Back

ⓘ স্টুই ডেম্পস্টার




স্টুই ডেম্পস্টার
                                     

ⓘ স্টুই ডেম্পস্টার

চার্লস স্টুয়ার্ট স্টুই ডেম্পস্টার ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ও কোচ ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন, স্কটল্যান্ড এবং প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন স্টুই ডেম্পস্টার ।

                                     

1. প্রারম্ভিক জীবন

স্কটিশ পিতা-মাতা চার্লস ডেম্পস্টার ও এলিজা জেমিমা ওয়েভার্স দম্পতির সন্তানরূপে ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনের প্রথম তিন দশক ওয়েলিংটনে পার করে দেন। এ সময়ে নিকটস্থ স্থানীয় ক্রিকেট মাঠ ব্যাসিন রিজার্ভে খেলতেন। শুরুরদিকেই এ খেলাটির দিকে আগ্রহ জন্মায়। তরুণ অবস্থায় ওয়েলিংটন বয়েজ ইন্সটিটিউট দলের মাধ্যমে খেলা শুরু করেন। বাবার উৎসাহ-উদ্দীপনা ও পরামর্শে শতরান করতে থাকেন। প্রতিটি শতরানের জন্য বাবার কাছ থেকে ৫ শিলিং করে অর্থ পেতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা সময়কালে দশটি ইনিংসের মধ্যে নয়টি শতরান করেন। বাদ-বাকী ইনিংসটিতে ৯৯ রান তুলেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, তার প্রতি স্থানীয় প্রাদেশিক দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

                                     

2. প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট

১৯২১-২২ মৌসুমে ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে স্টুই ডেম্পস্টারের। নববর্ষের দিনে ব্যাসিন রিজার্ভে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি ১০ ও ১ রান তুলেছিলেন। ১৯২৭ সালে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। তবে ঐ সফরে কোন টেস্ট খেলায় অংশ নেয়নি তার দল। তবে সফরে দলের প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ব্যাটিং গড়ে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। শুরুরদিকে দলের বাইরে ছিলেন। কিন্তু দল নির্বাচকমণ্ডলী আকস্মিকভাবে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করে মূলতঃ দ্বিতীয় শ্রেণীর খেলায় তার চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে এমসিসি দল নিউজিল্যান্ড সফরে আসে। ডেম্পস্টার ও জন মিলস প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন ও ২৭৬ রান তুলেন। তাদের সংগৃহীত এ রান ১৯৭২ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। ১৯৩১ সালে নিউজিল্যান্ড দল ইংল্যান্ড সফরে যায়। লর্ডস টেস্টে ১২০ রানের ইনিংস উপহার দেন। ২৩০ রানে নিউজিল্যান্ড দল পিছিয়ে ছিল। তৃতীয় উইকেটে কার্লি পেজের সাথে ১১৮ রান তুলেন।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। খেলায় তিনি অপরাজিত ৮৩ রান তুলেছিলেন।

                                     

3. ইংল্যান্ড গমন

এরপর ডেম্পস্টার ইংল্যান্ডের দিকে পা বাড়ান। ১৯৩৩ সালে লিন্ডসে পার্কিনসন্স একাদশ দলের সদস্যরূপে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও একবার স্কটল্যান্ডের পক্ষে ১৯৩৪ সালে খেলেন। ১৯৩৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডে বসবাস করতে থাকেন স্টুই ডেম্পস্টার। লিচেস্টারশায়ারের ধনাঢ্য ব্যক্তি স্যার জুলিয়েন কানের সাথে তার ব্যক্তিগত দলের পক্ষে খেলার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হন। এ সময় ডেম্পস্টার লিচেস্টারশায়ার দলে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন। ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত দলের অধিনায়কেরও দায়িত্বে ছিলেন। তবে, ১৯৩৮ ও ১৯৩৯ সালে অনিয়মিতভাবে খেলেন তিনি। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে কান একাদশ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন।

এরফলে তিনি কাউন্টি ক্রিকেটে শৌখিন খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান ও এরপর কাউন্টি দলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, কানের মনোনীত কর্মী হিসেবে লিচেস্টারে আসবাবপত্রের দোকানে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন। সেখানে অবস্থানকালেই লিচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী এক তরুণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

                                     

4. যুদ্ধ-পরবর্তী সময়কাল

যুদ্ধ চলাকালীন কাউন্টি ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলতেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হবার পরপরই তিনি দল ত্যাগ করেন। ১৯৪৬ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে তিন খেলায় অংশ নেন। এরপর নিউজিল্যান্ডে চলে যান ও কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে খেলার জন্য মনোনীত হন স্টুই ডেম্পস্টার। কিন্তু খেলা শুরুর পূর্বরাত্রে চোখে আঘাতপ্রাপ্তির কারণে দল থেকে নিজ নাম প্রত্যাহার করে নেন। তবে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ডেম্পস্টার ওয়েলিংটনের পক্ষে সর্বশেষ খেলায় অংশ নেন। ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত খেলায় অকল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৭ ও ৪১ রান তুলেছিলেন।

                                     

5. অর্জনসমূহ

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়ের অধিকারী তিনি। পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ী জীবনে ১০ বা ততোধিক ইনিংস খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের পরই তিনি এ অনন্য সাধারণ অর্জনে স্বীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন।

১৯৩২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় অভিষিক্ত হন তিনি।

খেলার জগৎ থেকে অবসর নেয়াপর ওয়েলিংটনে অনেকগুলো বছর প্রথিতযশা কোচের মর্যাদা লাভ করেন। তন্মধ্যে, ব্রুস এডগার ও ইয়ান স্মিথের ন্যায় খেলোয়াড়েরা তার ছাত্র হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।

                                     

6. আরও পড়ুন

  • জেমস ল্যাংগ্রিজ
  • ইয়ান কলকুহন
  • নিউজিল্যান্ডীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের তালিকা
  • লিচেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব
  • নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ক্রিকেট দল
  • ১৯২৯-৩০ ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নিউজিল্যান্ড সফর