Back

ⓘ কুলদীপ কৌর




                                     

ⓘ কুলদীপ কৌর

কুলদীপ কৌর একজন ভারতীয় অভিনেত্রী ছিলেন, যিনি হিন্দি এবং পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের "সর্বাধিক মার্জিত ভ্যাম্প" এবং অভিনেতা প্রাণের "বিপরীত চরিত্র" হিসাবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ভারত বিভাজনের পরে ভারতে নির্মিত প্রথম পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন; উক্ত চলচ্চিত্রটির নাম ছিল চমন, যেটি ১৯৪৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক "ব্যতিক্রমী প্রতিভা" এবং "প্রথম দুর্বৃত্ত নারী" হিসাবে প্রশংসিত কুলদীপ শশীকলা এবং বিন্দুর মতো শিল্পীদের সাথে তুলনীয় ছিলেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যার মধ্যে বেশিরভাগ হিন্দি এবং মাত্র কয়েকটি পাঞ্জাবি ভাষায় নির্মিত ছিল। তিনি ১৯৬০ সালে ধনুষ্টঙ্কারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

                                     

1. ব্যক্তিগত জীবন

কুলদীপ কৌর ১৯২৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরের একটি জাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পরিবার পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলার আটতারিতে জমির মালিক ছিল। রঞ্জিত সিংয়ের সেনাবাহিনীর মিলিটারি কমান্ডার জেনারেল শাম সিং আত্তারিওয়ালের নাতি মহিন্দর সিং সিধুর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে বিবাহ করেছিলেন এবং মাত্র ষোল বছর বয়সে মা হয়েছিলেন।

তিনি লাহোরে থাকাকালীন চলচ্চিত্র সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং হিংসাত্মক ঘটনাবলি ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি ১৯৪৭ সালে লাহোর ছেড়ে দিয়েছিলেন। কুলদীপ কৌর সম্পর্কে তাঁর অধ্যায়টিতে সাদাত হাসান মান্টো তাঁকে সাহসী নারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন, তাঁর বইয়ের শুরুতে শিরোনাম ছিল: "স্টার্স ফ্রম আনাদার স্কাই: দ্য বোম্বে ফিল্ম ওয়ার্ল্ড অফ দ্য ১৯৪০"। সহিংসতা সত্ত্বেও কৌর অভিনেতা প্রাণের গাড়িটি তুলতে লাহোরে ফিরে আসেন। বিভাজনের অংশীদারিত্বের পরে প্রাণ ও তিনি লাহোরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে বাঁচতে বোম্বের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি গাড়িটি একা লাহোর থেকে বোম্বের উদ্দেশ্যে দিল্লি হয়ে চালিয়ে এসেছিলেন।

                                     

2. মৃত্যু

আহমেদনগর জেলার শিরদি সফরকালে একটি বের গাছের জুজুব কাঁটা দিয়ে তিনি বিদ্ধ হন, কিন্তু এর ফলে তিনি চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রয়োজনবোধ করেননি। অতঃপর ১৯৬০ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি তারিখে ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।