Back

ⓘ ফ্রেড প্রাইস




ফ্রেড প্রাইস
                                     

ⓘ ফ্রেড প্রাইস

উইলফ্রেড ফ্রেডরিক ফ্রেড ফ্রাঙ্ক প্রাইস লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ও আম্পায়ার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী উপস্থাপন করে গেছেন ফ্রেড প্রাইস ।

                                     

1. কাউন্টি ক্রিকেট

১৯২৬ থেকে ১৯৪৭ সময়কালব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল ফ্রেড প্রাইসের। এ সময়ে মিডলসেক্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। ১৯৩৭ সালে লর্ডসে অনুষ্ঠিত খেলায় ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সাতটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। এ রেকর্ডটি পূর্বেকার রেকর্ডের সমান ছিল।

সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ১৭.৩৫ গড়ে সর্বমোট ৬,৬৬৬ রান করেছেন। তিনবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন। ১৯৩৪ সালে অল্পের জন্যে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার গৌরবগাঁথা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। লর্ডসে কেন্টের বিপক্ষে ৯২ ও ১০৭ রান তুলেছিলেন। পূর্ববর্তী মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১১ রান তুলেন। ডাডলিতে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে প্যাটসি হেনড্রেনের সাথে ৩৩২ রান তুলেছিলেন। প্যাটসি হেনড্রেন করেছিলেন অপরাজিত ৩০১* রান। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৬৪৮ ক্যাচ ও ৩১৬টি প্রথম-শ্রেণীর স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজ নামকে জড়িয়ে রেখেছেন।

                                     

2. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন ফ্রেড প্রাইস। ২২ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে লিডসে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। একই টেস্টে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মারভিন ওয়েটেরও অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।

দুইবার বিদেশ গমন করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে সম্মানীয় ক্যালথর্পের নেতৃত্বে এমসিসি দলের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আঘাতপ্রাপ্ত মেজর রনি স্ট্যানিফোর্থের স্থলাভিষিক্ত হন। অপরটি স্যার থিওডোর ব্রিঙ্কম্যানের নেতৃত্বে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে দক্ষিণ আমেরিকায় টেস্টবিহীন সফরে তার অংশগ্রহণ ছিল।

                                     

3. আম্পায়ার

আম্পায়ার হিসেবে সর্বমোট আটটি টেস্ট খেলা পরিচালনা করেছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত আম্পায়ার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট খেলা পরিচালনায় প্রথমবারের মতো অগ্রসর হন।

আম্পায়ার হিসেবে তিনি যা ভাবতেন তা-ই সঠিক হিসেবে বিবেচনায় আনতেন। ওভালে বিজয় হাজারের নেতৃত্বাধীন সফরকারী ভারতের বিপক্ষে বোলিংকালীন সারে ও ইংল্যান্ডের স্পিন বোলার টনি লককে তিনবার বল ছোঁড়ার অভিযোগে নো-বলের শিকার হন। সারে-ইয়র্কশায়ারের খেলায় ঝগড়া থেমে যাবার পরও স্কয়ার-লেগ অঞ্চলে শুয়ে থেকে উঠতে অস্বীকার করেন।

                                     

4. মূল্যায়ন

স্ট্যাম্পের পিছনে বেশ দক্ষতার পরিচয় দেখিয়েছেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে অপর বিখ্যাত ক্রিকেটার লেস অ্যামিসের সময়কালকে ঘিরে ফ্রেড প্রাইসের খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল। ফলশ্রুতিতে, তার আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ অনেকাংশেই সীমিত পর্যায়ের ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

সমারসেটের সাবেক খেলোয়াড় ও টেস্ট আম্পায়ার এফ. এস. লি বেশ কয়েকবার প্রাইসের সাথে খেলা পরিচালনা করেছেন। তিনি প্রাইসের স্মরণে মন্তব্য করেন যে, তিনি বেশ ন্যায়পরায়ণ, ভালোমানের আম্পায়ার ও লেগ সাইডে দক্ষ উইকেট-রক্ষক ছিলেন।

১৩ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ৬৬ বছর বয়সে গ্রেটার লন্ডনের হেনডন এলাকার হাসপাতালে ফ্রেড প্রাইসের দেহাবসান ঘটে।

                                     

5. আরও দেখুন

  • ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার
  • এক টেস্টের বিস্ময়কারী
  • পল গিব
  • টেস্ট ক্রিকেট আম্পায়ারদের তালিকা
  • গ্লুচেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব