Back

ⓘ পূর্ব তিমুরের জনমিতি




পূর্ব তিমুরের জনমিতি
                                     

ⓘ পূর্ব তিমুরের জনমিতি

পূর্ব তিমুরের জনমিতি বলতে পূর্ব তিমুরের জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বিবরণ বুঝানো হয়। এই নিবন্ধটিতে পূর্ব তিমুরের জনঘনত্ব, শিক্ষা, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী, ভাষা প্রভৃতির ভিত্তিতে জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্যাবলী সন্নিবেশিত রয়েছে।

                                     

1. জনসংখ্যা

সিআইএ ওয়াল্ড ফেক্টবুকের তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে পূর্ব তিমুরের মোট জনসংখ্যা ১২,৪২,২৮৩ জন।

পরিবর্তন

জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে পূর্ব তিমুরে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রতি হাজারে ৩০.৭ জন। ঐ তথ্য মতে, ২০০৫-২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৪২,০০০ জন করে জন্ম নেয়ার পাশাপাশি ৯,০০০ জন করে মৃত্যবরণ করায় বার্ষিক জনবৃদ্ধি ঘটছে ৩৩,০০০ জন করে। এখানে মোট প্রজনন হার ৪.২; যা শহরাঞ্চলে ৩.৫ এবং গ্রামাঞ্চলে ৪.৬।

বয়স কাঠামো

জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে পূর্ব তিমুরে বর্তমানে জনসংখ্যার ৫৩.৮৫% বা ৫,৭৪,২৬৯ জন কর্মক্ষম ১৫-৬৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর অংশ এবং ৪১.৪৪% বা ৪,৪১,৯০৬ জন শিশু ০-১৪ বছর বয়সী ও অবশিষ্ট ৪.৭১% বা ৫০,২৩৪ জন বৃদ্ধ ৬৫ + বছর বয়সী মিলিতভাবে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী।

                                     

2. ভাষা

পূর্ব তিমুরের রাস্ট্রীয় ভাষা তেতুুম ভাষা এবং পর্তুগিজ ভাষা ছাড়াও এখানে ইন্দোনেশীয় ভাষা এবং ইংরেজি ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে "কাজে ব্যবহার" করার কথা বলা হয়েছে। এখানে মোট ১৬টি ভাষা ব্যবহৃত হয়; যাদের মধ্যে তেতুুুম, গালোলে, মাম্বে ও কিমাক - এই চারটিই প্রধান। তেতুুম ভাষাটি ইউরোপিয়ান ভাষা দ্বারা, বিশেষতঃ পর্তুগিজ ভাষা দ্বারা, ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে, প্রভাবিত হয়েছে ব্যাপকভাবে।

                                     

3. ধর্ম

পূর্ব তিমুর খ্রিস্টান-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ; ২০০৫ সালের হিসাব অনুসারে এদেশের জনসংখ্যার ৯৯%-এরও অধিকই খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারি। মোট জনসংখ্যার ৯৬.৯% ক্যাথলিক খ্রিস্টান; ২.২% প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান; ০.৩% ইসলাম ধর্মের এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারী ০.৬% অধিবাসী।

                                     

4. শিক্ষা

পূর্ব তিমুরে সাক্ষতা গণনা করা হয় ১৫ বছরের উর্ধ বয়সীদের হিসাবে। ২০১৫ সালের হিসাব অনুসারে এদেশের জনসংখ্যার ৬৭.৫% সাক্ষর; যার মধ্যে পুরুষ ৭১.৫% এবং মহিলা ৬৩.৪%।

স্বাধীনতা অর্জনেপর পূর্ব তিমুরে ছিলো উচ্চ নিরক্ষরতার হার; তৎকালীন জনসংখ্যার ৫৫% নারী এবং ৪৫% পুরুষ নিরক্ষর ছিলো। প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার মাত্র ১৮% মাধ্যমিক শিক্ষা এবং তাদের মধ্যে মাত্র ১.৪% উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী ছিলো। শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে শিক্ষা উপকরণ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব পূরণই ছিলো মূল চ্যালেঞ্জ। উচ্চ প্রজনন হার এক্ষেত্রে আরেক সমস্যা ছিলো। জাতিসংঘ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক শিক্ষককে পুনর্বাসন এবং স্কুল পুনর্বাসন ও পুনর্বাসন করতে সাহায্য করেছে, যার ফলে স্কুলে ভর্তির হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।