Back

ⓘ দ্য মিশনারি পজিশন: মাদার টেরিজা ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস




                                     

ⓘ দ্য মিশনারি পজিশন: মাদার টেরিজা ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস

দ্য মিশনারি পজিশন: মাদার টেরিজা ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস হল ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হিচেন্সকর্তৃক রচিত, ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। ১২৮ পৃষ্ঠার প্রবন্ধগ্রন্থটি ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক মেরি টেরিজা বোজাঝিউ-এর কর্ম ও দর্শনকে সমালোচনা করে রচিত।

একজন গ্রন্থসমীক্ষক গ্রন্থটির সারাংশ করে বলেছিলেন, গরিবদের অনিঃশেষ দুর্দশার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে মৌলবাদী ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মবিশ্বাসকে ছড়িয়ে দিতে টেরিজা যতটা আগ্রহী ছিলেন, ততটা তাদের দারিদ্র্য লাঘবে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

                                     

1. পটভূমি

হিচেন্স টেরিজা বোজাঝিউকে সমালোচনা করেছেন কয়েকবার । দ্য নেশন -এ ১৯৯২ সালে প্রকাশিত একটি কলামে হিচেন্স টেরিজার সমালোচনা করেন। ১৯৯৩ সালে একটি সাক্ষাৎকারে হিচেন্স বলেন, আমরা অন্যদের ধর্মবিশ্বাসকে কুসংস্কার বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি অথচ নিজেদের ধর্মবিশ্বাস ও সন্তদের সমালোচনা সাহস পাই না। ১৯৯৪ সালে তিনি একটি ব্রিটিশ চ্যানেলে তিনি হেলস এঞ্জেল নরকের দেবদূত নামে প্রামাণ্য তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।

                                     

2. সারাংশ

গ্রন্থটির ভূমিকায় টেরিজা হাইতির স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রপতি জঁ ক্লদ দুভেলিয়েরের কাছ থেকে পুরষ্কারগ্রহণ প্রসঙ্গে আলোচনা করে হিচেন্স বলেছেন, দুর্নীতিবাজ দুভেলিয়েরের পরিবারের সাথে টেরিজার দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল এবং টেরিজা তাদের পরিবারের স্তুতি গেছেন। হিচেন্স বিশ্বের অন্যান্য কুখ্যাত ব্যক্তির সাথে টেরিজার সুসম্পর্ক বজায় রেখে অনুদান গ্রহণকে সমালোচনা করে তার সাধু ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

প্রথম অধ্যায়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত টেরিজার ভাবমূর্তি হিচেন্স আলোচনা করেন, বিশেষত ১৯৬৯ সালে বিবিসিতে প্রচারিত তথ্যচিত্র সামথিং ওয়ান্ডারফুল ফর গড যা টেরিজাকে পশ্চিমা গণমাধ্যমের পাদপ্রদীপে নিয়ে এসেছিল। সামথিং ওয়ান্ডারফুল ফর গড- এ নির্মাতা ম্যালকম ম্যাগারিজ দাবি করেন টেরিজার মৃত্যুপথযাত্রী আলয়ের অন্ধকার কক্ষও যে ক্যামেরা দেখা যাচ্ছে তা একটি অলৌকিক ঘটনা। হিচেন্স তথ্যচিত্রের চিত্রগ্রাহকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন ম্যাগারিজ যা অলৌকিক ঘটনা বলে দাবি করেছেন তা বস্তুত সাম্প্রতিক ও উন্নত ক্যামেরার ব্যবহারের ফল। হিচেন্স আরও বলেন, কলকাতাকে যেভাবে দারিদ্র্যময় দেখিয়ে নরককুণ্ড বলা হয়েছে তাও সঠিক নয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে হিচেন্স বলেন, টেরিজা নিজের খ্রিষ্ট ধর্মবিশ্বাস ও যশ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, গণমাধ্যমের প্রচারিত হয়ে থাকে টেরিজা দুঃস্থদের সেবা করছেন।

  • হিচেন্সের মতে, টেরিজা কুখ্যাত, দুর্নীতিবাজ প্রতারকদের কাছ থেকে বড় বড় অনুদান নিয়েছেন। যেমন, টেরিজাকে এক মিলিয়ন ডলার অনুদানকারী চার্লস কিটিং ঋণ জালিয়াতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে টেরিজা বিচারককে কিটিং-এর চারিত্রিক সদগুণ কীর্তন করে চিঠি দিয়েছিলেন। টেরিজাকে কিটিং-এর ২৫২ মিলিয়ন ডলার ঋণ জালিয়াতির তথ্যপ্রমাণ পাঠানো হলেও তিনি অনুদান ফেরত দেননি।
  • হিচেন্স টেরিজার আশ্রয়শালায় ব্যথানাশকের অভাব, রোগ নির্ণয়ের ন্যূনতম ব্যবস্থার অনুপস্থিতি তথা চিকিৎসার মানের সমালোচনা করেছেন। হিচেন্স বলেন ধর্ম ও মানবসেবার সংঘাত দেখা দিলে তখন ধর্মের জয় হয়। হিচেন্স বলেন, টেরিজার ধর্মপ্রচারক সংঘ মৃত্যুপথযাত্রীদের খ্রিষ্টান ধর্মান্তর করে।
  • হিচেন্স টেরিজার গর্ভপাতবিরোধিতার সমালোচনা করেন। টেরিজা ধর্ষিতাদেরও গর্ভপাত করতে দিতে অনীহ ছিলেন। টেরিজা তার নোবেল ভাষণে বলেন, "গর্ভপাত বিশ্বশান্তির সবচেয়ে বড় শ্ত্রু।

তৃতীয় অধ্যায়ে হিচেন্স দেখান যে ক্ষমতাহীনের সাথে ক্ষমতাবানের লড়াইয়ে সবসময় ক্ষমতাবানের পক্ষ নিয়েছেন, যেমন ভোপালের বিপর্যয়ে ইউনিয়ন কার্বাইডের পক্ষ নিয়েছেন, রোনাল্ড রিগানের সমর্থন করেছেন, এমনকি নিকারাগুয়া গিয়ে সন্ডিস্টাদের বিরুদ্ধে টেরিজা সিআইএ-সমর্থিত কন্ট্রাদের সমর্থন দিয়েছেন।