Back

ⓘ অহল্যা




অহল্যা
                                     

ⓘ অহল্যা

অহল্যা হলেন এক হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র। তিনি ঋষি গৌতমের পত্নী। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে উল্লিখিত কাহিনিসূত্রে জানা যায়, দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর সতীত্ব হরণ করেন, ব্যভিচারের অপরাধে ঋষি গৌতম তাঁকে অভিশাপ দেন এবং বিষ্ণুর অবতার রাম এসে তাঁকে শাপমুক্ত করেন।

ব্রহ্মা এক পরমাসুন্দরী নারী সৃষ্টির মানসে অহল্যাকে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর স্বামী ঋষি গৌতম বয়সে তাঁর থেকে অনেক বড়ো ছিলেন। প্রাচীনতম পূর্ণাঙ্গ উপাখ্যানগুলিতে বলা হয়েছে, অহল্যা ছদ্মবেশী ইন্দ্রকে চিনতে পারলেও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেননি। কিন্তু পরবর্তীকালের গ্রন্থগুলির মতে, অহল্যা নির্দোষ ছিলেন। তিনি ইন্দ্রের শঠতার শিকার হয়েছিলেন অথবা ধর্ষিতা হয়েছিলেন। সকল উপাখ্যানেই দেখা যায়, ঋষি গৌতম অহল্যা ও ইন্দ্র উভয়কেই অভিশাপ দিয়েছিলেন। অভিশাপটি ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে অবশ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে মতভেদ আছে। তবে সকল গ্রন্থেই কথিত হয়েছে যে, রাম অহল্যার ত্রাতা ও মুক্তিদাতা রূপে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রাচীনতর গ্রন্থগুলিতে আছে, প্রায়শ্চিত্তের জন্য অহল্যা কঠোর তপস্যা করেছিলেন এবং রামকে আতিথ্য দান করে পাপমুক্ত হন। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রচলিত হওয়া জনপ্রিয় পুনর্কথনগুলিতে দেখা যায়, ঋষির অভিশাপে অহল্যা পাথর হয়ে যান এবং রামের পাদস্পর্শে পুনরায় মানবী রূপ ফিরে পান।

শাস্ত্রগ্রন্থগুলিতে অহল্যার যে জীবনকথা পাওয়া যায়, তার সব ক’টিরই কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হল ইন্দ্র কর্তৃক অহল্যাকে প্রলুব্ধকরণ এবং তার প্রতিফল। ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলিতেই খ্রিস্টপূর্ব নবম থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী প্রথম ইন্দ্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আভাস দেওয়া হলেও হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণেই খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম-চতুর্থ শতাব্দী প্রথম স্পষ্টভাবে ও সবিস্তারে তাঁর পরকীয়া সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়। রামায়ণে রামের মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে। তাই মধ্যযুগীয় কথকেরা রাম কর্তৃক অহল্যা-উদ্ধারণকে ঈশ্বরের কৃপার নিদর্শন হিসেবে সেই কাহিনির উপরেই অধিক গুরুত্ব আরোপ করতেন। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বহুবার পুনর্কথিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক যুগের কবিতা, ছোটোগল্প এমনকি নৃত্য ও নাট্যসাহিত্যেও এই কাহিনি বারবার উপস্থাপিত হয়েছে। প্রাচীন উপাখ্যানগুলিতে রামের মাহাত্ম্য কীর্তিত হলেও আধুনিক গল্পগুলি অহল্যার উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে তাঁরই দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছে। কোনও কোনও উপাখ্যানে অবশ্য তাঁর সন্তানসন্ততির কথাও আছে।

হিন্দুরা প্রথানুসারে অহল্যাকে পঞ্চকন্যার পাঁচ আদর্শ সতী প্রথমা মনে করেন। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পঞ্চকন্যার নাম আবৃত্তি করলে পাপস্খালন ঘটে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিঃশঙ্ক চিত্তে অভিশাপ গ্রহণের জন্য তাঁকে পতিব্রতা ও নারীত্বের আদর্শ হিসেবে প্রশস্তি করা হয়; আবার অন্য ক্ষেত্রে ব্যভিচারের অপরাধে তাঁর নিন্দাও করা হয়ে থাকে।

                                     

1. নাম-ব্যুৎপত্তি

"অহল্যা" নামটিকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: "অ" ও "হল্যা"। "অ" একটি নঞর্থক উপসর্গ এবং সংস্কৃত অভিধানগুলিতে "হল্যা" শব্দটির সংজ্ঞায় এটিকে লাঙল হল, হলকর্ষণ অথবা অঙ্গবৈকল্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রামায়ণ গ্রন্থের উত্তরকাণ্ডে ব্রহ্মা সংস্কৃত "অহল্যা" নামটির সংজ্ঞায় বলেছেন "যিনি অসৌন্দর্যের অখ্যাতি হতে মুক্ত" অথবা "যিনি নিখুঁত সুন্দরী"। এই প্রসঙ্গে ইন্দ্রকে তিনি বলেছেন কীভাবে তিনি সকল সৃষ্টির বিশেষ সৌন্দর্য আহরণ করে তা অহল্যার শরীরের মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন। কয়েকটি সংস্কৃত অভিধান যেহেতু অহল্যা শব্দটির অনুবাদে "অকর্ষিত" কথাটি ব্যবহার করেছে, সেই হেতু কোনও কোনও আধুনিক লেখক এটিকে যৌনসংগমের ইঙ্গিত বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, নামটি কোনও কুমারী অথবা মাতৃচরিত্রের দ্যোতক। এই অর্থটি তাঁর চরিত্রের সঙ্গে খাপ খায়। কারণ, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অহল্যাকে ইন্দ্রের নাগালের বাইরে বলেই গণ্য করা হয়ে থাকে। যদিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আক্ষরিক "অকর্ষিত" অর্থটির প্রতিই গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন যে, অহল্যা হলেন পাথুরে অনুর্বর জমির প্রতীক, যা রাম কর্তৃক কর্ষণযোগ্য হয়েছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভারতী ঝাবেরি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করে অহল্যাকে অকর্ষিত জমি হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ব্যাখ্যার ভিত্তি ছিল গুজরাতে প্রচলিত আদিবাসী ভিল রামায়ণ, যা প্রকৃতপক্ষে তারিখবিহীন ও মৌখিকভাবে প্রচলিত কাহিনি।

                                     

2.1. পৌরাণিক উপাখ্যান উত্তর কাণ্ড

রামায়ণে আছে, প্রজা সৃষ্টিপর সেই প্রজাদের বিশিষ্ট প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্রহ্মা এক কন্যা সৃষ্টি করেন। অদ্বিতীয়া সুন্দরী ও সত্যপরায়ণা বলে ব্রহ্মা তার নাম রাখেন অহল্যা। ব্রহ্মা তাকে গৌতম ঋষির নিকট ‘ন্যাসভূতা’ অর্থাৎ গচ্ছিত রেখেছিলেন। ইন্দ্র অহল্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহের মানস করেন। কিন্তু বহু বছর বাদে গৌতম অহল্যাকে ব্রহ্মার নিকট ফিরিয়ে দিলে, ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হয়ে অহল্যার সহিত গৌতমের বিবাহ দেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে ইন্দ্র অহল্যাকে ছলনা করে ধর্ষণ করেছিলেন। এই কারণে, গৌতম ইন্দ্রকে অভিশাপ দেন যে যুদ্ধে তাকেও ধর্ষিত হতে হবে এবং যে ধর্ষণ প্রথার সূচনা জগতে ইন্দ্র করলেন তার অর্ধেক পাপ তাকেই বহন করতে হবে; এবং জগতে দেবরাজের স্থানও স্থাবর হবে না। পুনশ্চ, তাকে অণ্ডকোষহীন হয়ে থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই শাপের ফলে ইন্দ্রজিৎ ইন্দ্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করে লঙ্কায় বন্দী করে আনেন ও নির্যাতন করেন। গৌতম অহল্যাকেও শাপ দেন," মমাশ্রমা সমীপতঃ বিনিধ্বংস”; এবং অহল্যা অপেক্ষাও অধিক সুন্দরী পৃথিবীতে তার রূপের গৌরব খর্ব করতে জন্মগ্রহণ করবেন। অহল্যা স্বামীকে বোঝান যে তিনি নির্দোষ, ইন্দ্র গৌতমের রূপ ধারণ করে তাকে ধর্ষণ করেছেন। গৌতম তখন শান্ত হন। তিনি অহল্যাকে বলেন, রামের দর্শনে তিনি পবিত্র হবেন । গৌতম এরপর নিজের আশ্রমে ফিরে যান ও অহল্যা তপস্যা করতে থাকেন।

                                     

2.2. পৌরাণিক উপাখ্যান অন্যান্য গ্রন্থ

কথাসরিৎসাগর -এ আছে ইন্দ্র ধরা পড়েননি। তিনি ‘মার্জার’-এর রূপ ধারণ করে পালান। গৌতম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘মার্জার’ চলে গেছে। কথাটি দ্ব্যর্থক। এক অর্থে ‘মৎ-জার’ অর্থাৎ আমার নিষিদ্ধ প্রেমিক, অন্য অর্থে বিড়াল।

একটি মতে, গৌতমের অভিশাপে অহল্যা পাথর হয়ে যান। রামচন্দ্রের পাদস্পর্শে তার মুক্তি ঘটে। এক মতে, গৌতমের শাপে ইন্দ্রে সারা দেহ যোনি চিহ্নে ভরে যায়। পরে ইন্দ্রের কাতর প্রার্থনায়, সমস্ত যোনি-চিহ্ন গুলি চোখে লোচন রূপান্তরিত করে দেন। ইন্দ্র সহস্র-লোচন হয়ে বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলেন। একটি মতে, অহল্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে ইন্দ্র মোরগের বেশে মধ্যরাতে আশ্রমে উপস্থিত হন ও ডেকে ওঠেন। ভোর হয়েছে মনে করে ঋষি স্নানে চলে যান। ইন্দ্র গৌতমের ছদ্মবেশে ফিরে এসে অহল্যাকে সম্ভোগ করেন। আবার অন্য একটি মতে জানা যায়, শাপমোচনেপর গৌতম পুত্র শতানন্দকে নিয়ে আশ্রমে ফিরে এসেছিলেন এবং একসঙ্গে বসবাসও শুরু করেন। পদ্মপুরাণেও রামের পাদস্পর্শে অহল্যার মুক্তির কথা আছে।

                                     

2.3. পৌরাণিক উপাখ্যান বালী ও সুগ্রীবের উপাখ্যান

গরুড়ের দাদা অরুণের দুই পুত্র অহল্যার কাছে পালিত হতে থাকে। গৌতম এঁদের সহ্য করতে না পেরে শাপ দিয়ে বানরে পরিণত করেন। এরপর ইন্দ্র এঁদের সন্ধানে এলে অহল্যা তাকে গৌতমের শাপের কথা জানান। দেবরাজ ছেলে দুটিকে খুঁজে আনেন। বড়টির লেজ বড় বলে নাম হয় বালী ও ছোটোটির গ্রীবা সুন্দর বলে নাম হয় সুগ্রীব।

                                     

2.4. পৌরাণিক উপাখ্যান অপ্সরা অহল্যা

রাজা ইন্দ্রদ্যম্নের স্ত্রীর নাম ছিল অহল্যা। তিনি ছিলেন অপ্সরা। অহল্যার উপাখ্যান শুনে অপ্সরা অহল্যা ইন্দ্র নামে এক অসুরের প্রতি আকৃষ্ট হলে রাজা তাকে বিতাড়িত করেন।

                                     

3. রূপক

মীমাংসা দার্শনিক কুমারিলভট্টের মতে, অহল্যার উপাখ্যান একটি রূপক। ইন্দ্র সূর্য ও অহল্যা রাত্রি বা অন্ধকারের প্রতীক। অহল্যার ধর্ষণ অন্ধকার জয়ের প্রতীক। অন্য মতে, অহল্যা উষার প্রতীক। দিনে ইন্দ্ররূপী সূর্যের উদয় হলে অহল্যারূপী ঊষা অসূর্যম্পশ্যা হয়। আবার একটি মতে, অহল্যা অনুর্বর জমির প্রতীক।

                                     
  • অহল য চ র - শ ম র চ একজন ভ রত য শ ক ষ ব দ এব ভ রত র ম নবসম পদ উন নয ন মন ত রক র এমএইচআরড অধ ন ক ন দ র য ব দ য লয সম হ র স গঠন র প রথম
  • দ ব অহল য ব ই হ লক র ব ম নবন দর আইএট এ: আইড আর, আইস এও: ভয ড হল একট স র বজন ন ব ম নবন দর য ম লত ভ রত য র জ য মধ যপ রদ শ র ব হত তম শহর ইন দ র এব
  • হব বল ব শ ব স কর হয থ ক ত র হচ ছ ন - অহল য দ র পদ ক ন ত ত র ও মন দ দর র ম য ণ থ ক অহল য ত র ও মন দ দর এব মহ ভ রত থ ক দ র পদ ও
  • শ ৰ ণ সম হ এই প রস ক র প ৰদ ন কর হয দ ব অহল য ব ঈ হলক র প রস ক র: শ শতক র ম লব র জ য র র ণ অহল য ব ঈ হলক র র ন ম ক ন ন গ প রস ক র: ক বদন ত ম লক
  • আল কব জ ঞ ন ও শক ত ব ষয একজন ব শ ষজ ঞ এব লখনউ ব শ বব দ য লয দ ব অহল য ব শ বব দ য লয এব বরকতউল ল হ ব শ বব দ য লয র প র ক তন উপ চ র য স ল
  • ব ধ নসভ র সদস য ছ ল ন ত ন একজন ক ষক এব স গর জ ল র ব স ন দ ত ন শ র মত অহল য ব ইয র স থ ব ব হবন ধন আবদ ধ হন, ত দ র চ র ছ ল ও ত ন কন য রয ছ Election
  • স দ ম ট : সম প দক - দ নন থ মণ ডল পল লব সন দ শ : সম প দক - বলর ম হ লদ র অহল য : সম প দক - সন ত ষ রঞ জন দ স ব লড ঙ গ সম চ র : সম প দক - জগন ন থ মজ মদ র
  • পদ ম ক প য স ত র প প লন কর ন অহল য দ র পদ ক ন ত ত র মন দ দর তথ পঞ চকন য স মর ন ত য মহ প তক ন শনম অহল য দ র পদ ক ন ত ত র ও মন দ দর
  • ভ মব টক প রস তরক ষ ত র ম ন ড র জ য ট ব ম নবন দর রয ছ যথ : দ ব অহল য ব ঈ হ লক র ব ম নবন দর র জ ভ জ ব ম নবন দর জব বলপ র ব ম নবন দর গ য ল য র
  • দ ব র প রদত ত ব হ র গ রব গ ন মধ যপ রদ শ সরক র কর ত ক ভ ষ ত জ ত য দ ব অহল য সম ম ন স ল র ক ক ব ড ল ফ উন ড শন দ ব র প রদত ত শ কর সম ম ন ত র
  • ব দ য বত রথ র ম ল রথ র ম ল ঠ ক দ ক ক রব ল ভ ত ম র ঢ ল এক এক ক এক অহল য কন য র ঘ ম ঘ ম ক আশ ব ন ত ম ঠ হ ওয য ক ল ন গ ন ক আম র বলত প র
  • মন দ র র স মন র অ শট ত জমহল র অন করণ ন র ম ত স ল হ ন দ ম র ঠ র ন অহল য ব ই হ লক র ক শ ব শ বন থ মন দ র প নর ন র ম ণ কর ন নবন র ম ত মন দ রট মসজ দ র