Back

ⓘ সলাতুত তাসবীহ




                                     

ⓘ সলাতুত তাসবীহ

চার রাকআত নফল নামায যার প্রত্যেক রাকআতে سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ لِلهِ، وَلَا إِلهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ ৭৫ বার এবং সর্বমোট ৪ রাকআতে ৩০০ বার এই তাসবীহ পাঠ করা হয়, এই নামাযকে সলাতুত তাসবীহ বলে। এই নামাযের নামকরণ করার কারণ হলো- এই নামাযে অধিক সংখ্যক তাসবীহ পাঠ করা হয়। উপরোল্লিখিত তাসবীহ হাদীসে পাওয়া যায়। অন্য এক রেওয়ায়েতে এই শব্দগুলোর থেকে আরো কিছু শব্দ বেশি পাওয়া যায় তাহলো- ولا حول ولا قوة إلا بالله

                                     

1. শুদ্ধতা

সলাতুত তাসবীহ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ‍আহলে ইলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। উলামাদের এক দল এ হাদীছকে যয়ীফ বা দুর্বল বলেছেন। যাদের মধ্যে ইবনুল আরাবী, নববী শরহুল মুহাযযাবের মধ্যে, ইবনে কাইয়িম আল-জাওযী, ইবনে আবদ আল-হাদী, মাজি, ইবনে হাজার আসক্বালানী তালখীসের মধ্যে এবং ইবনে কাইয়িম আল-জাওযী মাওযুআতের মধ্যে গণনা করেছেনi তিনি বলেন রাবীদের মধ্যে মুসা ইবনে আব্দুল আজিজ হলো মাজহুল। তবে অন্যান্য উলামায়ে কেরাম হাদীসটিকে সহীহ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মধ্যে মধ্যে আবু বকর আজিরি, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম মিসরি, আবুল হাসান মাকদাসী, আবু দাউদ, মুসলিম, সালাহউদ্দিন আ’লায়ী, খতিব, ইবনে সালাহ, সাবকি, সিরাজউদ্দীন বালকিনি, ইবনে মিনদা, হাকিম, মানযারী, আবু মুসা মাদিনী, জারকাশি ও নওয়াবী তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাতের মধ্যে, আবু সামআনী, ইবনে হাজার আসক্বালানী ফিল খিছালিল মুকফিরাহ এবং আমালিয়াল আযকারে মধ্যে, আবু মনসুর দাইলামী, বায়হাকী, দারাকুতনী এবং অন্যান্য পণ্ডিতগণ সহীহ বা হাসান হওয়ার মতামত দিয়েছেন।

সলাতুত তাসবীহ সুন্নাত হওয়া শক্তিশালী দলীল দ্বারা সাব্যস্ত। ইবনে আব্বাসের হাদীস যয়ীফ নয় বরং হাসান পর্যায়ের চেয়ে কম নয়। অন্যান্য দিকে খেয়াল করলে এই হাদীসটি সহীহ লি গয়রিহী সাব্যস্থ হয়।

                                     

2. হুকুম

সলাতুত তাসবীহ অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরামের নিকট নফল। যে প্রতিদিন পড়তে পারে সে যেন প্রতিদিন পড়ে অথবা সপ্তাহে একবার পড়ে অথবা মাসে একবার পড়ে, বা বছরে একবার পড়ে বা কমপক্ষে জীবনে যেন একবার পড়ে।

অনেক উলামায়ে কেরাম এই নামাযকে মুস্তাহাব বলেছেন।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের দুটি বক্তব্য রয়েছে- এক বক্তব্য অনুসারে এটি মুস্তাহাবও নয়, কেননা এটা হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত নয়।

জমহুর মুহাককীকিনদের নিকট সলাতুত তাসবীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত।

                                     

3. সলাতুত তাসবীহ কীভাবে পড়বেন

চার রাকআত নামাযের নিয়ত করে হাত বেঁধে, সানা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, কেরাতেপর রুকুর পূর্বে سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلهِ وَلَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ ১৫ বার পড়ে রুকুতে যাবে। রুকুর মধ্যে তিনবার سبحان ربي العظيم বলে ১০বার এই তাসবীহ পাঠ করবে, তারপর রুকু থেকে ‍উঠে ‘ربنا لک الحمد’ বলাপর দাড়িয়ে উক্ত তাসবীহ ১০ বার, তারপর সেজদায় গিয়ে سبحان ربی الاعلی বলাপর ১০ তাসবীহ, সেজদা থেকে উঠে দুই সেজদার মাঝখানে বসে ১০ বার। তারপর দ্বিতীয় সেজদায় অনুরূপ ১০ বার, তারপর দ্বিতীয় সেজদা থেকে আল্লাহু আকবার বলে উঠে তাসবীহ ১০ বার পড়বে। এই হল ১ রাকআতে ৭৫ বার ।এরপর আল্লাহু আকবার বলা ব্যতীতই দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠবে এবং এইরূপে দ্বিতীয় রাকআত পড়বে। যখন দ্বিতীয় রাকআতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য বসবে, তখন আগে উক্ত তাসবীহ ১০ বার পড়বে তারপর আত্যাহিয়্যাতু পড়বে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাকআতের জন্য উঠবে। অতঃপর তৃতীয় রাকআত ও চতুর্থ রাকআতেও উক্ত নিয়মে উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে।

কোন এক স্থানে উক্ত তাসবীহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম থেকে গেলে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নিবে। আর এই নামাযে কোন কারণে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সেজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে না। তাসবীহের সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙ্গুলে গণনা করা যাবে না তবে আঙ্গুল চেপে চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।

এই পদ্ধতিটি আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন।

বি. দ্র. সালাতুত পড়াআর একটি নিয়ম রয়েছে। তবে উপরোল্লিখিত নিয়মটি উত্তম।

দ্বিতীয় নিয়মে যদি কেউ পড়তে চায়, তাহলে নিয়ত বাধাপর প্রথম রাকআতে ছানা পাঠ করাপর উক্ত তাসবীহটি ১৫ বার এবং সূরা কেরাত শেষ করে রুকুর পূর্বে ১০ বার পড়বে। তারপর রুকুতে, রুকু থেকে খাড়া হয়ে, প্রথম সেজদায়, দুই সেজদার মাঝখানে এবং দ্বিতীয় সেজদায় পূর্বের নিয়মে ১০ বার করে পড়বে। এ নিয়মে দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠে বসে ১০ বার পড়তে হবে না বরং দ্বিতীয় সেজদা থেকে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ রাকআতেও সূরা কেরাতের পূর্বে ১৫ বার এবং সূরা কেরাতেপর রুকুর পূর্বে ১০ বার করে উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। এ নিয়মে প্রথম এবং শেষ বৈঠকে বসে আত্তাহিয়্যাতুর পূর্বে ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে না।