Back

ⓘ ধর্ম এবং ভূগোল




                                     

ⓘ ধর্ম এবং ভূগোল

ধর্ম এবং ভূগোল হলো ধর্ম বিশ্বাসের উপর ভূগোল, অর্থাৎ স্থান এবং অবস্থানের প্রভাব সম্পর্কিত আলোচনা।

ধর্ম এবং ভূগোলের মধ্যকার সম্পর্কের আরেকটি বিষয় হলো ধর্মীয় ভূগোল, যেখানে ভৌগলিক ধারণা ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেমন প্রাথমিক মানচিত্র প্রস্তুতকরণ এবং বাইবেলীয় ভূগোল যেটি বাইবেলে বর্ণিত স্থানগুলি সনাক্ত করার জন্য ১৬শ শতাব্দীতে বিকশিত হয়।

                                     

1. গবেষণা ঐতিহ্য

ঐতিহ্যগতভাবে, ভূগোল এবং ধর্মের মধ্যকার সম্পর্কটি স্পষ্টতভাবে দৃষ্ট হয় বিশ্ব সম্পর্কিত মহাজাগতিক ধারণার গঠন বুঝার ক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাবের দ্বারা। ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দী থেকে, ভূগোল এবং ধর্মের অধ্যয়নটি খ্রিস্টধর্মের বিস্তারের দ্বারা মানচিত্রায়নের উপরই মূলতঃ মনোনিবেশ করেছিল যেটিকে ১৯৬৫ সালে আইজ্যাক একতত্ত্বীয় ভূগোল বলেছেন, যদিও সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে, অন্যান্য ধর্মের প্রভাব এবং বিস্তারণও এক্ষেত্রে গৃহীত হয়।

ভূগোল এবং ধর্মের মধ্যে সম্পর্কের অধ্যয়নের জন্য অন্যান্য ঐতিহ্যগত পদ্ধতিগুলি প্রকৃতির রচনার ধর্মতাত্ত্বিক অন্বেষণের সাথে জড়িত - এটি একটি উচ্চ পরিবেশগত প্রতিরোধমূলক পন্থা যা বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রকৃতি এবং বিবর্তন নির্ধারণে ভৌগলিক পরিবেশের ভূমিকা চিহ্নিত করে।

ফলশ্রুতিতে, ভূগোলবিদরা প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে কম উদ্বিগ্ন, কিন্তু সংস্কৃতি বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধর্ম কীভাবে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে অধিক সংবেদনশীল। এর দৃষ্টিপাতের কেন্দ্রবিন্দুটি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুশীলনের উপর স্থাপিত নয়; বরং এই ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলনগুলি অনুগামীদের দ্বারা কীভাবে আত্মঃস্থ হয় ও এই অভ্যন্তরীণকরণের প্রক্রিয়াগুলি কীভাবে প্রভাবিত হয় এবং সামাজিক ব্যবস্থা দ্বারা তা কীভাবে প্রভাবিত হয় সে বিষয় নিয়ে গবেষণা করে থাকে।

                                     

2. ধর্মের নতুন ভূগোল

ভূগোল ও ধর্ম সম্পর্কিত গবেষণা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি ভৌগলিক গবেষণার অন্যতম নতুন বিষয় হিসাবে ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান এবং এর ফলে ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে সে সম্পর্কিত গবেষণারও বিকাশ ঘটেছে।

তদুপরি, স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার ফলে বহু দেশে ধর্মীয় বহুত্ববাদের বিকাশ ঘটেছে এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আন্দোলন এবং বসতি স্থাপনের সাথে ভূদৃশ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলি ভূগোল এবং ধর্মের অধ্যয়নের মূল লক্ষে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্থানান্তরের কারণে ঘটে যাওয়া একীভূতীকরণ এবং সংঘর্ষিক বিষয়গুলি নিয়ে অধ্যয়নের জন্য আরও কাজ করা প্রয়োজন উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম সম্প্রদায়ের পশ্চিমা দেশগুলিতে অভিবাসন এবং এই সম্প্রদায়গুলি কীভাবে নতুন স্থানগুলিতে তাদের ধর্মীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিযোজিত হয় সে সম্পর্কে আলোকপাত করা দরকার। এ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গবেষণা প্রকাশ করেছেন ব্যারি এ ভ্যান, যেখানে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর আগমণ এবং যে ধর্মতাত্ত্বিক কারণগুলি এই জনমিতিক প্রবণতায় প্রভাব বিস্তার করেছে তা বিশ্লেষণ করেছেন।

ভূগোল ও ধর্ম অধ্যয়নে আগ্রহের আরেকটি নতুন ক্ষেত্র হচ্ছে স্বীকৃত পবিত্র ধারণার বাইরে ধর্মীয় কার্যাবলীর অনুশীলনের বিভিন্ন উপাদানগুলোর অনুসন্ধান - ধর্মীয় শিক্ষালয়, গণযোগাযোগ, ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন, ইসলামী ব্যাংকিং এবং গৃহের স্থানের মতো ক্ষেত্রগুলি কেবলমাত্র ধর্মীয় অনুশীলন এবং অর্থের সাথে সম্মিলিত হয়ে নানা অবস্থানে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করে দৈনন্দিন জীবনাচারে যুক্ত হওয়া।

                                     

3. তথ্যসূত্র

  • Park, Chris ১৯৯৪। Sacred worlds: an introduction to geography and religion । Routledge। আইএসবিএন 9780415090124।
  • Knott, Kim ২০০৫। The location of religion: a spatial analysis । Equinox Publishing Ltd। আইএসবিএন 9781904768753।
  • Douglas, H. Paul. 1926 1000 City Churches Phases of Adaptation to Urban Environment ; in United States. online free