Back

ⓘ যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল (মালয়েশিয়া)




যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল (মালয়েশিয়া)
                                     

ⓘ যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল (মালয়েশিয়া)

মালয়েশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল মূলত তিনটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো: কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া এবং লাবুয়ান। মালয়েশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এ অঞ্চলগুলো সরাসরি শাসন করে। কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার জাতীয় রাজধানী, পুত্রজায়া প্রশাসনিক রাজধানী এবং লাবুয়ান একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কুয়ালালামপুর এবং পুত্রজায়া সেলাঙ্গর রাজ্যের অন্তর্গত। আর লাবুয়ান হল সাবাহ উপকূলের নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।

যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল এবং মালয়েশিয়ার রাজ্য স্টেট সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলগুলোর নিজস্ব প্রশাসন বা আইনসভা নেই। তবে তারা সরাসরি মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ। অঞ্চলগুলো এক সাথে দেশের তেরটি রাজ্যের সমান মর্যাদা পেয়েছে। এই অঞ্চলগুলোর নিজস্ব মন্ত্রণালয় রয়েছে, যার মুখ্যমন্ত্রী মেন্টেরি উইলিয়াহ এই অঞ্চলগুলোর যুগ্ম প্রধান।

                                     

1. প্রশাসন

মালয়েশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলগুলো দেশটির যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আহমাদ বাদাওইর প্রশাসন ২০০৬ সালের ২৭ মার্চ উক্ত মন্ত্রণালয় গঠন করে। উক্ত মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন মোহাম্মদ ঈসা আবদুল সামাদ । টেংগু আদনান বিন মানসুর ২০১৩ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের ৯ মে মন্ত্রণালয়টির মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

                                     

2. ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলগুলো মূলত দুটি রাজ্যের অংশ ছিল: সেলাঙ্গর এবং সাবাহ। কুয়ালালামপুর এবং পুত্রজায়া উভয়েই সেলাঙ্গরের অংশ ছিল। আর লাবুয়ান সাবাহর অংশ ছিল।

সেলাঙ্গর রাজ্যের রাজধানী কুয়ালালামপুর ১৯৪৮ সালে মালয় ফেডারেশনের পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার জাতীয় রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতাপর থেকে ফেডারেল এবং সেলেঙ্গার রাজ্য শাসক দল ছিল অ্যালায়েন্স পরে বরিশান ন্যাশনাল। যাইহোক, ১৯৬৯ সালের নির্বাচনে অ্যালায়েন্স বিরোধী দলের কাছে সেলাঙ্গরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এই নির্বাচনের ফলে কুয়ালালামপুরে একটি বড় জাতিগত দাঙ্গা হয়েছিল।

এ ঘটনা থেকে এটি বোঝা যায় যে কুয়ালালামপুর যদি সেলাঙ্গরের অংশ থেকে যায় তবে ফেডারাল এবং সেলাঙ্গর রাজ্য সরকার যখন ভিন্ন দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে কুয়ালালামপুরকে সেলেঙ্গর রাজ্য থেকে আলাদা করে সরাসরি ফেডারেল শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল টেরিটরি অফ কুয়ালালামপুর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার প্রথম যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলে পরিণত হয়।

মূল ভূমির সাবাহ উপকূলের নিকটবর্তী সামুদ্রিক দ্বীপ লাবুয়ানকে ফেডারাল সরকার একটি অফশোর আর্থিক কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য বেছে নিয়েছিল। লাবুয়ান ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।

পুত্রজায়া একটি পরিকল্পিত শহর। কুয়ালালামপুর থেকে ফেডারেল সরকারের কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য এ শহরটি নকশা করা হয়। মালয়েশিয়ার তৎকালীন ইয়াং ডি-পার্টুয়ান আগং রাজা সুলতান সালাহউদ্দিনকে উক্ত ভূমি ফেডারাল সরকারের কাছে সমর্পণ করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুত্রজায়া ২০০১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনটি যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলের জন্য একটি সাধারণ পরিচয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলের একটি একক পতাকা চালু করা হয়েছে যা সবগুলো যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। ২০০৬ সালে কেদাহে আয়োজিত সুকমা গেমসে কুয়ালালামপুর, লাবুয়ান এবং পুত্রজায়া সম্মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চল নামে অংশ গ্রহণ করে।

                                     

3. পতাকা ও সঙ্গীত

অঞ্চলগুলির সরকারী সঙ্গীত হল "মাজু দান সেজাহতেরা", যার অর্থ "অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি"।

যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলসমূহের একটি একক পতাকা ছাড়াও প্রতিটি ফেডারেল অঞ্চলের নিজস্ব পতাকা রয়েছে।

                                     

4. যুক্তরাষ্ট্রীয় অঞ্চলগুলোর ক্রীড়া কমপ্লেক্স

কুয়ালালামপুর

  • মেরডেকা স্টেডিয়াম
  • ন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বুকিত জলিল
  • কেএলএফএ স্টেডিয়াম

লাবুয়ান

  • লাবুয়ান স্টেডিয়াম
  • লাবুয়ান ইন্টারন্যাশনাল সী স্পোর্টস কমপ্লেক্সেস
  • লাবুয়ান স্পোর্টস কমপ্লেক্সেস