Back

ⓘ কল্যাণ মুখোপাধ্যায়




                                     

ⓘ কল্যাণ মুখোপাধ্যায়

মুখার্জী ১৯৪৩ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা এ কে মুখার্জি একজন সফল ব্যারিস্টার ছিলেন, যিনি পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের পদ অলংকৃত করেন। বিচারপতি মুখার্জী ভারতীয় দর্শনের একজন পণ্ডিতও ছিলেন এবং নব্য-ন্যায় সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন। কল্যাণ এইভাবে এমন এক সামাজিক পরিবেশ বেড়ে উঠেছিলেন যেখানে পাণ্ডিত্য এবং সংস্কৃতিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হত। বিচারপতি মুখার্জীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে সরোদ পণ্ডিত রাধিকা মোহন মৈত্রের মতো সংগীতজ্ঞ ছিলেন। তরুণ কল্যাণ ১৯৫৬ সালে মৈত্রের অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। তিনি সেতারবাদক, কণ্ঠশিল্পী এবং সুরকার ডি টি জোশীর সাথেও পড়াশোনা করেছিলেন।

মুখার্জীর সংগীত শিক্ষা তাঁর পুরো কর্মজীবন জুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত ছিল, তবে এমন কিছু সময়সীমা গেছে যে সময় তিনি সরাসরি কোনও শিক্ষকের অধীনে ছিলেন না ১৯৬২-১৯৬৫৫ এবং ১৯৬৭-১৯৭৬। এই বছরগুলিতে, ভারতীয় সংগীত জগৎ থেকে আপেক্ষিকভাবে বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে, মুখার্জী বিশ্বাস করতেন, আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সময় সংগীতশিল্পী হিসাবে তাঁর যতটা উন্নতি হয়েছে এই সময়তেও তিনি ততটাই নিজেকে উন্নত করতে পেরেছিলেন। মুখার্জি গণিতবিদ এবং সরোদ বাদক এই দুই বিষয়েই অনন্য অভিজ্ঞতার অধিকারী হয়েছিলেন।

                                     

1. গণিতবিদ হিসাবে

মুখার্জী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, এর পরে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে ডক্টরেট করেছেন। ১৯৬৮ সালে, তিনি ইউসিএলএ এর গণিত অনুষদে যোগদান করেন।তিনি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ইউসিএলএতে ছিলেন। এরপর তিনি ভারতে ফিরে এসে দিল্লি এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক পদ গ্রহণ করেন ।

তাঁর গবেষণার প্রাথমিক আগ্রহ ছিল টপোগণিতে। তাঁর কৃতিত্বে, অনুমোদনমূলক প্রকাশনায় ছিল, ফ্রেডহোম মেনিফোল্ডস এবং কোইনসিডেন্স তত্ত্ব। তাঁর পূর্ববর্তী গবেষক শিক্ষার্থী রাজেন্দ্র ভাটিয়ার সহযোগিতায়, তিনি ম্যাট্রিক্স বিশ্লেষণে অবদান রেখেছিলেন।

তাঁর কাজটি তাঁর পূর্বকালীন ছাত্রদের পাশাপাশি সহকর্মী এবং সমসাময়িকগণের জন্য ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি রাজেন্দ্র ভাটিয়া এবং মহান মিত্র-সহ এই ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারীদের পরামর্শদাতাও ছিলেন।

                                     

2. সংগীতশিল্পী হিসাবে

উকলা ইউসিএলএ তে থাকাকালীন, মুখার্জী নবগঠিত এথনোমিউজিকোলজি বিভাগে হিন্দুস্তানীয় বাদ্য যন্ত্রের প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করেছিলেন, এবং শুরুর প্রথম দিনগুলিতে নাজির জয়রাজভয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের হান্টার কলেজের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক পিটার ম্যানুয়েল ছিলেন, যিনি বিভিন্ন প্রকাশনাতে মুখার্জির প্রতি তাঁর ঋণ স্বীকার করেছেন। মুখার্জী খুব সীমিত সংখ্যায় মঞ্চে অনুষ্ঠান করেছেন। একজন সরোদ বাদক হিসাবে তাঁর ২৫ বছরের শিল্পী জীবনে তিনি প্রায় পঞ্চাশটি সঙ্গীতানুষ্ঠান করেছেন। হঠাৎ করেই নিউ ইয়র্কের ইন্ডিয়া আর্কাইভ মিউজিকের লাইল ওয়াচভস্কির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়, যিনি রাগ শুদ্ধ কল্যাণ এবং শুক্লা বিলাওয়ালের একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সিডি প্রকাশ করে তাঁর সংগীতকে বিশ্বব্যাপী শ্রোতা দিয়েছেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত, মুখার্জীর বাজনা দিল্লির অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে নিয়মিত সম্প্রচারিত হত।

মুখার্জির সংগীত ঐতিহ্যগতভাবে নিবিষ্ট কিন্তু তা কঠোরভাবে রীতিনীতি মেনে চলে না। তাঁর পদ্ধতিটি, যুক্তি এবং নান্দনিক সংবেদনশীলতাকে অন্যান্য কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর উত্তম উদাহরণ হল বিতর্কিত রাগ, শুদ্ধ কল্যাণকে ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, দীপক রাজার একটি নিবন্ধে এই বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।