Back

ⓘ আব্দুল কাদির




আব্দুল কাদির
                                     

ⓘ আব্দুল কাদির

কর্ণেল আব্দুল কাদির হেরাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে একজন পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষিত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। এই অভ্যুত্থানের ফলে মহম্মদ দাউদ খানের রাষ্ট্রপতিত্বে তৈরী হয় আফগানিস্তান প্রজাতন্ত্র। ১৯৭৮ সালে, তিনি আফগান এয়ার ফোর্স স্কোয়াড্রনের নেতা ছিলেন, যারা সাওর বিপ্লবের সময় রেডিও-টিভি স্টেশন আক্রমণ করেছিল। যখন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান ক্ষমতায় আসে, তিনি তিন দিনের জন্য দেশের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আফগানিস্তান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি ঘোষণা করেন।

                                     

1. ১৯৭৩ সালের প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ দাউদ খান, সশস্ত্র বাহিনীর বাহিনী প্রধান জেনারেল আবদুল করিম মুস্তাঘানিকে নিয়ে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। দাউদ, আমূল ভূমি সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলোর বৈধতা দান এবং অন্যান্য সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দাউদের সরকার পারচামকে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান চারজন মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। পারচামের সদস্য হিসেবে, কাদির আফগান এয়ার ফোর্সের ভাইস-কমান্ডার মনোনীত হন, অন্যদিকে আর এক পারচাম সমর্থক, মেজর জিয়া মহম্মদজি জিয়া, আফগান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। কিন্তু ১৯৭৪ সালের মধ্যে দাউদ, সরকারের অনেক পারচাম মন্ত্রীকে সরিয়ে দেন বা তাদের পদাবনতি ঘটান। এভাবে কাদিরকে কাবুল সামরিক বাহিনীর কসাইখানার প্রধান করা হয়। মেজর কাদিরসহ, অনেক পারচাম সমর্থক, খালকের অনুগামী হয়ে ওঠেন।

এপ্রিল ১৯৭৮ সালে দাউদ ও তার কট্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জেনারেল আব্দুল কাদির খান নুরিস্তানি, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আফগানিস্তান পিডিপিএ-এর ওপর কঠোর সরকারী ব্যবস্থা চালু করেন। এটি একটি ভুল পদক্ষেপ প্রমাণিত হয়। মেজর কাদির ও আর এক নেতৃস্থানীয় পিডিপিএ সামরিক সদস্য, কর্নেল মহম্মদ আসলাম ওয়াটানজার, কোন-ক্রমে গ্রেপ্তার এড়ান এবং ২৭শে এপ্রিলের ভোরে, হাফিজুল্লাহ আমিন অভ্যুত্থান পুনঃসূচনা করার আদেশ লুকিয়ে বার করে আনেন।

                                     

2. সাওর বিপ্লব

তিনি, রাষ্ট্রপতি দুর্গ আর্গ এবং রাষ্ট্রপতি মহম্মদ দাউদ খানেরর রাজকীয় প্রাসাদ আক্রমণের আদেশ দেন। স্থলভাগে ট্যাংক কমান্ডার ছিলেন, চতুর্থ ট্যাঙ্ক ব্রিগেডের প্রথম ব্যাটেলিয়নের কর্নেল আসলাম ওয়াটানজার। সকলে মিলে, সৈন্যরা, তাদের অধীনে কাবুল দখল করে। সরকারের পতন হয়, এবং দাউদকে হত্যা করা হয়।

২৭শে এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় কাদির, রেডিও আফগানিস্তানে, দারি ভাষায় একটি ঘোষণা করেন, যে তার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিপ্লবী কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের নীতির প্রাথমিক বিবৃতি, ২৭শে এপ্রিল সন্ধ্যায় দেরিতে ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল কোন অঙ্গীকার ছাড়াই ইসলামিক, গণতান্ত্রিক এবং অপক্ষপাতী আদর্শের অনুমোদন:

আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবার, রেডিওতে ঘোষণা হয়, রাজতন্ত্র, স্বৈরশাসন, স্বৈরতন্ত্রের শেষটুকুও. শেষ হয়েছে, এবং রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা আফগানিস্তানের জনগণের হাতে রয়েছে।

তিনি নিজে, হাফিজুল্লাহ আমিন ও মেজর মহম্মদ আসলাম ওয়াটানজার মিলে রেভলিউশনারি কাউন্সিল গঠন করেন, একটি বেসামরিক সরকার গঠিত না হওয়া এটি পর্যন্ত দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ৩০শে এপ্রিল নবনির্মিত পিডিপির বিপ্লবী কাউন্সিল নূর মহম্মদ তারাকি এবং বাবরাক কারমালের নেতৃত্বে অবশ্যম্ভাবী ফরমানগুলোর মধ্যে প্রথমটি জারি করে। এই ফরমানে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বিপ্লবী কাউন্সিল বিলুপ্ত করা হয়। ১লা মে জারি দ্বিতীয় ফরমানে, প্রথম ক্যাবিনেটের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে কাদিরের নাম প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

                                     

3. খালক সরকারের সদস্যগণ

১৯৭৮ সালের মে মাসে থেকে শুরু করে, তিন মাসের জন্য, তিনি প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ৬ই মে, কাদির, কিভাবে গ্রেফতার করা সব মানুষের সঙ্গে আচরণ করা উচিত, সে বিষয়ে সোভিয়েত কমান্ডারদের পরামর্শ চান। ১৭ই আগস্ট, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন, ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করার জন্য কাদির গ্রেপ্তার হন। এটি বিদেশে নির্বাসিত পারচামদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। যেহেতু কাদির সেনাবাহিনীতে জনপ্রিয় ছিলেন, রাষ্ট্রপতি তারাকি তাকে মেরে ফেলার সাহস করেননি এবং পরিবর্তে তাকে পনের বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল।

নিজেদের হাতে সব শক্তি কেন্দ্রীভূত করার জন্য, তারাকি এবং হাফিজুল্লাহ আমিন কিছু নীতি নিয়েছিলেন। যাঁদের তারা এই কাজে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন, এটা যে তাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে, তা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী আমিন পরে রিপোর্ট দেন:

দল কাদিরকে সত্যকারের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তৈরী করতে পারেনি, যিনি যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। এটা আমাদের ভুল ছিল।

                                     

4. পারচাম সরকারের সদস্যগণ

১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণে হাফিজুল্লাহ আমিনের হত্যার পরে, বাবরাক কারমালের নতুন শাসন ব্যবস্থায়, কাদির জেল থেকে মুক্তি পেলেন। জেলে যাবার আগে তিনি পিডিপিএ-তে যে রাজনৈতিক পদে ছিলেন তাও ফিরে পেলেন। তিনি আবার বাবরাক প্রশাসনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ১৯৮২-১৯৮৫ হিসেবে কাজ করেন।

সোভিয়েত আক্রমণের পর, কাবুল অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেতু অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, শহরে ঢোকার পথে, প্রতি রাস্তায়, প্রতিবন্ধক খাড়া করা হয়েছিল এবং লুকিয়ে অতর্কিত আক্রমণের জন্য বাহিনী তৈরি রাখা হয়েছিল। কাদিরকে শহরের কমান্ডার করা হয়। দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, তিনি ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে পলিটব্যুরো থেকে পদত্যাগ করেন, এক বছর পরে, রাষ্ট্রপতি মহম্মদ নাজিবুল্লাহ, তাকে পোল্যান্ডের ওয়ারশতে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন। ১৯৮৮ সালে তাকে আফগানিস্তানে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সংসদে নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারেপর বিশ্বাস করা হয়েছিল যে তিনি বুলগেরিয়া পালিয়ে গেছেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।