Back

ⓘ বিছুটি




বিছুটি
                                     

ⓘ বিছুটি

বিছুটি হলো ইউফোরবিয়াসেই পরিবারের একটি উদ্ভিদ। বিছুটি কে উত্তর বঙ্গের লোকেরা ছোতরা পাতার গাছ/ছোতরা গাছ/চুলচুইল্লাগাছ বলে ডাকে। তবে এর শুদ্ধ নাম বিছুটি গাছ । এটি এমন একপ্রকার উদ্ভিদ যার পাতা/রস/পাতার গুড়ো শরীরে লাগলে শরীর চুলকানি শুরু হয়।

                                     

1. বর্ণনা

বিছুটি বৈজ্ঞানিক নাম: ত্রগিয়া ইভোলুকড়াটা হলো উদ্ভিদ জগতের ইউফোরবিয়াসেই পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এটি সপূষ্পক উদ্ভিদ । আর এরা সবুজ উদ্ভিদ । এই গাছটির পাতা, রস, পাতার গুড়ো প্রভৃতি যদি কোনো ক্রমে শরীরের কোথাও লেগে যায় তবে চুলকোতে শুরু করে। একপ্রকার অ্যালার্জীর মতো। পরে শরীরের সেই স্থান ফুলে যায়, রস হয়। গাছটির কাণ্ড জুড়ে অতি সূক্ষ্ম লোমের মত ট্রাইকোম বিস্তৃত থাকে। গাছের গায়ে স্পর্শ করলে ট্রাইকোমের অগ্রভাগ ভেঙে যায় এবং এর ভেতর থেকে হিস্টামিন, অ্যাসিটাইলকোলিন, সেরোটোনিন সহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। বিছুটি গাছ স্পর্শ করলেই যে হুল ফোঁটার মতো যন্ত্রণা অনুভূত হয়, তার জন্য এই রাসায়নিক পদার্থগুলোই দায়ী।

                                     

2. প্রচলিত নামসমূহ

  • কানাডা: ತುರಿಕೆ ಬಳ್ಳಿ তুর্কি বাল্লি।
  • ইংরেজি: Indian stinging nettle ইন্ডিয়ান স্টিঙ্গিং নেটল, climbing nettle ক্লাইম্বিং নেটল, canchorie root-plant
  • সংস্কৃত: दुःस्पर्ष দূস্পর্শ, वृश्चिकाच्छद ভেরিসচিকাস্সাদ, वृश्चिकापत्री ব্রিশ্চিকাপত্রি, वृश्चिकाली ব্রিশ্চিকালি, आगमावर्ता আগমাবত্র, कषाग्निः কাসাগনি
  • মালয়ালম: কডিতুম্বা, ছেরিকোটিতোবা, চরিয়ানাম, ചൊറിയണം চরিয়ানাম, কডিৎতোভা।
  • হিন্দি: पीत पर्णी পিত পারানি, बढन्त বারান্ত।
  • নেপালি: उट कटेरी উট কেটারী
  • তামিল: காஞ்சொறி কান্চরী / செந்தட்டி সেনতাত্তী।
  • অসমীয়া: ডুমুনি চুরাত
  • তেলুগু: తేలుకొండిచెట్టు তেলোকন্দিকেত্ত।
  • উরিষ্যা: ବିଛୁଆତିট্রান্সিলেসন, কাসালাক্কু।
  • মারাঠি: आग्या আগ্য, लघुमेडशिंगी লাঘুমেদশিঙ্গি, आग पान আগ পান, कळलावी কল্লভি।
  • বাংলা: বিছুটি এবং উত্তর বঙ্গের লোকেরা ছোতরা পাতা বলে। সাতক্ষীরা অঞ্চলে বেশোতক্তা বলে।
                                     

3. ঔষধি গুণ

ফল ও শিকড় প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, কুষ্ঠরোগ, চর্মরোগ, চুলপড়া, বুক ধড়ফড়ানি ইত্যাদি সমস্যায় নানাভাবে কাজে লাগে। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় মাথাব্যথায় উপকার পাওয়া যায়। গায়ে খোসপাঁচড়া ও ঘা বেশ উপকার পাওয়া যাবে। সর্দিকাশি, জ্বর ও ব্রঙ্কাইটিসে আধাকাপ পরিমাণ শিকড়ের রস দু-তিন দিন পান করলে উপশম হয়। চুলপড়া বন্ধ করতে গাছের শিকড় অল্প পানিতে পিষে আমলকীর রসের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগাতে হয়। এসব ছাড়াও গাঁটে বাত, কোষ্ঠবদ্ধতা, কাশি, হাঁপানি ও মামস সমস্যায় বিছুটির মূল ও ফল বেশ কার্যকর।