Back

ⓘ আগর




আগর
                                     

ⓘ আগর

আগর, এক প্রকারের সুগন্ধি প্রদায়ক উদ্ভিদ। এটি Thymelaeaceae পরিবারের অন্তর্গত। অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে Aloe wood, Eagle wood, Aguruh, Krsnaguruh উল্লেখযোগ্য। এটি দক্ষিণ পূর্ব-এশীয় প্রজাতি।

                                     

1. বিবরণ

এটি একটি মাঝারি ধরনের চিরসবুজ বৃক্ষ। উচ্চতা সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ ফুট হয়ে থাকে। ০.৬-২.৫ মিটার ব্যাসের হয়ে থাকে। পাতা পাতলা ও চর্ম, উজ্জ্বল সবুজ। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়। এই গাছের ফুল সাদা রংয়ের। তিন বছরের কাছাকাছি সময়ে গাছে ফুল আসে। ফুল খুব ছোট, কাক্ষিক ছত্রাকার মঞ্জরিতে ঘ্নবদ্ধ। ফল ৪-৫ সেমি লম্বা, ডিম্বাকার।

                                     

2. চাষাবাদ

আগর গাছ সাধারণত ঘন অর্ধ-চিরসবুজ বনের বৃক্ষ। এই গাছের বংশ বিস্তার হয় বীজ থেকে। গাছে জুন মাসে ফুল এবং আগস্ট মাসে ফল হয়। এই গাছ সিলেট এলাকার বন বিভাগ মাঝে মাঝে চাষ করে থাকে।

                                     

3. গুনাগুণ

আগরের সুগন্ধি প্রশান্তিদায়ক এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধিকারী বলে কেউ কেউ মনে করে থাকেন। মালয় ও চাইনিজদের আদি চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নিরাময়ের ঔষধ প্রস্তুতির গুরূত্বপূর্ন উপাদান হিসাবে আগর কাঠ ব্যবহার হয়ে আসছে। অ্যারোমাথেরাপিতেও এর ব্যবহার আছে। এছাড়া মূত্রবর্ধক, কামোদ্দীপক, কোষ্ঠ্য পরিষ্কারক হিসাবে এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন ত্বকের রোগ, ব্রংকাইটিস, হাঁপানী ও বাত রোগে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। আগর উড থেকে আহরিত তেল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি। এই সুগন্ধির বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটি একটি এ্যলকোহলমুক্ত সুগন্ধি। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনে এ সুগন্ধির আকাশ ছোঁয়া চাহিদা বিশ্বজুড়ে। আগর উড থেকে তৈরি কাঠের টুকরা বা আগর তেল বা আগর আতর উভয়ই সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আগর তেল ছাড়া কাঠ বা পাউডারজাত সামগ্রী থেকে ধূপের ন্যায় প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আগরের সুবাস নেয়া হয়। আগর উডের নির্যাশ সুগন্ধি সাবান, স্যাম্পুসহ অন্যান্য প্রসাধণ সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।।