Back

ⓘ নজির আহমেদ




                                     

ⓘ নজির আহমেদ

নজির আহমেদ চল্লিশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার তিনি প্রথম শিকার। নজির আহমেদ ফেনী জেলার আলিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করাপর ১৯৩৯ সালে ফেনী কলেজ থেকে আই এ পাস করেন। আই এ পাসেপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাম্প্রদায়িক কারণে কতিপয় ছাত্রের মাঝে মারামারি চলাকালীন তিনি তাদের থামাতে এগিয়ে যান এবং ছুরিকাঘাতে নিহন হন। তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু তিনি সেখানে মৃত্যু বরন করেন।

শহীদ নজিরের স্মৃতি রক্ষায় সিদ্দিকবাজারে শহীদ নজির লাইব্রেরি নামে একটি পাঠাগার স্থাপিত হয়েছিল। শহীদ নজিরের হত্যাকান্ডেপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িত পরিস্থিতির বিশেষত হিন্দু ও মুসলমান ছাত্রসমাজের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

                                     

1. জন্ম ও বংশ পরিচয়

শহীদ নজীর আহমদের জন্ম বাংলা ১৩২৪ সনের চৈত্র মাসে ১৯১৮ সনের এপ্রিল। ফেনী জিলার দক্ষিণ আলিপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান হইয়াও তিনি বাল্যকাল হইতেই নিষ্ঠা আর প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখেন। তাঁহার বংশপরিচয় যতদুর জানা যায় তাহাতে দেখা যায় – তাঁহার পিতৃকূল বিভিন্ন সদগুণাবলীর জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।

                                     

2. শিক্ষা

শহীদ নজীর আহমদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গৃহে। স্থানীয় প্রথামত তিনি প্রথমে আরবী ও কু’রআন শিক্ষা করেন। অতঃপর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দরিদ্রতার কারণে তাঁহার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কষ্টের মধ্যে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া তিনি হাইস্কুলে ভর্তি হন। আর্থিক অনটন আর প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হইয়াও তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৩৭ খৃ. তিনি বৃত্তিসহ প্রবেশিকা পাস করেন। ১৯৩৯ খৃ. ফেনী কলেজ হইতে আই.এ পাস করিয়া তিনি ঢাকা আসেন। ঐ বৎসরই তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪২ খৃ. তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে সম্মান পরীক্ষার উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৩ খৃ তাঁহার এম. এ পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু সাম্প্রদায়িক হিন্দু দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত হওয়ায় সেই পরীক্ষা আর দেওয়া হয় নাই।