Back

ⓘ চার্লস পাসাইলাইগু




                                     

ⓘ চার্লস পাসাইলাইগু

চার্লস ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু । দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

                                     

1. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

১৯৩০-এর দশকে ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু’র খেলোয়াড়ী জীবন বহমান থাকলেও খুব কমই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্যূতি প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের অধিনায়কত্বে এমসিসি দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করে। মার্চ, ১৯৩০ সালে কিংস্টনের মেলবোর্ন পার্কে সফরকারীদের বিপক্ষে জ্যামাইকার সদস্যরূপে ১৮৩ রান তুলে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেকে আত্মপ্রকাশ ঘটান।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

প্রস্তুতিমূলক খেলায় অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ চারদিন পর জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাকে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ঐ খেলাটি অসীম সময়ের ছিল ও নয়দিনের অধিক সময় খেলা হয়। ৪৪ ও অপরাজিত ২ রান তুলেন। প্যাটসি হেনড্রেন, বব ওয়াট ও নাইজেল হেগের ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, কয়েক ওভার বল করার সুযোগ পেয়ে ০/১৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

এ দুটো খেলায় তার অংশগ্রহণেপর অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাই ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে তাকে অন্তর্ভূক্ত না করাকে দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এরপর আর তাকে কোন টেস্টের জন্যে নির্বাচিত করা হয়নি।

                                     

3. অবসর

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে উপেক্ষিত হবাপর পরবর্তী আট বছরে মাত্র দশটি খেলায় জ্যামাইকা কিংবা ত্রিনিদাদের সদস্য হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।

নিজস্ব তৃতীয় প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৬১ রান তুলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে সর্বদলীয় জ্যামাইকার সদস্যরূপে সম্মানীয় লিওনেল টেনিসনের দলে বিপক্ষে খেলেন। জ্যামাইকার মেলবোর্ন পার্কে দলটি তাদের একমাত্র ইনিংসে ৭০২/৫ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এ পর্যায়ে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জর্জ হ্যাডলি’র সাথে ৪৮৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছিলেন। অদ্যাবধি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এ সংগ্রহটি ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। নিজস্ব শেষ খেলায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একমাত্র উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৩৯ সালে ত্রিনিদাদে জ্যামাইকার সদস্যরূপে সম্মিলিত একাদশের বিপক্ষে এইচ.পি. বেলি তার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।

৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে ৭০ বছর বয়সে মন্টেগু বে এলাকায় ক্ল্যারেন্স পাসাইলাইগু’র দেহাবসান ঘটে।