Back

ⓘ রাজৈর পৌরসভা




রাজৈর পৌরসভা
                                     

ⓘ রাজৈর পৌরসভা

রাজৈর পৌরসভা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার অন্তর্গত একটি তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভা যা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। রাজৈর উপজেলার উপর দিয়ে কুমার নদী প্রবাহিত হয়েছে।

                                     

1. পটভূমি

উজানির রাজাদের নিকট হতে ফতেজঙ্গপুর পরগনার জমিদারিত্ব প্রাপ্ত হয় রাজা রাম রায়। রাজারাম রায় রাজ কর্মচারীরা ঐতি মোহনায় তাদের আস্তানা গড়ে। এখানেই এ অঞ্চলের পূর্বাপর রাজাদের বিশ্রাম এর স্থান হিসাবে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় রাজৈর। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ৭ মে টেকেরহাট বন্দরসহ রাজৈর ও খালিয়া ইউনিয়নের অংশ নিয়ে রাজৈর পৌরসভায় রূপান্তরিত করে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১১ই জানুয়ারি প্রথম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শামীম নেওয়াজ মুন্সি রাজৈর পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।

                                     

2. জনসংখ্যার উপাত্ত

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজৈর পৌরসভায় সর্বমোট ৪০,৭৪৮ জন পৌর নাগরিক পৌর এলাকায় বসবাস করেন এবং প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৭০০ জন লোক বাস করে।

রাজৈর পৌরসভায় ৪৫টি মসজিদ, ৩টি ঈদগাহ, ৪০টি মন্দির রয়েছে।

                                     

3. ভূগোল

রাজৈর পৌরসভা ভৌগোলিক অবস্থান ২৩.২১০৪৪৫৫° উত্তর ৯০.০৩১৩৪৯৪° পূর্ব  / 23.2104455; 90.0313494 । মাদারিপুর জেলার পশ্চিম প্রান্তে রাজৈর পৌরসভার অবস্থান। এর মোট আয়তন ২৮৯৫ একর ১১ বর্গ কিলোমিটার। জেলা সদর থেকে এ পৌরসভার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। এ পৌরসভার উত্তরে বদরপাশা ইউনিয়ন, পূর্বে আমগ্রাম ইউনিয়ন, দক্ষিণে আমগ্রাম ইউনিয়ন, কদমবাড়ী ইউনিয়ন, এবং পশ্চিমে মুকসুদপুর উপজেলা অবস্থিত।

                                     

4. প্রশাসন

২০১২ সালে রাজৈর পৌরসভা গঠন করা হয়। ২০১৫ সালের ১১ই জানুয়ারি প্রথম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজৈর পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ও ৫ট মৌজা রয়েছে। মৌজাগুলো হলো রাজৈর, স্বরমঙ্গল মৌজা, নশিপুর মৌজা, হোগলা মৌজা, পাট্টাবুকা মৌজা। পৌরসভাটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর গ-শ্রেণী পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃত।

রাজৈর পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম রাজৈর উপজেলার আওতাধীন। এটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১৯নং নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুর-২ এর অংশ।

                                     

5. শিক্ষা

রাজৈর পৌরসভার সাক্ষরতার হার ৫২.৩৯%। এ পৌরসভায় ১টি সরকারি কলেজ, ২টি মাদ্রাসা, ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি কওমী মাদ্রাসা, ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

                                     

6. স্বাস্থ্য

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হার তুলনামূলক কম হলেও এটি মূলত দারিদ্র্যতার সাথে সম্পর্কিত হওয়ায়, এর উন্নতির সাথে সাথে বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজৈর অঞ্চলে অপুষ্টি, পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যা, ডায়াবেটিস, সংক্রামক রোগ প্রভৃতি বেশি দেখা যায়। এ পৌরসভায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি সরকারি হাসপাতালের সাথে সাথে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়াও ১০টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক রয়েছে।

                                     

7. যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়ক এন৮ ঢাকা - মাওয়া ফেরীঘাট আর৮১২ - ফেরী - ভাঙ্গা এন৮০৪, এন৮০৫ - বরিশাল এন৮০৯ - পটুয়াখালী) রাজৈরকে ঢাকা থেকে রাজৈর হয়ে বরিশাল-পটুয়াখালীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। এই মহাসড়ক থেকে আঞ্চলিক মহাসড়ক আর৮৫০ টেকেরহাট- গোপালগঞ্জ হরিদাশপুর সেতু- মোল্লাহাট গোনাপাড়া সড়ক রাজৈর শহর হয়ে গোপালগঞ্জের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে।

রাজৈর থেকে ঢাকাগামী অধিকাংশ বাস সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কদমতলী বাস টার্মিনাল এসে থামে। রাজৈর জিরো পয়েন্ট থেকে মাদারীপুর জেলা সদরের দূরুত্ব ২০ কিলোমিটার, রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার।

১৯৬৫ সালে ৩৫.২৫ মাইল ভাঙ্গা-মাদারীপুর রাস্তা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যামে রাজৈরে সড়ক পথে প্রথম যোগাযোগ শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে টেকেরহাট-রাজৈর-মাদারীপুর রুটে প্রথম বাস সার্ভিস চালু হয়।

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী এ পৌরসভায় মোট রাস্তা কাঁচা ৩৫.০০ কি.মি., সিসি/আরসিসি ৭.০০ কি.মি., সলিং ২৮ কি.মি., এইচ বি বি ৪.০০ কি.মি. এবং কার্পেটিং ২১ কি.মি.। কালভার্ট ১২টি। এ পৌরসভায় কোন রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই।