Back

ⓘ চারুচন্দ্র চক্রবর্তী




                                     

ⓘ চারুচন্দ্র চক্রবর্তী

চারুচন্দ্র চক্রবর্তী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক। তিনি জরাসন্ধ ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। বৃটিশ ভারতবর্ষের পূর্ব বাংলার ফরিদপুর জেলার বর্তমানে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণডাঙ্গায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

                                     

1. জীবনী

চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর পিতার নাম অম্বিকাচরণ চক্রবর্তী। প্রাথমিক স্কুলের পাঠ শেষে, ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে সপ্তম স্থান অধিকার করে ম্যাট্রিক ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এম. এ পাশ করেন । সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দার্জিলিংয়ে ডেপুটি জেলার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর দীর্ঘ তিরিশ বছর নানা জেলে বিভিন্ন পদে সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের সুপারিনটেন্ডন্ট হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

                                     

2. সাহিত্যকর্ম

দীর্ঘ কর্মজীবনে জেলের লৌহকপাটের মধ্যে যে মানুষ গুলিকে দেখেছেন তাদের কথা ও কাহিনী তাঁর উপন্যাসে মূর্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১ লা মে লৌহকপাট এর প্রথম পর্ব গ্রন্থের আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে মোট চারটি পর্বে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কুড়ি একুশ খানি উপন্যাসের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল -

  • আশ্রয়
  • নিশানা ১৯৭৭
  • ছায়া ১৯৭২
  • আবরণ
  • তৃতীয় নয়ন১৯৭৯
  • তামসী ১৯৫৮
  • মসীরেখা
  • পরশমণি
  • এ বাড়ি ও বাড়ি
  • একুশ বছর
  • হীরা চুনি পান্না ১৯৮৩
  • উত্তরাধিকার
  • ন্যায়দণ্ড১৯৬১
  • পাড়ি

তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা হল, দুটি খণ্ডে নিঃসঙ্গ পথিক। প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে। ছোট গল্প সংকলনও আছে ছ-খানা। এছাড়া ছোটদের জন্য কিছু লেখা আছে রঙচঙ, রবিবার যমরাজের বিপদ প্রভৃতি গ্রন্থে। সাহিত্যকীর্তির জন্য তিনি শরৎচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার ও মতিলাল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর বহু রচনা দেশবিদেশের অন্তত ছয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর উপন্যাস তামসী অবলম্বনে হিন্দিতে বন্দিনী নামে চলচ্চিত্রায়িত করেন প্রখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক বিমল রায় এবং সেরা সম্মান লাভ করে।