Back

ⓘ সালাতুল ইসতেখারা




                                     

ⓘ সালাতুল ইসতেখারা

সালাতুল ইসতেখারা হলো ঐ সালাত, যে সালাতের মাধ্যমে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর সাথে পরামর্শ করা হয়। মানুষ যখন কোনো কাজ বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা করে, কিন্তু স্থির করতে পারেনা কাজটি বাস্তবায়ন করবে না ছেড়ে দিবে? তখন ইস্তেখারার সালাত আদায় করা সুন্নাত। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পূর্বে ইস্তেখারা করে নেওয়া ছিলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণের আমল। সুতরাং মুমিনদের উচিৎ প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে ইস্তেখারা করে নেওয়া। বিশেষকরে বিবাহ-শাদি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশ ভ্রমণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বৈধ কাজসমূহের ক্ষেত্রে।

এছাড়া শরিয়ত সম্মত নয় এমন কাজ কিংবা কোনো হারাম কাজ হাসিলের ক্ষেত্রে ইশতেখারা করা যায়না। শুধু বৈধ কাজের ক্ষেত্রেই ইস্তেখারা করা সুন্নাত। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হচ্ছে, কোনো হারাম কাজ পরিত্যাগ করবে কি করবেনা কিংবা খানা পিনা, ঘুমানো এসব কাজে ইস্তেখারা শরিয়ত সম্মত নয়। কেননা এগুলো তো মানুষের সাধারণ ইচ্ছা এবং দৈনন্দিন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এসব ক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ইশতেখারা করেন নি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক কাজই করতেন। কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছা পোষন করার পরই আল্লাহর উপর ভরসা করে তা করে ফেলতেন ।

কাজেই যে ব্যক্তি স্রষ্টার কাছে কল্যাণ চাইবে, মুমিনদের সাথে পরামর্শ করবে এবং যে কোনো কাজ করার আগে খোঁজ-খবর নিয়ে করবে, সে কখনো অনুতপ্ত হবে না। কেননা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,

وَشَاوِرْهُمْ فِيْ الْاَمْرِ ۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَيْ اللّٰهِ

আর আপনি কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোনো দৃঢ় সংকল্প হলে আল্লাহ্‌র উপর নির্ভর করুন।

                                     

1. ইসতেখারার সালাত আদায়ের নিয়ম

প্রথমেই উল্লেখ্যঃ নিষিদ্ধ ওয়াক্তগুলো এই তিন সময় ছাড়া বাকী যেকোনো সময় ইস্তেখারার সালাত আদায় করা যাবে।

ইসতেখারার সালাত আদায়ের নিয়ম হচ্ছে, দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে। এতে বিশেষ কোনো নির্ধারিত সূরা নেই যে এই সূরা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহার সাথে যে কোনো সূরা মিলিয়ে পড়লেই হবে। এভাবে সাধারণ নফল নামাযের মত করে দুই রাকাআত নামায আদায় করবে। সালাম ফিরানোপর নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে।

দুআটি মুখস্ত করে আরবিতে পড়লে উত্তম। আর তা সম্ভব না হলে দেখে দেখেও পড়া যাবে। আরবী না জানলে বাংলাতেও দুআ করা যাবে।

                                     

2. ইস্তেখারার সালাতের দো‘আ

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক কাজেই ইসতিখারা তথা কল্যাণ কামনার নামায ও দো‘আ শিক্ষা দিতেন, যেরূপ আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।

তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন ফরয নামায ব্যতীত দুই রাক্আত নফল নামায পড়ে, অতঃপর যেন বলে,

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيْمِ ; فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلاَّمُ الغُيُوْبِ;

اللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأمْرَ وَيُسَمِّيْ حَاجَتَهُ خَيْرٌ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ ;

وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِيْ بِهِ

                                     

3. আরবি উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামূল গুয়ূব।

আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আম্‌রা মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন খাইরুন লী ফী দীনি ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, অথবা বলেছেন‘আজিলিহী ও আজিলিহী, ফাকদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, ছুম্মা বা-রিক লী ফীহি।

ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন শাররুন লী ফী দীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল-খাইরা হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহ্

                                     

4. বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের সাহায্যে আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহের প্রার্থনা করছি। কেননা আপনিই শক্তিধর, আমি শক্তিহীন। আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং আপনি গায়েবী বিষয় সম্পর্কে মহাজ্ঞানী।

হে আল্লাহ! এই কাজটি এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি মনে মনে উল্লেখ করবে আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে, অথবা বলেছেন ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং তাকে আমার জন্য সহজলভ্য করে দিন, তারপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন।

আর এই কাজটি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে, অথবা বলেছেন ইহকাল ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং যেখানেই কল্যাণ থাকুক আমার জন্য সেই কল্যাণ নির্ধারিত করে দিন। অতঃপর তাতেই আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।

অতঃপর মন যে কাজের দিকে ঝুঁকবে মনে করবে সেটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা। তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ভরসা করে সেই কাজের প্রতি অগ্রসর হবে।

উল্লেখ্যঃ ইস্তেখারা করাপর স্মপ্নে কোনোকিছু দেখা বা নির্দেশনা লাভ করা জরূরী নয়। এবং শুধুমাত্র ঘুমাবার আগে এই সালাত পড়তে হবে মর্মেও কোনো সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায়না। কাজেই এসব আমল বর্জনীয়। সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি। এবং উপরোল্লিখিত পদ্ধতিতেই রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ আমল করেছেন। এবং এটাই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। আল্লাহু আলাম।

Users also searched:

...