Back

ⓘ প্রিয়ন




প্রিয়ন
                                     

ⓘ প্রিয়ন

প্রিয়ন হলো ভাইরাসের মতোই একপ্রকার সংক্রামক সত্ত্বা যা PrP নামক প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি । এটিকে transmissible spongiform encephalopathies নামক স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার জন্য দায়ী করা হয়। প্রিয়ন গবাদি পশুর Mad cow disease ও scrapie, মানুষের Creutzfeldt–Jakob disease, Gerstmann–Sträussler–Scheinker syndrome, fatal familial insomnia, এবং kuru - এসব ভয়ানক মারণব্যাধির কারণ।. প্রিয়ন সুস্থ কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষাভ্যন্তরস্থ প্রোটিনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। প্রায় সব প্রিয়ন প্রোটিন এমাইলয়েড নামক জমাটবদ্ধ প্রোটিন তৈরি করে। এ জমাটবদ্ধ প্রোটিন খুবই স্থায়ী এবং এগুলো আক্রান্ত স্থানে জমা হয়ে টিস্যুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

                                     

1. প্রকারভেদ

যেসব প্রোটিন দিয়ে প্রিয়ন গঠিত তা আমাদের পুরো দেহে স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। তবে যেসব প্রিয়ন সংক্রামক সেগুলোর গঠন ভিন্ন এবং সেগুলো সহজে ভেংগে যায়না। PrP C হল দেহের স্বাভাবিক প্রিয়ন, আর PrP Sc হল সংক্রামক প্রিয়ন।.

                                     

2. স্বাভাবিক প্রিয়নের কাজ

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ভেংগে যাওয়া স্বাভাবিক প্রিয়ন Schwann Cell এর মায়েলিন বা চর্বির আবরণের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রিয়ন অস্থিমজ্জার রক্তকোষ তৈরিকারী প্রাথমিক কোষ গুলোতে থাকে, যেসব প্রাথমিক কোষ সমূহে প্রিয়ন থাকেনা সেগুলো খুব সহজেই কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে।

                                     

3. বিস্তার

প্রিয়ন প্রোটিনটি মূলত খাবারের সাথে দেহে প্রবেশ করে । যেসব শষ্যক্ষেতে পশুর মল সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেসব ক্ষেতের ফসলের মাধ্যমে এ বিষ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। মজার ব্যাপার হলো মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব দূর করতে ব্যবহৃত Human menopausal gonadotropin একধরনের হরমোন যা মূত্র থেকে সংশ্লেষ করা হয় থেকেও এই ভয়ানক প্রোটিনটি ছড়াতে পারে।.

                                     

4. ক্ষতিকর প্রভাব

প্রিয়ন সমূহ স্নায়ুকোষের ভিতর জমা হয়ে স্বাভাবিক প্রোটিনগুলোকে এমাইলয়েড প্রোটিনে পরিণত করে যা টিস্যুর স্বাভাবিক গঠনকে বিঘ্নিত করে। যার ফলে পুরো টিস্যুটি স্পঞ্জের ন্যায় বিকৃত রূপ নেয় এবং স্নায়ুকোষে ছোট ছোট গহবর তৈরি হয়। যদিও এ রোগটির সুপ্তাবস্থা প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর, একবার রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তা খুব দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করে- এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণসমূহ

খিচুনি, স্মরণ-শক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক চলন প্রক্রিয়া ataxiaঃ balance and coordination dysfunction, আচার-আচারনে অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি।

                                     

5. প্রতিকার

কোন সুনির্দিষ্ঠ প্রতিষেধক প্রিয়নের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। তবে Antiprion antibodies নামক এন্টিবডি আবিষ্কৃত হয়েছে যা blood-brain-barrier কে অতিক্রম করে প্রিয়ন প্রোটিনকে ধ্বংশ করতে সক্ষম। Polythiophenes এবং Astemizole-এই দুটি ঔষুধও প্রিয়নের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে জানা গিয়েছে।