Back

ⓘ ক্ষীরোদরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়




                                     

ⓘ ক্ষীরোদরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

ক্ষীরোদরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল জেলার কাশীপুরে। পিতার কর্মক্ষেত্র চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম ছিল চিন্তাহরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের আদর্শে প্রানিত হয়ে বিপ্লবী সংগঠনে যোগদান করেন।

                                     

1. বিপ্লবী জীবন

চট্টগ্রাম বিদ্রোহের প্রাক্কালে অক্সিলিয়ারি অস্ত্রাগারের ওপর নজর রাখবার ও খুঁটিনাটি খবর সংগ্রহের ভার ন্যস্ত ছিল তার এবং সুবোধ চৌধুরীর ওপর। তারা সাতদিন সাতরাত এই কাজ করেন। সেখানকার ব্যান্ড মাস্টার ও ক্লিনারের সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে অস্ত্রাগারের খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নিয়েছিলেন। ১৮ এপ্রিল ১৯৩০ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন তিনি এবং অন্যান্য সাথীদের সাথে জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেন। ২২ এপ্রিল ঐতিহাসিক জালালাবাদের যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যের সাথে তাদের মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। পুলিশ তাকে টানা সাত বছর ধরতে না পারলেও পরিবারের ওপর অত্যাচার চালায়। তার বৃদ্ধ পিতাকে রেলের চাকরি থেকে অবসর নিতে বাধ্য করায় এবং উপার্জনক্ষম জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করে। পলাতক জীবনে বিপ্লবী ক্ষীরোদরঞ্জন নানা রকম কাজ করে জীবিকানির্বাহ করেছেন। কখোনো শ্রমিক, বিদ্যালয় শিক্ষক, কখোনো বা মাঝি মাল্লার কাজ করেছেন।

                                     

2. শেষ জীবন ও মৃত্যু

ধরা পড়াপর তার তিন বছর কারাদণ্ড হয়। ভগ্নস্বাস্থ্যে মুক্তি পেলেও বেশি দিন বাঁচেননি ক্ষীরোদরঞ্জন। যক্ষারোগাক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৫ বছর বয়েসে তার মৃত্যু ঘটে।