমানের ক্রিকেট গুণাবলী নিয়ে তিনি ক্রিকেট খেলতেন। তিনি সাড়ে চৌদ্দ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে ২৯০ রান তুলেছেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ক্যান্টারবারির পক্ষে প্রথম তিন ইনিংসে ১১০, ১৪ ও ১৬৬ রান তুলে ঐ ২৯০ রান সংগ্রহ করেন।

১৯৫৪ সালে নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন গর্ডন লেগাট। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এরপর, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ভারত ও পাকিস্তানে যান। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে অকল্যান্ডে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিউজিল্যান্ড গমনে আসে। নিজস্ব প্রথম টেস্টে তিনি রান সংগ্রহ করতে পারেননি। তবে, পরের মৌসুমে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের বিপক্ষে শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তোলেন। বেশ কয়েক ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ২২ ও ৪৭ রান তুলতে সমর্থ হন। ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে তার ঐ ৪৭ রান ১৯০ মিনিটে সংগৃহীত হয় ও দলের সর্বোচ্চ রান ছিল।

                                     

3. অস্ট্রেলিয়া গমন

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হননি। এ পর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত ওজনের কারণে অন্য কয়েকজনের সাথে এ সাজা পেতে হয়েছিল। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফেরার পথে অস্ট্রেলিয়া গমন করলে তাকে সেখানে পাঠানো হয়। তাকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঐ সফরে রাজ্য দলগুলোর বিপক্ষে ৪৫, ৬৭, ৬১, অপরাজিত ১২১, ১১ ও ৩৪ রান তুলেন। তন্মধ্যে, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আড়াই ঘণ্টায় ২২৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অপরাজিত ১২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও দলকে জয় এনে দেন।

১৯৫৫ সালে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ড টেস্টে মাত্র ২৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলীয়ে ইনিংসে অংশ নিয়েছিলেন। এরপূর্বে সফররত দলটির বিপক্ষে ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে ৯৯ রানের ইনিংস সংগ্রহ করে রান আউটের কবলে পড়েন। সর্বশেষ টেস্ট ইনিংসে ৬১ রান তুলেন। এটিই তার অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোয় সর্বোচ্চ ছিল। সব মিলিয়ে ২১.৯৩ গড়ে ৩৫১ রান তুলেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ভারত ও পাকিস্তান গমন করেন। এ সফরে ৩৪.৩১ গড়ে ৬৫২ রান তুলে রান সংগ্রহ ও গড়ের দিক দিয়ে বার্ট সাটক্লিফ ও জে. আর. রিডেপর তৃতীয় স্থান দখল করেন। ঐ সফরে চারটি টেস্টে অংশ নেন। নতুন দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মাঠে ৩৭ ও অপরাজিত ৫০ রান এবং মাদ্রাজের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ৩১ ও ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ৬১ রান তার খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে পরবর্তীতে বিবেচিত হয়। ঐ মৌসুমের শেষদিকে ডুনেডিনের কারিসব্রুকে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ৩ ও ১৭ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম উইকেটে বার্ট সাটক্লিফের সাথে জুটি গড়ে ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ টেস্টের মাধ্যমেই তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।



                                     

4. প্রশাসনে অংশগ্রহণ

পেশাগত জীবনে ব্যারিস্টার ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণেপর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে টেস্ট দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সাল থেকে আমৃত্যু নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতিত্ব করেন। সাত বছর এ দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র ছয় দিন পূর্বে ইংল্যান্ড গমনার্থে পনের সদস্যের নিউজিল্যান্ডীয় দল গঠন করেছিলেন তিনি।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন ও সফরটি স্বার্থকরূপ ধারণ করে। এ সফরেই নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো বিদেশে টেস্ট জয়ের স্বাদ আস্বাদন করে। গুরুত্বহীন খেলায় অংশ নিয়ে ৯১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৯ মার্চ, ১৯৭৩ তারিখে আকস্মিকভাবে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় গর্ডন লেগাটের দেহাবসান ঘটে। তার কাকাতো ভাই ইয়ান লেগাট নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১৯৫৪ সালে একটি টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

                                     

5. আরও দেখুন

  • নিউজিল্যান্ডীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট দলসমূহের বর্তমান তালিকা
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী পরিবারের তালিকা
  • লেন বাটারফিল্ড
  • অ্যালেক্স মইর