Back

ⓘ ভাস্কর্য একতারা




ভাস্কর্য একতারা
                                     

ⓘ ভাস্কর্য একতারা

একতারা হচ্ছে একজাতীয় বাঙালি লোকবাদ্যযন্ত্র। এক তারবিশিষ্ট বলে একে একতারা নামে অভিহিত হয়। একসময় এর নাম একতন্ত্রী বীণা ছিল বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়। আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির স্বকীয়তা আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যে বাদ্যযন্ত্রটি আদি ও অকৃত্রিমভাবে বহমান রয়েছে তার নাম একতারা। এই বাদ্যযন্ত্রটির বাদন ভঙ্গি আর সুরের মূর্ছনায় আজো খুঁজে পাওয়া যায় মাটির ঘ্রান। এখনো এদেশের গ্রাম-গ্রামান্তর আর নগরে পাড়ি জমানো নগর বাউলদের কাছে শুনতে পাওয়া যায় এ বাদ্যযন্ত্রের বোল। আর মাত্র একটি তারের তৈরি এ বাদ্যযন্ত্রটি দিয়ে বাউল সাধকেরা সুরের যে বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলেন তা সত্যিই বিস্ময়কর।

একতারা আবিষ্কারের ইতিহাস সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হয় প্রায় ১০০০ বছর ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। আর এ যন্ত্রটি যে সম্পূর্ণ আমাদের দেশের আবহতেই তৈরি হয়েছে তা এর উপকরণের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।

বাউল সম্রাট লালন শাহের জন্মস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু শহরে স্থাপিত হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক ভাস্কর্য ‘একতারা’। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত একতারা ভাস্কর্যটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন একতারা ভাস্কর্যটি মনে করা হচ্ছে বিশ্বের সুউচ্চ বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক ভাস্কর্য। যার উচ্চতা মাটি থেকে ২৬ ফুট আর বেদি থেকে ২২ ফুট।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ মজিদ জানান, ঝিনাইদহ সাংস্কৃতিসেবীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল লালনের নিজ শহরে একটি একতারা ভাস্কর্য নির্মাণের। সংস্কৃতি কর্মীদের দাবি পূরণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

তিনি বলেন, এই একতারা ভাস্কর্যটি নির্মাণ করতে তার পরিষদ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র শাওন সরদার ও অন্ত ১৫ দিন সময় নিয়ে একতারা ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন- যা এখন জেলাবাসীর কাছে গর্বের বিষয়।

হরিণাকুণ্ডু শহরে লালনের একতারা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের পুরোধা ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী একরামুল হক লিকু বলেন, লালনের জন্মভূমি হরিশপুর ও শহর হরিণাকুন্ডুতে একতারা ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। একতারা ভাস্কর্যটি হল বাংলা লোক সংগীতের আদি বাদ্য যন্ত্র।এটা হজার বছেরের লোক সংগীতের যে ধারা সেটা আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের স্মারক হয়ে দন্ডায়মান থাকবে।