Back

ⓘ পরিবেশন শিল্পকলা




পরিবেশন শিল্পকলা
                                     

ⓘ পরিবেশন শিল্পকলা

পরিবেশন শিল্পকলা এমন এক ধরনের শিল্পকলা যার মধ্যে শিল্পীরা তাদের কণ্ঠ এবং শরীরকে ব্যবহার করে শৈল্পিক অভিব্যক্তির সৃষ্টি করেন। এটি দৃষ্টিধর্মী শিল্পকলার থেকে ভিন্ন যা যখন শিল্পীরা চিত্রাঙ্কন, ক্যানভাস বা বিভিন্ন উপকরণ শারীরিক বা স্থিতিশীল শিল্পবস্তু তৈরিতে ব্যবহার করে। পরিবেশন শিল্পকলার বিভিন্ন বিভাগ র‍য়েছে কিন্তু তার সবগুলিই সরাসরি দর্শকের সামনে পরিবেশিত হয়।

                                     

1. পরিবেশন শিল্পী

যেসব শিল্পীরা দর্শকের সামনে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠেয় শিল্প পরিবেশনে অংশগ্রহণ করে তাদের বলা হয় পরিবেশন শিল্পী। উদাহরণস্বরূপ অভিনেতা, হাস্যরসাত্মক অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, জাদুকর, সার্কাস শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী এবং গায়ক - এরা সবাই পরিবেশন শিল্পী। পরিবেশন শিল্পকলা গান রচনা, নৃত্যপরিকল্পনা এবং নাট্যকুশলতার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কর্মীদের দ্বারা সমর্থিত এবং তারা বাচ্চাদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পরিবেশন শিল্পকলা সঞ্চালন করতে অনুপ্রাণিত করে কারণ এটাই তাদের করতে ভালো লাগে।

একজন পরিবেশন শিল্পী যখন একইসাথে অভিনয়ে, গান গাওয়ায় ও নাচে পারদর্শী হয় তখন তাকে ইংরেজিতে "ট্রিপল থ্রেট" অর্থাৎ ত্রি-হুমকি হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঐতিহাসিক ইংরেজিভাষী "ট্রিপল থ্রেট" শিল্পীদের মধ্যে সুপরিচিত উদাহরণ হচ্ছেন জিন কেলি, ফ্রেড এস্টায়ার এবং জুডি গারল্যান্ড।

পরিবেশন শিল্পীরা প্রায়ই তাদের পরিধান, মুখসজ্জা, মঞ্চ, আলো এবং শব্দের সঙ্গে তাদের চেহারাকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

                                     

2. প্রকারভেদ

পরিবেশন শিল্পকলার মধ্যে নাচ, সঙ্গীত, অপেরা, থিয়েটার এবং সঙ্গীত থিয়েটার, জাদু, বিভ্রম, মূকাভিনয়, কথ্য শব্দ, পাপেট অভিনয়, সার্কাস শিল্প, কর্মক্ষমতা শিল্প, আবৃত্তি এবং বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এছাড়াও শিল্পকলার একটি বিশেষ ধরন রয়েছে যাতে শিল্পীরা তাদের কাজ দর্শকের সামনে সরাসরি পরিবেশন করে। একে কর্মক্ষমতা শিল্প বলা হয়। বেশিরভাগ কর্মক্ষমতা শিল্পের সাথে প্লাস্টিক শিল্প কিছুটা জড়িত থাকে, বিশেষত সাজসরঞ্জাম সৃষ্টিতে। নৃত্য প্রায়ই আধুনিক আমলে একটি প্লাস্টিকের শিল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

                                     

2.1. প্রকারভেদ মঞ্চনাটক

মঞ্চনাটক পরিবেশন শিল্পকলার একটি শাখা যা দর্শকের সামনে একটি গল্প অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, সংগীত, নৃত্য, শব্দ এবং জাঁকজমকের সমন্বয়ে তুলে ধরে। এই উপাদানের কোন একটি বা সবগুলিই পরিবেশন শিল্পকলা। একই সাথে আছে মানসম্মত নাটকের আখ্যান সংলাপ শৈলী। মঞ্চনাটকে নাটক, সংগীত, অপেরা, ব্যালে, বিভ্রম, মূকাভিনয়, ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য, কাবুকি, মুমারের নাটক, উন্নতধরনের মঞ্চনাটক, তাৎক্ষনিক কমেডি, পুতুলনাচ যেমন রূপ নিতে পারে, তেমনি অপ্রচলিত বা সমসাময়িক ফর্মের বাইরে অতিআধুনিক মঞ্চনাটক, পোস্ট ড্রামাটিক মঞ্চনাটক বা কর্মক্ষমতা শিল্পও হতে পারে।

                                     

2.2. প্রকারভেদ নৃত্য

পরিবেশন শিল্পকলার মাঝে নৃত্যকে সাধারণভাবে দর্শকদের বিনোদনের জন্য গানের সাথে বা সুরের সাথে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে মানুষের অঙ্গভঙ্গি পরিবেশনকে নির্দেশ করে।সাধারণত নৃত্যের মাঝে কি কি থাকবে তা নির্ধারণ হয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নান্দনিক শৈল্পিক ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা দ্বারা এবং সাধারন নড়াচড়া লোকনৃত্য থেকে শুরু করে দক্ষ কলাকৌশলের ব্যালে নাচ পর্যন্ত এর পরিসীমা হতে পারে।

নৃত্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রাণন, কিন্তু নৃত্যের এই অনুপ্রাণন শিল্পীদের বিভিন্ন ভঙ্গীর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী তীব্র ভাবের সৃষ্টি করে যার ফলে দর্শকরা যারা নিজেদেরও নাচতে ইচ্ছা করে। নাচের এই দুই ভিন্ন ধারণা- নাচ একটি অনুপ্রাণন এবং নাচ একটি পেশাদারীভাবে পরিকল্পিত একটি শিল্প- হল নাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বিষয়। নাচের ক্ষেত্রে এই দুই বিষয়ের সংযোগ অন্য যে কোন শিল্পের থেকে বেশি শক্তিশালী, একটি ছাড়া অপরটি অচল।

নৃত্যপরিকল্পনা হল নৃত্য তৈরীর শিল্প এবং যে ব্যক্তি এই শিল্প চর্চা করেন তাকে নৃত্যপরিচালক বলা হয়।

                                     

2.3. প্রকারভেদ সঙ্গীত

সঙ্গীত হল একটি শিল্পের ধরন যা শব্দ তৈরি করার জন্য পিচ, তাল, এবং গতিশীলতার সম্মিলন ঘটায়।এটা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র এবং শৈলীর ব্যবহারে পরিবেশন করা যেতে পারে এবং বিভিন্ন ঘরানায় বিভক্ত করা হয়। একটি শিল্পের ধরন হিসেবে সঙ্গীত লাইভ বা রেকর্ডে তৈরি হতে পারে এবং পরিকল্পিত বা তাৎক্ষনিক হতে পারে।

                                     

3. ইতিহাস

যুদ্ধ পরবর্তী পরিবেশন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেপর পরিবেশন শিল্পকলার পুনরুত্থান হয় ব্যালে এবং অপেরার পশ্চিমা বিশ্বে পুনরূত্থানের দ্বারা।

১৯৬০ সালে উত্তর-আধুনিকতা বৃহৎ পরিমাণে প্রাধান্য বিস্তার করে।

ইরান

ইরানে ভিন্ন ধরনের পরিবেশন শিল্পকলা প্রচলিত যাদের মধ্যে রয়েছে নাঘালি গল্প বলা, রু-হওজি, সিয়াহ-বাজি, পারদে-খানী, মেরেকে গিরি ।

কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ায় প্রাচীন রাজধানী অ্যাংকর ওয়াটে, ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত থেকে গল্প মন্দির এবং প্রাসাদের দেয়ালে উত্কীর্ণ রয়েছে। একই জিনিস ইন্দোনেশিয়ার বড়বুদুরে পাওয়া গেছে।

                                     

3.1. ইতিহাস পশ্চিমা পরিবেশন শিল্পকলার ইতিহাস

খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে পরিবেশন শিল্পের চিরায়ত সময়ের শুরু হয় গ্রীসে সোফোক্লেসের মতন ট্র্যাজিক কবিদের হাত ধরে। এই কবিরা নাটক লিখতেন, কিছু ক্ষেত্রে যাতে নৃত্যও অন্তর্ভুক্হত যেমন ইউরিপিডিস। হেলেনীয় যুগে কমেডির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।

তবে ৬ষ্ঠ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পশ্চিমা পরিবেশন শিল্পকলার শেষ হয়ে অন্ধকার যুগ শুরু হয়। ৯ম থেকে ১৪ শতাব্দীর মধ্যে পাশ্চাত্যে পরিবেশন শিল্পকলা শুধু ধর্মীয় ঐতিহাসিক আইনসমূহ এবং নৈতিকতার নাটকগুলিতে, পবিত্র দিনে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উদযাপনের জন্য চার্চ দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল।

                                     

3.2. ইতিহাস রেনেসাঁ

১৫ শতকের দিকে ইতালিতে রেনেসাঁর মধ্যে দিয়ে পরিবেশন শিল্পকলাও পুনরজাগরণ পায় এবং সর্বত্র ইউরোপে নাটকের মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এসব নাটকে কিছু নাচ অন্তর্ভুক্হত যা সঞ্চালিহত শিল্পীদের মাধ্যমে এবং ডমেনিকো দা পিয়াসেঞ্জা "ব্যালো" শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন "ডাঞ্জা"র পরিবর্তে যা ব্যালি বুঝাতো। পরবর্তীতে তা "ব্যালে" নামে পরিচিত হয়।মনে করা হয় প্রথম ব্যালে পার সে ছিল ব্যালথাজার ডি বেউজ্যিলেক্স এর ব্যালে কমিক দে লা রেইনি ১৫৮১।

মধ্য ১৬ শতকের শেষ নাগাদ কমেডিয়া ডেল আর্টে ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরিবর্তিত কলার সুচনা করে। এই সময়ে এলিজাবেথীয় মুখোশধারী মিছিলের প্রবর্তন হয় যেখানে গান, নাচ এবং সম্প্রসারিত পরিধানসমূহের ব্যবহার হত এবং সেইসাথে ইংল্যান্ডে পেশাদার নাটুকে কোম্পানিরও প্রবর্তন হয়। উইলিয়াম শেক্সপীয়ারের ১৬ শতাব্দীর শেষেরভাগের নাটকের ফলে পেশাদারী কর্মক্ষমতা শিল্পের এক নতুন শ্রেণী উন্নত হয়।

১৫৯৭ সালে, প্রথম অপেরা, ডাফনে প্রদর্শিত হয় এবং তারপর ১৭ শতকে ইউরোপ জুড়ে অধিকাংশ অভিজাত শ্রেণীর জন্য অপেরা একটি বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে প্রাধান্য পায় এবং পরে বিভিন্ন নগরী ও শহরে বসবাসকারী মানুষের জন্য তা বিনোদনের মাধ্যম হয়।



                                     

3.3. ইতিহাস যুদ্ধ পরবর্তী পরিবেশন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেপর পরিবেশন শিল্পকলার পুনরুত্থান হয় ব্যালে এবং অপেরার পশ্চিমা বিশ্বে পুনরূত্থানের দ্বারা।

১৯৬০ সালে উত্তর-আধুনিকতা বৃহৎ পরিমাণে প্রাধান্য বিস্তার করে।

                                     

3.4. ইতিহাস মধ্যপ্রাচ্য

প্রাচীন মিশরের সবথেকে পুরাতন নাটুকে ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়ে।দেবতা ওসিরিসের গল্প সভ্যতার সর্ব উৎসবে বার্ষিক সঞ্চালিত হত, যার মধ্য দিয়ে থিয়েটার এবং ধর্মের মধ্যে একটি দীর্ঘ সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়।

মধ্যযুগীয় ইসলামী বিশ্বের থিয়েটার সবচেয়ে জনপ্রিয় ধরন ছিল পুতুল থিয়েটার যাতে হাত পুতুল নাচ, ছায়া নাটক এবং পুতলি প্রযোজনা অন্তর্ভুক্ত এবং সরাসরি তাজিয়া, যেখানে অভিনেতারা পুনরায় মুসলিম ইতিহাস থেকে বিভিন্ন পর্ব নাটকের মধ্যে দিয়ে পরিবেশন করত। বিশেষ করে, শিয়া ইসলামীদের নাটকগুলি আলীর পুত্র হাসান ইবনে আলী এবং হুসাইন ইবনে আলী শহীদ শাহাদাতের কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হত। সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষ নাটক আখ্রাজা হিসেবে পরিচিত ছিল, মধ্যযুগীয় আদাব সাহিত্যে লিপিবদ্ধ হত যদিও তারা পুতুল থিয়েটার এবং তাজিয়ার তুলনায় কম প্রচলিত ছিল।

                                     

3.5. ইতিহাস ইরান

ইরানে ভিন্ন ধরনের পরিবেশন শিল্পকলা প্রচলিত যাদের মধ্যে রয়েছে নাঘালি গল্প বলা, রু-হওজি, সিয়াহ-বাজি, পারদে-খানী, মেরেকে গিরি ।

                                     

3.6. ইতিহাস ভারত ও পাকিস্তান

ফোক থিয়েটার এবং নাট্যকলা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মধ্যে বৈদিক জাতির ধর্মীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে পাওয়া যায়। কুয়াশাচ্ছন্ন অতীতের এই লোক থিয়েটার নাচ, খাদ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের, দৈনন্দিন জীবনের থেকে একটি ঘটনার চিত্রাঙ্কনে মেশানো হয়েছিল। সর্বশেষ উপাদানটি একে পরবর্তীতে শাস্ত্রীয় থিয়েটারের উৎস বানায়। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ডি ডি কোসাম্বি, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, আরিয়া রাঙ্গাচার্য ইত্যাদি ইন্দো-আর্য গোষ্ঠীর মধ্যে উপজাতির কিছু সদস্য বন্য প্রাণী হিসাবে অভিনয় করত এবং কিছু শিকারীদের মত অভিনয় করত। যারা ছাগল, মহিষ, বলগা হরিণ, বানর, ইত্যাদি স্তন্যপায়ী হিসাবে অভিনয় করত তাদের শিকারীর ভূমিকায় থাকারা ধাওয়া করতেন।

ভরত মুনি খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীর একজন প্রাচীন ভারতীয় লেখক "ভরতের নাট্যশাস্ত্র" নামের এক গ্রন্থ যাতে এমন একটি থিয়েটারের রূপ তুলে ধরা হয়েছে নাচ, অভিনয়, এবং সঙ্গীত সহ একটি তাত্ত্বিক গ্রন্থ, লেখার জন্য পরিচিত যা অ্যারিস্টটলের "পয়েটিকের" সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ভরত ভারতীয় থিয়েটারি শিল্পকলার জনক হিসেবে পরিচিত। তার "নাট্যশাস্ত্র" নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৌশলে শিল্প, নাটক এর বিকাশের প্রথম প্রয়াস বলে মনে হয়। নাট্যশাস্ত্র আমাদেরকে একটি নাটকে কি চিত্রিত করা হয় তাই শুধু বলে না, বরং কিভাবে চিত্রাঙ্কন করতে হবে তাও বলে। ভরত মুনি বলেন, নাটক মানুষ ও তাদের কাজকে লোকা-বৃতি অনুকরণে হয়। মানুষ এবং তাদের কৃতকর্মকে মঞ্চে সম্মান করতে হবে, তাই সংস্কৃত নাটকে এছাড়াও রূপক রয়েছে, যার মানে চিত্রাঙ্কন করা।

রামায়ণ ও মহাভারতের প্রথম স্বীকৃত নাটকগুলি ভারতে সম্ভূত বিবেচনা করা যেতে পারে। এই মহাকাব্য যেমন প্রথমদিকের ভারতীয় নাট্যবিদদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন তেমনি তারা আজও তা করছে। যেমন খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীর মধ্যে ভারতীয় নাট্যবিদ ভাসাঁর নাটকগুলি প্রচন্ডভাবে রামায়ণ ও মহাভারতের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীর মধ্যে কালিদাস, তর্কসাপেক্ষে প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার লিখিত তিনটি বিখ্যাত রোমান্টিক নাটক হচ্ছে মালাভিকাগ্নিমিত্রাম মালবিকা এবং অগ্নিমিত্র, ভিক্রামোরভাসিয়াম বিক্রম এবং উর্বশী এবং আভিজানাশাকুন্তালা শকুন্তলার পরিচয়। শেষেরটি মহাভারতের কাহিনী থেকে অনুপ্রানিত এবং সবথেকে বেশি জনপ্রিয়।এটা প্রথমে ইংরেজি এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল। ভাসার তুলনায়, যে মহাকাব্য থেকে বেশি রচনা করতেন, কালিদাসকে প্রকৃত নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পরের মহান ভারতীয় নাট্যকার ছিলেন ভবভুতি ৭ম শতক। ধারণা করা হয় তিনি এই তিনটি নাটক লিখেছেন- মালতী-মাধব, মহাবীরচরিত, উত্তর রামচরিত। এই তিনটির মধ্যে শেষের দুইটি রামায়ণের সমগ্র মহাকাব্যকে তুলে ধরেছে।শক্তিশালী ভারতীয় সম্রাট হর্ষ ৬০৬-৬৪৮ তিনটি নাটক লেখার কৃতিত্ব দিতে হয়: হাস্যরসাত্মক রত্নবলী, প্রিয়দর্শিকা এবং বৌদ্ধ নাটক নাগনন্দ।মধ্যযুগে আরও অনেক নাট্যবিদ এসেছিলেন।

ভারতের দক্ষিণ অংশে অনেক করণশিল্পের ধরন ছিল। কেরালা এমন একটি প্রদেশ যেখানে এমন বিভিন্ন ধরনের শিল্প যেমন- কুদিয়াত্তাম, নানগারকথু, কথাকলি, চাকার কথু এবং সেখানে পাইঙ্কুলাম রমন চাক্যর প্রমুখ অনেক বিশিষ্ট শিল্পী ছিল।



                                     

3.7. ইতিহাস চীন

চীনে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বে শাং রাজবংশের সময়ে নাটুকে বিনোদনের দেখা পাওয়া যায়; তারা প্রায়ই সঙ্গীত, ভাঁড়ামি ও অ্যাক্রোব্যাটের মত পরিবেশনে জড়িত ছিল।

ট্যাং রাজবংশকে কখনও "১০০০ বিনোদনের যুগ" বলা হয়। এই যুগে সম্রাট জুয়াংজং একটি অভিনয়ের বিদ্যালয় স্থাপন করেন যার নাম ছিল "নাসপাতি বাগানের শিশুগণ" যাতে বাদ্যযন্ত্রের সাথে অভিনয়ের একটি ধরন তৈরি হতে পারে।

হান সাম্রাজ্যের সময়, ছায়া পুতুল নাচ প্রথম চীনা মঞ্চনাটিকের একটি স্বীকৃত রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ছায়া পুতুল নাচের ক্যানটোনীয় দক্ষিণ ও পীকিংয়ের উত্তরাঞ্চলের দুটি স্বতন্ত্র রূপ ছিল।এই দুই খেলার ধরনের পার্থক্য ছিল নাটকের ধরনের নয়, বরং পুতুল এবং পুতুল উপর রডের পজিশনিং এ। উভয় শৈলীই সাধারণত মহান দু: সাহসিক কাজ এবং ফ্যান্টাসি চিত্রিত করতে এবং খুবই কম রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত হত।ক্যানটোনীজ ছায়া পুতুলগুলো বৃহত্তর ছিল। তারা পুরু চামড়া দিয়ে তৈরি হত যা আরও গভীর ছায়া সৃষ্টি করত।সাংকেতিক রঙ খুব প্রচলিত ছিল; একটি কালো মুখ বিশ্বস্ততার এবং লাল সাহসিকতার প্রতিনিধিত্ব করত। ক্যানটোনীজ পুতুল নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত রডগুলো পুতুলের মাথার সাথে লম্বভাবে যুক্ত থাকত। তাই দর্শকরা তা দেখতে পেত না যখন ছায়া তৈরি করা হত।পীকিংয়ের পুতুল আরো সূক্ষ্ম এবং ছোট ছিল। তারা পাতলা, ঈষদচ্ছ চামড়ার সাধারণত গর্দভের পেট থেকে নেয়া দ্বারা সৃষ্টি করা হত। এদের স্পন্দনশীল রঙে রাঙানো হত তাই তাদের ছায়াও হত রংচঙে।যে পাতলা রড তাদের আন্দোলনে ব্যবহার করা হত তা নিয়ন্ত্রিত পুতুলএর ঘাড়ে চামড়ার কলার দিয়ে সংযুক্ত করা হত। রড পুতুলের দেহের সাথে সমান্তরালে থাকত এবং তারপর ঘাড়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য নব্বই ডিগ্রী কোণে থাকত। যদিও এই রড ছায়া নিক্ষেপের সময় দৃশ্যমান হত কিন্তু তা পুতুল এর ছায়ার বাইরে দেখা যেত তাই তারা পুতুলের চেহারায় ছাপ ফেলত না। ঘাড়ে সংযুক্ত এ রড একদেহের সঙ্গে একাধিক মাথা ব্যবহারে সহজতর হত। যখন মাথা ব্যবহার করা হত না তখন তাদের একটি মসলিন বই বা ফ্যাব্রিক রেখাযুক্ত বাক্সে সংরক্ষণ করা হত। মাথা সবসময় রাতে সরানো হত। এটা করা হত পুরাতন কুসংস্কার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে যদি অক্ষত পুতুল রাতে থাকে তবে তাতে জীবন চলে আসতে পারে। কিছু পুতুলচালক এমনকি এক বইয়ে মাথা এবং অন্যটিতে দেহ রাখতেন যাতে পুতুলের পুনর্জীবনের সম্ভাবনা কমে যায়। ছায়া পুতুলনাচ সরকারের একটি হাতিয়ার হওয়ার আগে ১১ শতকে শৈল্পিক বিকাশের সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছে বলে বলা হয়।

সং রাজবংশে অনেক জনপ্রিয় নাটক হত যাতে দড়াবাজি এবং সঙ্গীত জড়িত ছিল।ইউয়ান রাজবংশে তা বিকাশ লাভ করে চার বা পাঁচটি একাঙ্ক গঠনের সঙ্গে আরো একটি অত্যাধুনিক ফর্ম তৈরি করে। ইউয়ান নাটক চীন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক আঞ্চলিক রূপ বৈচিত্র্য লাভ করে, সবচেয়ে ভাল যার মধ্যে পরিচিত বেইজিং অপেরা, যা আজও জনপ্রিয়।



                                     

3.8. ইতিহাস থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের এটি একটি ঐতিহ্য মধ্যযুগ থেকেই যে তারা ভারতীয় মহাকাব্য থেকে টানা গল্পের উপর ভিত্তি করে মঞ্চ নাটক করত। বিশেষ করে, থাইল্যান্ডের জাতীয় মহাকাব্য রামাকেন, ভারতীয় রামায়ণের একটি সংস্করণের থিয়েটারি সংস্করণ যা আজও থাইল্যান্ডে জনপ্রিয়।

                                     

3.9. ইতিহাস কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ায় প্রাচীন রাজধানী অ্যাংকর ওয়াটে, ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত থেকে গল্প মন্দির এবং প্রাসাদের দেয়ালে উত্কীর্ণ রয়েছে। একই জিনিস ইন্দোনেশিয়ার বড়বুদুরে পাওয়া গেছে।

                                     

3.10. ইতিহাস জাপান

চতুর্দশ শতকে, জাপানে অভিনেতাদের ছোট কোম্পানি ছিল যারা সংক্ষিপ্ত এবং কিছুটা অভদ্র হাস্যরসাত্মক সঞ্চালিত করত। এই ধরনের একটি কোম্পানীর পরিচালক, কানামির ১৩৩৩-১৩৮৪, একটি ছেলে ছিল, জিয়ামি মতোকিও ১৩৬৩-১৪৪৩ যিনি জাপানে একজন শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে বিবেচিত ছিলএন। কানামির কোম্পানি যখন আশিকাগা ইয়োশিমিতসু ১৩৫৮-১৪০৮, জাপানের সগুনের জন্য অভিনয় করল, তিনি জিয়ামিকে অনুরূদ্ধ করলেন কলার জন্য শিক্ষাগ্রহণে।জিয়ামি তার পিতাপর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ধরনে সঞ্চালন করেন যা আজকের নহ শৈলী নামে পরিচিত। পুতুলনাচ এবং কণ্ঠ্য দড়াবাজি একটি মিশ্রণের এই শৈলী শত বছর ধরে জাপানিদের মুগ্ধ করেছে।

জাপান, গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক ছত্রভঙ্গ একটি দীর্ঘ সময়ের পর, একত্রিত হল এবং প্রাথমিকভাবে তকুগাওয়া লিয়াসু ১৬০০-১৬৬৮ সগুনের কারণে শান্তি ছিল। যাইহোক, খ্রিস্টান বৃদ্ধিতে অধীর হয়ে তিনি ইউরোপ এবং চীনের সাথে জাপানের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং খ্রিস্টধর্মকে বেআইনি ঘোষণা করেন। যখন শান্তি আসে, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান বণিক শ্রেণীর একটি ঝঙ্কার নিজস্ব বিনোদন দাবি করে। থিয়েটারের প্রথম ফর্ম নিংইয় যরুরি সাধারণভাবে বানরাকু হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে ছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এর প্রধান অবদানকারী, চিকামাতসু মনজায়মন ১৬৫৩-১৭২৫, তার ফর্মকে একটি সত্য শিল্প ফর্মে পরিণত করেন।নিংইয় যরুরি এমন এক ধরনের পুতুল নাচ যাতে আজকের প্রায় ১/৩ভাগ মানুষের আকারের পুতুল ব্যবহার করা হত। যেসব মানুষ এই পুতুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করত তাদের সমগ্র জীবন প্রশিক্ষণ নিতে হত মাস্টার পুতুল সঞ্চালকে পরিণত হবার জন্য এবং যখন তারা পুতুলের মাথা ও ডান হাত চালাতে সক্ষম হয় তখন তারা তাদের মুখ দেখানোর জন্য চয়ন করতে পারেন। অন্যান্য পুতুল সঞ্চালক যারা পুতুল এর কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রণ করে, একটি কালো কাপড়ের মধ্যে তাদের মুখমন্ডল আবৃত থাকে। সংলাপ একটি একক ব্যক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যার গলা এবং ভাষা বিনয়ী ও বৈচিত্রময় সুর ব্যবহার করে বিভিন্ন চরিত্র পরিচালিত করতে পারে। চিকামাতসু তার জীবদ্দশায় হাজারের মত নাটক লিখেছেন যার বেশীর ভাগ এখনও ব্যবহৃত হয়।

কাবুকি বানরাকুর কিছু পরই শুরু হয় কিংবদন্তি অকুনি নামক একজন অভিনেত্রীর হাত ধরে যিনি ১৬ শতকের শেষের দিকে বসবাস করতেন। কাবুকি বস্তুগত অধিকাংশই নো এবং বানরাকু থেকে এসেছে, এবং তার খেয়ালী নাচ-টাইপ আন্দোলন এছাড়াও বানরাকুর একটা প্রভাব আছে। যাইহোক, কাবুকি কম প্রথাগত এবং নোর থেকে আরও দূরবর্তী, যা এখনো জাপানি জনগণের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। অভিনেতারা নাচ, গান, পুতুলনাচ এবং এমনকি দড়াবাজি সহ অনেক বৈচিত্রময় কিছুর প্রশিক্ষণ নিতেন। কাবুকি প্রথমে অল্পবয়সী মেয়েদের দ্বারা, তারপর তরুণ ছেলেদের দ্বারা, সঞ্চালিহত এবং ১৬ শ শতকের শেষ নাগাদ, কাবুকি কোম্পানিগুলো সব পুরুষদের দ্বারা গঠিত হত। পুরুষ যারা মঞ্চে নারী চরিত্রে অভিনয় করতেন বিশেষভাবে তাদের সূক্ষ্ম আন্দোলন এবং ভাবভঙ্গিতে স্ত্রীলোকের সারমর্ম প্রকাশ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।