Back

ⓘ এস এম শ্রীনাগেশ




এস এম শ্রীনাগেশ
                                     

ⓘ এস এম শ্রীনাগেশ

জেনারেল সত্যবন্ত মাল্লান্না শ্রীনাগেশ একজন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ১৯৫৫ সালের ১৪ই মে থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ মে তারিখ পর্যন্ত ভারতের চীফ অব দ্যা আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তিনি ছিলেন ৩য় সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণেপর শ্রীনাগেশ আসামের গভর্নর হিসেবে ১৯৫৯ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং পুনরায় একই প্রদেশে ১৩ জানুয়ারী ১৯৬১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ সাল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্ধ্র প্রদেশ এবং তৎকালীন মাইশোর রাজ্যের গভর্নরও ছিলেন জেনারেল শ্রীনাগেশ।

                                     

1. পূর্ব জীবন এবং শিক্ষা

মহারাষ্ট্র প্রদেশের কোলহাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন শ্রীনাগেশ। তার বাবার নাম ছিলো ডক্টর শ্রীনাগেশ মাল্লান্নাহ, কন্নড়ভাষী ব্রাহ্মণ এই পরিবারের খুব নাম ছিলো। ডক্টর শ্রীনাগেশ অর্থাৎ জেনারেল শ্রীনাগেশের পিতা হায়দ্রাবাদের নিজাম উসমান আলি খান, সপ্তম আসাফ জাহ এর অধীনে চাকরি করতেন একজন ডাক্তার হিসেবে। শ্রীনাগেশ ইংল্যান্ডের পশ্চিম বাকল্যাণ্ড স্কুল এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যায়ন করেন।

শ্রীনাগেশ যখন রাজকীয় সামরিক বিদ্যাপীঠ, স্যান্ডহার্স্ট এ যোগদানের সুযোগ পান তখন খুব সামান্য ভারতীয় যুবকই ওখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলো। ১৯২৩ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি পান এবং ঐ বছরই তিনি কোয়েটা কাপ পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ ভারতীয় যুবক যিনি সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছেন।

                                     

2. প্রাথমিক সামরিক জীবন

১৯২৩ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে শ্রীনাগেশের সামরিক কমিশন পাকাপোক্ত করা হয়। প্রথমে শ্রীনাগেশ ২য় লেফটেন্যান্ট হিসেবে নর্থ স্ট্যাফোর্ডশায়ার রেজিমেন্টে নিয়োগ পান। এরপর তিনি ১ম মাদ্রাজ পায়োনিয়ার্সের দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নে আসেন, এই ব্যাটেলিয়নটি বার্মায় ছিলো এবং পরে এটি ভেঙে দেওয়া হয়। ১৯২৫ সালের ৩০ নভেম্বর লেফটেন্যান্ট এবং ১৯৩২ সালের ৩০ আগস্ট ক্যাপ্টেহন তিনি। ১৯৩৩ সালে তিনি ১৯তম হায়দ্রাবাদ রেজিমেন্টের ৪র্থ ব্যাটেলিয়নে নিয়োগ পান, এই ব্যাটেলিয়নটি সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এবং ক্যাপ্টেন শ্রীনাগেশ ব্যাটেলিয়নটির এ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৩৫ এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে অর্থাৎ তার পরবর্তী নিয়োগ হয় ভারতীয় সামরিক একাডেমীতে, এখানে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

                                     

3. পরবর্তী সামরিক জীবন

১৯৪০ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ শ্রীনাগেশ মেজর র‍্যাঙ্কে উন্নীত হন। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ১৯তম হায়দ্রাবাদ রেজিমেন্টের ৬ষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। ১৯৪২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ভারপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং ২৭ মার্চ ১৯৪৩ তারিখে অস্থায়ী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবী চিহ্ন পরিধান করেন। ১৯৪৫ সালের আগস্ট থেকে শ্রীনাগেশ ১৯তম পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৬৪ পদাতিক ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পান ভারপ্রাপ্ত কর্নেল পদবীতে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের বছরে তিনি ২৬৮ পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন, তার পদবী এই সময় ব্রিগেডিয়ার ছিলো। এরপর ভারপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হয়ে মাদ্রাস এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে শ্রীনাগেশ সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে এ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হন এবং ঐ বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই দায়িত্বে থাকেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হয়ে তিনি ৫ম কোরের অধিনায়ক হন।