Back

ⓘ ফার্মগেট




ফার্মগেট
                                     

ⓘ ফার্মগেট

ফার্মগেট ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক এলাকা। এটি ঢাকা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং সর্বাধিক জনবহুল একটি এলাকা। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, এই এলাকায় বিশাল ভবন নির্মাণ হতে থাকে। ফলস্বরূপ, এলাকাটি বাণিজ্যিক গুরুত্ব অর্জন করেছে এবং ঢাকা শহরের প্রধান পরিবহন কেন্দ্রস্থলের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। এখানে ঢাকা মেট্রো রেলের লাইন ৬-এর একটি স্টেশন আছে। বর্তমানকালে ফার্মগেট আবাসিক এলাকা তুলনায় একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। ফার্মগেটে আশেপাশের স্থানগুলি হচ্ছে কারওয়ান বাজার, পান্তপথ, জাতীয় সংসদ ভবন, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, ইন্দ্রিরা রোড, মোস্তফা রোড, জাহানারা গার্ডেন, চন্দ্রিমা উদ্যান, শেরে বাংলা নগর এলাকা ইত্যাদি।

                                     

1. নামকরণ

কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল। সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম ফার্মগেট হয়। খামারের ফটক ময়মনসিংহ সড়ক এখন পুরাতন বিমানবন্দর সড়ক নামে পরিচিত এ অবস্থিত ছিল। ঢাকার বর্তমান গ্রীন রোড থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত বিরাট এলাকা জুড়ে তখন তৎকালীন কৃষি বিভাগের অধীনে একটি ফার্ম ছিলো। তার নাম ছিল মণিপুর ফার্ম। ফার্মের প্রধান প্রবেশ পথ থেকেই ফার্মগেট নামের উৎপত্তি। মণিপুর ফার্মে তখন বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য এবং দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন হতো। ফার্মের অধীনে ছিল হাজার খানেক উন্নত জাতের গরু। গো-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃষি কাজের জন্য ছিল বহু মনিপুরী ও সাঁওতাল শ্রমিক। তাদের একাংশ বিভিন্ন স্থানে কুলীর কাজও করতো। ফার্মগেটের আশেপাশের এলাকা এবং বর্তমান গ্রীন রোডের দুপাশে ছিল তাদের বসতি। মণিপুরি নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমিকেরা সেখানে বসবাস করতো, সেই স্থানটি পরবর্তীতে মণিপুরী পাড়া নামে পরিচিতি লাভ করে। আর বর্তমান গ্রীন রোডের নাম ছিল তখন কুলী রোড। মেঠো রাস্তার দুপাশে ছিল বাঁশবন ঘেরা জঙ্গল। সেই আমলে সমগ্র ভারতে মণিপুর ফার্ম ছিল সবচেয়ে বড় এবং একটি স্বনামধন্য কৃষি প্রতিষ্ঠান।

                                     

2. দর্শনীয় স্থান

  • হলি রোজারি চার্চ - ১৬৭৭ সালে নির্মিত এই চার্চটি ঢাকার অন্যতম খ্রিস্টান চার্চ। পর্তুগীজ ও রোমান স্থাপত্য শিল্পের অদ্ভুত মিশেলে তৈরি করা হয়েছিল চার্চটি। ঢাকায় পর্তুগীজদের এইটাই শেষ স্মৃতি। ফার্মগেট থেকে তেজগাঁওমুখী রাস্তা ধরে সামান্য এগোলেই হলিক্রস স্কুলের ঠিক পাশেই এবং বটমলী হোমস গার্লস হাই স্কুলের বিপরীতে এই হলি রোজারি চার্চ অবস্থিত। এর আরেক নাম পবিত্র জপমালা রাণীর গির্জা-যা জনসাধারণের কাছে তেজগাঁও গির্জা হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়-পর্তুগীজ আমলে এই গির্জা তখন পর্তুগীজদের দুর্গ ছিল, পরে এখানে গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি আছে যে, এককালে এই গির্জার ঠিক পেছনেই বুড়িগঙ্গা নদী প্রবাহিত হতো।
  • বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর - বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী ইতিহাস সাফল্য ও সক্ষমতা তুলে ধরতে ১৯৮৭ ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের প্রবেশমুখে সংক্ষিপ্ত পরিসরে একটি সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থান সংকুলান ও দর্শকের চাহিদার কথা বিবেচনা করে জাদুঘরটি ফার্মগেটের সন্নিকটে বিজয় সরণি মোড়ের নিকট স্থানান্তর করা হয়। ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি অভিমুখে এগিয়ে বাম দিকে একটুখানি হাঁটলেই হাতের বাম পাশে সামরিক জাদুঘর পড়ে।
                                     

3. শিক্ষা

ফার্মগেটে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সর্বাধিক পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত উচ্চ স্কুল, হলি ক্রস কলেজ, আইডিয়াল কমার্স কলেজ, আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বটমলি হোম গার্লস হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও কলেজ ইত্যাদি। এছাড়া এই এলাকা বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন স্কুল এর জন্যে জনসাধারণের কাছে সুপরিচিত। শিক্ষার্থীদের কাছে অতি পরিচিত দুটি কোচিং সেন্টার হচ্ছে-ইউ.সি.সি. এবং ম্যাবস কোচিং সেন্টার। গ্রাম এবং মফস্বল এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা সুবিধার তাগিদে এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে অবস্থিত হোস্টেলে অবস্থান করেন।