Back

ⓘ ২৪তম পদাতিক ডিভিশন (বাংলাদেশ)




২৪তম পদাতিক ডিভিশন (বাংলাদেশ)
                                     

ⓘ ২৪তম পদাতিক ডিভিশন (বাংলাদেশ)

২৪শ পদাতিক ডিভিশন হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল। চট্টগ্রাম বিভাগের দুটি পদাতিক ডিভিশনের মধ্যে এটি অন্যতম। এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্ববৃহৎ পদাতিক ডিভিশন।

                                     

1. ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচটি পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়। এদের মধ্যে ৬৫শ পদাতিক ব্রিগেড ছিল একটি, যার প্রধান কার্যালয় ছিল চট্টগ্রামে।

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে এই ব্রিগেডকে ২৪শ পদাতিক ডিভিশনে উন্নীত করা হয়। মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার হচ্ছেন এর বর্তমান জিওসি। এই ডিভিশন পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। ২৪শ পদাতিক ডিভিশন হচ্ছে বাংলাদেশের সবথেকে বড় পদাতিক ডিভিশন যেখানে ৩৩% সেনাবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।

                                     

2. অংশ

  • ৬৫শ পদাতিক ব্রিগেড কাপ্তাই সেনানিবাস
  • ৬৯শ পদাতিক ব্রিগেড বান্দরবান সেনানিবাস
  • ২৪শ আর্টিলারি ব্রিগেড গুইমারা সেনানিবাস
  • ২০৩ম পদাতিক ব্রিগেড খাগড়াছড়ি সেনানিবাস
  • ৩০৫ম পদাতিক ব্রিগেড রাঙ্গামাটি সেনানিবাস
                                     

3. অপারেশন ড্রাগন ড্রাইভ

স্বাধীনতাত্তোর সময়ে, পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি নবগঠিত আওয়ামী লীগ-সরকারের অন্যতম একটি বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে পূর্ব বাংলার জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট, ১১ গোষ্ঠীর একটি কোয়ালিশন গঠন করা হয়। এই ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠার পর, দলটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন ক্যাম্পেইন শুরু করে। এই দলটি ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সক্রিয় ছিল। এরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে এবং দেশব্যাপী পুলিশ থানাসমূহে আক্রমণ চালায়।

শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে তৎকালীন ৬৫শ পদাতিক ব্রিগেডের কম্যান্ডার দস্তগির তার প্রশাসনিক এলাকায় একটি কাউন্টার-আক্রমণ অভিযানের নেতৃত্ব দেন যেটি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সামরিক অভিযানের মধ্যে প্রথম সম্মিলিত সফল অভিযান যা" অপারেশন ড্রাগন ড্রাইভ” নামে পরিচিত এবং এই অভিযানটি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার" সর্বহারা” বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত হয়।

                                     

4. জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

২৯ মে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বিএনপির একটি নিজ-দলীয় বিবাদের সমাধানে সহায়তা করার জন্য সেখানে যান। জিয়া এবং তার সাথের সদস্যরা সারা রাত চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থিত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। ৩০ মে প্রথম প্রহরে, ২৪শ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে তাকে হত্যা করা হয়। তার ছয় দেহরক্ষী এবং দুজন সহযোগীকেও হত্যা করা হয়।

গ্রেফতার করাপর শীঘ্রই মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। একটি সামরিক ট্রাইব্যুনালে ১৮ জন অফিসারকে সম্মুখীন করা হয়, এসময় সামরিক আদালতে ১৩জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ৫জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

                                     

5. পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাত

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাত মূলত একটি রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল যা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের স্বায়ত্তশাসন এবং অধিকারের পরিপ্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক বাংলাদেশ সরকার এবং অস্ত্রধারী, শান্তি বাহিনীর মধ্যে সংগঠিত হয়।

১৯৭৭ সালে শান্তি বাহিনী সরকারি বাহিনীর লোকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪শ পদাতিক ডিভিশন এই সশস্ত্র কাউন্টার অভিযানে অংশগ্রহণ করে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২০ বছর এই সংঘাত চলতে থাকে যতক্ষণ না সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সন্তু লারমা বিধিসম্মতভাবে শান্তি বাহিনী ভেঙে দেন। প্রায় ১৫০০ বিদ্রোহী তাদের অস্ত্রশস্ত্র আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বাঙ্গালী বসবাসকারী, শান্তি বাহিনী এবং এর সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যা সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।