Back

ⓘ অন্য ঘরে অন্য স্বর




                                     

ⓘ অন্য ঘরে অন্য স্বর

অন্য ঘরে অন্য স্বর বইটি প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সর্বপ্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি একটি ছোটগল্পের সংকলন। এতে মোট ছয়টি গল্প স্থান পেয়েছে। গল্পগুলোর রচনাকাল ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল।

                                     

1. প্রকাশের ইতিহাস

এই বইতে স্থান পাওয়া ছয়টি গল্পের পাঁচটিই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, শুধুমাত্র ফেরারী গল্পটি বাদে। এটিকে বেশ কয়েকটি পত্রিকা ফিরিয়ে দিয়েছিল। সর্বপ্রথম ফরহাদ নামে একজন তরুণ প্রকাশক উদ্যোগী হয়ে এই বইটি ছাপান। বইটি বাজারে সেভাবে চলেনি। ফলে অনেক বই উপহার হিসেবে প্রদত্ত হয়, আবার অনেক বই গুদামে পড়ে ছিলো। পরবর্তীতে ফরহাদ একাধিক লোকসানের ফলে স্বল্পকাল পরে প্রকাশনা ব্যবসা থেকে সরে যান এবং এরপর ইউপিএল বইটি ছাপায়।

                                     

2. আলোচনা-সমালোচনা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের এই বইটি শুরুতে সাধারণ পাঠকমহলে তেমন আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়নি। এমনকি অদ্যাবধি এটি সাধারণ্যে তেমন জনপ্রিয় নয়। তবে সাহিত্যিক-সমাজ ও রুচিবান পাঠকদের ভেতরে এটি প্রকাশের পরপরই বিশেষ সাড়া জাগায়। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক তখন ছিলেন বেশ জনপ্রিয় লেখক। বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ বইটির অনেক প্রশংসা করেন এবং দর্শকদের বলেন যে, লেখক একেবারে অপরিচিত হলেও এই বইটা কিনে পড়া উচিত। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের আরেক দিকপাল হাসান আজিজুল হক এই বইটি নিয়ে একটি দীর্ঘ সাহিত্য-সমালোচনা লেখেন, যেটি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত বৃত্তায়ন নামক লিটন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। এই সমালোচনা প্রবন্ধটির শিরোনাম ছিলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিষবৃক্ষ। প্রবন্ধের একটি অংশে হাসান আজিজুল হক লিখেছেন,

‘শ্মশানের মড়া পুড়িয়ে পুড়িয়ে চণ্ডালের যে অবস্থা ইলিয়াসেরও তাই। সবকটি চশমা খুলে বসে আছেন অথচ আমাদের সাহিত্যে চশমার তো অন্ত নেই - কোঁৎ কোঁৎ আবেগের চশমা, ধর্মের সম্প্রদায়ের রঙিন চশমা কতো আছে। ইলিয়াসের খোলা চোখের দৃষ্টি সমকালীনতার মূলটুকু দেখে নয়, দাঁত নখ সবই বাজপাখির মতো তড়িঘড়ি ও সোজাসুজি, আর ঠিক সেইটুকুই তিনি লিখতে বসে যান।’