Back

ⓘ ভূতের বাচ্চা সোলায়মান




                                     

ⓘ ভূতের বাচ্চা সোলায়মান

ভূতের বাচ্চা সোলায়মান মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একটি শিশুতোষ কল্পকাহিনী যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাগৃতি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের পূর্বেই ২০০৬ সালে একই নামের একটি নাটক এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৩রা মার্চ মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হত্যাপ্রচেষ্টা চালানোর কারণ হিসেবে আক্রমণকারী এই বইটির কথা উল্লেখ করে।

                                     

1. গল্প সংক্ষেপ

গল্পের প্রধান চরিত্র নীতু। নীতুর দূরসম্পর্কের চাচা দবির মধ্যপ্রাচ্য থেকে নীতুদের বাসায় বেড়াতে আসে। তিনি ছোটদের দেখতে পারে না এমনকি মেয়েদের পড়ালেখা নিয়ে কটুবাক্য করে। এছাড়াও দেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিভিন্নভাবে হেয় করতে দবির চাচা সর্বদা বদ্ধ পরিকর। দবির চাচাকে শিক্ষা দিতে নীতু আর তার চাচাতো ভাই-বোনেরা প্লানচ্যাটে বসে ভূত ডাকতে। তাদের ডাকে একটি বাচ্চা ভূত সাড়া দেয়। এই বাচ্চা ভূতটির নামই হল সোলায়মান। সোলায়মান নীতুদের ডাকে আসলেও আর নিজে নিজে ফিরে যেতে পারেনা। এদিকে নীতুর দবির চাচা বাচ্চা ভূতের ব্যাপারটি জানতে পেরে সোলায়মানকে বিদেশী টিভি চ্যানেলের কাছে বিক্রি পায়তারা করে। এই পরিকল্পনা মোতাবেক নীতুকে আটকে ভূতের বাচ্চা সোলায়মানকে অপহরণও করে। নীতুর চাচাতো ভাই-বোনেরা নীতুকে উদ্ধার করে আবার প্লানচ্যাটে বসে। ভূতের বাচ্চা সোলায়মানের মা এসে এবার তাকে নিয়ে যায়। দবির যাদের কাছে ভূতের বাচ্চা বিক্রির ফন্দি করেছিল তারা এসে দবিরকে গণধোলাই দেয়।

                                     

2. নামকরণ বিতর্ক ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল হত্যাপ্রচেষ্টা

বইটি প্রকাশের পরপরই এর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনেন। বইটির নিষিদ্ধকরণ দাবির পাশাপাশি এবং লেখককেও ব্যক্তিগত আক্রমণ হতে থাকে। বাংলাদেশি নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনসহ অনেককেই সেই সময় এইসব সমালোচনার পাল্টা উত্তর দিতে দেখা গেছে।

২০১৮ সালের ৩রা মার্চ মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাপ্রচেষ্টাকারী, ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল ঘটনাস্থলে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী ফয়জুর লেখকের উপর আক্রমণের কারণ হিসেবে এই বইয়ের কথা উল্লেখ করলে বইটি আবার আলোচনায় আসে।