Back

ⓘ রিবো (রোবট)




রিবো (রোবট)
                                     

ⓘ রিবো (রোবট)

রিবো হলো বাংলায় কথা বলতে পারা প্রথম সোশ্যাল মানবসদৃশ রোবট। রিবো রোবটটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স দল রোবোসাস্ট কর্তৃক তৈরি করা হয়েছিল। রোবোসাস্ট টিম সাস্টের তৎকালীন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর তত্ত্বাবধানে রোবটটি তৈরি করে। রোবটটি তৈরির জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি এক লক্ষ টাকা অর্থায়ন করেছিল। ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রথম জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়।

                                     

1. উন্নয়নের ইতিহাস

রোবোসাস্টের ১১ জন সদস্য শুরু থেকেই বিভিন্ন রোবটিক্স প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। সাস্টো SUSTU প্রকল্প ছিলো মানবসদৃশ রোবট তৈরির উদ্বোধনী কাজ। রিবো রোবট কাগজে লিখতে এবং দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম। বার্ষিক সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি রোবোসাস্টকে মানবসদৃশ রোবট তৈরির জন্য অর্থায়ন করেছিল। তারপরে দলটি পুরোদমে রোবটটির উন্নয়নে কাজে নেমে পড়েন এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সোশ্যাল মানবসদৃশ রোবট তৈরি করে, যার নাম দেওয়া হয়েছে "রিবো"। রিবো ২৪ ডিগ্রি কোণে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারে। এটি একটি উচ্চতর টর্সো রোবট। এটি নিম্নোক্ত কাজসমূহ করতে পারে: নাচ করা, মুখের অঙ্গভঙ্গির প্রকাশ, হ্যান্ডশেক করমর্দন করা, হাত উপর-নিচে তোলা, বাংলায় কথা বলা এবং নিজের নামও বলতে পারে। এছাড়াও রিবো মানুষের মুখের অঙ্গভঙ্গির ভাবও বুঝতে পারে।

                                     

2. নকশা

রিবো হলো একধরনের উচ্চতর মানবসদৃশ টর্সো রোবট, যেটি মানুষের সাথে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারে। এটির রয়েছে ২৪ ডিগ্রি স্বাধীনভাবে ঘুর্ণনের ক্ষমতা। রোবটটির রয়েছে হার্ডওয়্যার সমূহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জিবি র্যাম RAM ও কোর-২ ডুয়ো প্রসেসর। রিবো ইউবান্টু ও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও রয়েছে মাল্টিমিডিয়া সমন্বিত একটি ক্যামেরা, একটি মাইক্রোফোন অ্যারে। মাইক্রোফোন অ্যারে রোবটটিতে থ্রিডি সাউন্ডের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রিবো, রোবটিক ভয়েস কথোপকথনের মাধ্যমে কথা বলে থাকে। এটির ডান হাতে রয়েছে একটি টাচ সেন্সর, যেটির মাধ্যমে কেউ হাতে স্পর্শ করলে তা বুঝতে পারে। এছাড়াও এটির চোখের অক্ষিকোটরে রয়েছে একটি ক্যামেরা। রিবোর রয়েছে আইলিড ও আইব্রু যেটির মাধ্যমে মুখের ভাবভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকে। সাপোর্ট ভেক্টর মেশিনের মাধ্যমে রিবো মানুষের মুখের ভাব বুঝতে পারে।

                                     

3. জনসমক্ষে প্রদর্শন

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রথমবারের মতো রিবোকে প্রদর্শন করা হয়। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকাতে আইসিটি এক্সপোতে পুনরায় প্রদর্শন করা হয়। ২০১৬ ও ২০১৯ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিজ্ঞান উৎসবে রিবোকে প্রদর্শিত করা হয়। ২০১৭ সালে সোফিয়া রোবটকে যখন ঢাকায় আনা হয় তখন পুনরায় আলোচনায় আসে বাংলাদেশী রোবট রিবো। কারণ যেখানে সোফিয়াকে আনতে খরচে হয়েছিল মিলিয়ন ডলারের মতো, অন্যদিকে দেশী রোবট রিবো মাত্র এক লক্ষ টাকা নিয়েছিল রিবো তৈরিতে অর্থায়ন হিসেবে। ২০১৮ সালে নাটোরে অনুষ্ঠিত চলনবিল উৎসব এবং ২০১৯ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে সর্বশেষ রিবোকে প্রদর্শন করা হয়েছিল।