Back

ⓘ ডিক ওয়েস্টকট




                                     

ⓘ ডিক ওয়েস্টকট

রিচার্ড জন ওয়েস্টকট লিসবনে জন্মগ্রহণকারী পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ডিক ওয়েস্টকট ।

                                     

1. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত ডিক ওয়েস্টকটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে নিজস্ব তৃতীয় খেলায় সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে গাড়ী দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। ফলে, বামহাতে মারাত্মক আঘাত পান। তাসত্ত্বেও উচ্চমানের খেলা প্রদর্শনে সক্ষমতা দেখান।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ৮২ ও ৭১ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে বর্ডারের বিপক্ষে ১০১ ও ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ১৪০ রান তুলেন। আবারও তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন ডিক ওয়েস্টকট। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে ডারবানে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

অভিষেক ঘটা ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল তাদের তৎকালীন দলীয় সর্বোচ্চ ৫০৫ রান তুলে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ফলো-অনের কবলে পড়ে। স্বাগতিক দলের পক্ষে ডিক ওয়েস্টকট ৬২ রানের ইনিংস খেলে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে এ ইনিংসটিই তার খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ টেস্ট রানরূপে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু, পরের দুই টেস্টে তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। পরের খেলায় জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। প্রথম উইকেটে এ জুটি ১০৪ রান তুলে। তিনি ৪৩ রান সংগ্রহ করে আউট হন। ফলে, সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টেও তাকে দলে রাখা হয়।

পরের মৌসুমগুলোয় দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও ১৯৫৫ সালে বিদেশ কিংবা ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে স্বদেশে ইংরেজ দলের বিপক্ষে তাকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জাতীয় দলে আবারও খেলার সুযোগ পেলেও তিনি এর সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। তিন ইনিংসে সর্বমোট ১৮ রান তুলেন। সবগুলো রানই দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন। এ পর্যায়ে দলীয় সংগ্রহ ৯৯ রানে গুটিয়ে যাবাপর কেবলমাত্র ট্রেভর গডার্ডের ৫৬ রান বাদে কেবলমাত্র তিনিই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।

ডিক ওয়েস্টকট প্রথম পর্তুগালে জন্মগ্রহণকারী টেস্ট বহির্ভূত ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। এরপর ২০১৩ সালে পতুর্গীজ বংশোদ্ভূত মইসেস হেনরিকুইস অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

                                     

3. খেলার ধরন

ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে ভালোবাসতেন ডিক ওয়েস্টকট। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝে-মধ্যে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের পুরোটা সময় ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স দলের পক্ষে খেলেছেন। ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামলেও কার্যতঃ তিনি অল-রাউন্ডার ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলাপর আর তাকে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় খেলতে দেখা যায়নি। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ৮৬ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম কেপের হার্ম্যানাস এলাকায় ডিক ওয়েস্টকটের দেহাবসান ঘটে।

                                     

4. আরও দেখুন

  • টেস্ট বহির্ভূত দেশে জন্মগ্রহণকারী টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • জ্যাক চিদাম
  • ডেভিড আয়রনসাইড
  • দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিচি বেনো’র পাঁচ-উইকেট লাভের তালিকা