Back

ⓘ ইথা




ইথা
                                     

ⓘ ইথা

ইথা, মালদ্বীপের স্থানীয় ভাষা ধীভেহিয়ে এর অর্থ মুক্তা। বাস্তবিক অর্থেও রেষ্টুরেন্ট ইথা, যেন রাঙগালি দ্বীপের লেগুন ও স্পন্দনশীল প্রবালপ্রাচীরের ঢেউয়ের মাঝে মুক্তার মতো বসে আছে। সমুদ্রের মাঝে বসে ২৭০ ডিগ্রি প্যানারমিক দৃশ্য উপভোগ এর মাঝে ভোজন নিঃসন্দেহে এক অসামান্য অর্পূব অভিঙ্গতা এবং এই স্বপ্ন বাস্তবে উপভোগ এর নামই ইথা।

                                     

1. সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিশ্বের প্রথম সমুদ্রতলদেশীয় রেষ্টুরেন্ট ইথা, ২০০৫ সালের ১৫ই এপ্রিল এর যাত্রা শুরু হয়। কতৃপক্ষের ভা্ষ্যমতে, ইথা এর জন্ম অতিথিদের পা না ভিজিয়ে ইন্ডিয়ান ওশান এর বাস্তব রং, রূপ ও সৌন্দয্য উপভোগ করার সুযোগ দেওয়া। আধুনিক অ্যাকোয়ারিয়াম আর্কিটেকচাএর উপর ভিত্তি করে সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫ মিটার নিচে স্রোতের ও ঢেউ এর তারতাম্যে +/- ১ মিটার হয়ে থাকে, স্পন্দনশীল প্রবালপ্রাচীরে ঘেরা রেষ্টুরেন্টটিতে একসাথে মাত্র ১৪ জন খেতে পারেন। রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে চারিদিকে সমুদ্রের নীল এবং তার মাঝে শত প্রজাতির মাছ, প্রবাল প্রভৃতি দেখা যায়। হাঙ্গরের মতো মাছও ঘুরে বেড়ায় রেস্টুরেন্টটির চারপাশে। সব মিলিয়ে ২৩টি আইটেমসমৃদ্ধ ইথারের মেনু যাতে ইউরোপিয়ান খাবারও রয়েছে। সি-ফুডই অবশ্য এই রেস্টুরেন্টের প্রধান আকর্ষণ। ইথা খাবারের সাথে আলাদা প্রিমিয়াম চার্জ করে তবে পানির নিচে এই অভাবনীয় সুযোগের তুলনায় অবশ্যই কম। তাদের খাবারের মূল্য US$১২০ থেকে শুরু তাদের নিজস্য রিসোর্ট এর অতিথিদের জন্যে। রেষ্টুরেন্টে এ প্রবেশের জন্যে অতিথিদেরকে ঘাটের সাথে লাগান খড়ের প্যাভিলন ধরে প্যাচানো ঢালু এক সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয়, যার নকশা প্রনয়ন করে কুয়ালালামপুর জাতীয় বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং ২০০৪ সালের নির্মাণেপর সম্পুর্ন প্রকল্পকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অ্যাকোয়ারিয়াম টানেল হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

                                     

2. সূত্রপাত

মিঃ আহমেদ সালিমের হিলটন মালদ্বীপ রিসোর্ট এন্ড স্পা এর অন্যতম মালিক সমুদ্রতলদেশীয় জলজ জীবন সমন্ধে আগ্রহ ও কাছের থেকে অনুভব করার স্বপ্ন এর বাস্তবরূপ রাঙগালী দ্বীপের মালদ্বীপের হিলটন মালদ্বীপ রিসোর্ট এন্ড স্পা এর সমুদ্রতলদেশীয় রেস্টুরেন্ট ইথা । এই উদ্ভাবনী রেস্তোরাকে বাস্তবে রূপ প্রদানের জন্যে নিউজিল্যান্ড এর ডিজাইন কনসালটেন্সি ফার্ম এম. জে. মরফি নকশা পরিকল্পনা এবং নির্মাণে সহায়তা করে এবং উল্লেখ্য যে মিঃ মাইক মারফি অ্যাকোয়ারিয়াম প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তার পানির নিচে কাঠামোর উপর সব্বোচ্চ্য দক্ষতা ও সামুদ্রিক জীবনের প্রতি সব আবেগ ঢেলে মিঃ সালিম এর স্বপ্নে বাস্তব কাঠামো এর নকশা করেছে। জোড়া দ্বীপ রাঙগালিফিনলহু যার উপর গড়ে উঠেছে হিলটন মালদ্বীপ রিসোর্ট এন্ড স্পা এর পূনঃনির্মাণ বাবদ ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচের অংশ ইথা। এই পুনঃনির্মাণের অংশ হিসাবে ছিল দেশের অন্যতম বিলাসবহুল ৭৯ টি বীচ ভিলা, স্পা ভিলেজ যার অর্ন্তগত একটি স্পা, রেষ্টুরেন্ট ও ২১টি ভিলা, নিজস্ব সমুদ্রের উপর ভাসমান রিসোর্ট এর মধ্যে রিসোর্ট resort-within-a-resort।

                                     

3. নির্মাণশৈলি

এটাই সমুদ্রের নিচে নির্মিত সবচাইতে বৃহৎ স্থাপনা; আধুনিক অ্যাকোয়ারিয়াম আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে ইথা নির্মিত। নয় মিটার লম্বা পাচঁ মিটার প্রশস্থ ১২৫ মিমি পুরুত্ব বিশিষ্ট স্বচ্ছ ধনুক আকৃতির এ্যক্রেলিক কলোরাডো, ইউ এস এ থেকে আনা ব্যবহার করা হয়েছে, পানির নিচে ব্যবহার উপযোগী বিশেষ সিলিকন সিল ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিটি এ্যক্রেলিক কাঠামোর সংযোগস্থলে। একইসাথে মজবুত স্টিল কাঠামোতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পানি প্রতিরোধী রং পর্যায়ক্রমিক দস্তার প্রলেপ। পাটাতনে ব্যবহৃত কাঠ এসেছে নিউজিল্যন্ড থেকে যা বিশেষপ্রযুক্তিতে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা, ভিতর ও বাইরের আস্তরন এ ব্যবহৃত হয়েছে কানাডা থেকে আনা পশ্চিমের বিখ্যাত লাল সীডার কাঠ। সিঙ্গাপুরে চার মাসে তৈরি হয়ে যায় ইথা অতঃপর ক্রেন সংযুক্ত এক বজরা barge করে সিঙ্গাপুর হতে রাংগালি দ্বীপে নিয়ে আসা হয় যাত্রা মেয়াদছিল ১৬ দিন এবং সম্পূর্ন কাঠামোকে পানির নিচে রেখে আনা হয়েছিল। এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, রির্সোট এর প্রবেশ মুখ যথেষ্ট গভীর না থাকায় দ্বীপের সম্পূর্ণ প্রবেশ প্রনালীকে গভীরভাবে খনন করতে হয়। কাঠামোটি চারটি ইস্পাতের স্তম্ভ এর উপর যা সমুদ্রতলের ভিতরে আট মিটার গভীরে স্থাপিত। প্রতিটি ইস্পাতের পাইল এর ক্ষেত্রে সব্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে জীবন্ত প্রবালপ্রাচীএর নুন্যতম ক্ষতিও যেন এড়ানো সম্ভব এবং তাদের স্থাপনের জন্যে বার্জ মাউন্টেন্ড ভাইব্রো-হ্যামার ব্যবহার করা হয়। রেষ্টুরেন্ট এর ওজন ১৭৫ টন পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় এবং কাঠামোর তলদেশের সাথে যুক্ত করা হয় ৮৫ টন বালু যা সম্পূর্ন কাঠামোকে ডুবে থাকতে সাহায্য করবে। ইথা এর নির্মাণ খরচ প্রায় ৫ মিলিয়ন ইউ এস ডলার।



                                     

4. আরাম ও নিরাপত্তা

পারিপাশ্বিকতার জন্যে রেষ্টুরেন্টটিতে ভাল ও উন্নত তাপানুকূল ব্যবস্থা করা একটা বড় পরীক্ষা হয়ে দাড়িয়েছিল, নিউজিল্যান্ড এর জ্যাকসন ইন্জিনিয়ারিং ফার্ম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের নির্মিত বিশেষ ব্যবস্থায় ঘণ্টায় ৩ বার বাতাস পরিশোধন করা হয় ৬০% আদ্রতা বজায় রেথে। অতিথিদের নিরাপত্তা নজরদারীতে রাখা হয় কঠোর ভাবে সকল প্রবেশপথ ৩ ঘণ্টা অগ্নিপ্রতিরোধক মান উত্তীর্ণ। প্রবেশ এবং সম্পূর্ন রেষ্টুরেন্ট সংক্রিয় স্প্রিংকলার ব্যবস্থার আওতায় যার পানি প্রবাহ ও চাপ স্বাধীনভাবে নিয়ত্রিত। সার্বিক পর্যালোচনা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ইথা এর স্থায়িত্ব ২০ বছর দেওয়া হয়েছে সুতরাং মেয়াদকাল হিসাবে আমরা ইথাকে পাব ২০২৫ সাল পর্যন্ত্য

                                     

5. পরিবেশ ও সৌন্দয্য

আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে রুচিশীলতার চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ইথা। প্রতিটি টেবিলে স্থান পেয়েছে ডাডসন এর এয়ারশো প্লেট ও সাইড প্লেট, শ্বেত সাদা ফ্রেট ২৫০ বছরের বেশি সময়ের ঐতিয্য এর রুমাল/তোয়ালে, ডব্লিউএমএফ টাইকা এর ছুরি-চামচ, বিশেষ কাঠের পরিশুদ্ধ লবন পাত্র শুধুমাত্র ইথার জন্যে নির্মিত, রিডেল ভেনাম এক্সট্রিম শ্যাম্পেন এবং ওয়াইন গ্লাস এছাড়া রয়েছে রজেনথাল এর আসবাব। এধরনের অনন্য যেকোন রেস্তারার মান অনুসারে ইথা তার রন্ধন প্রনালী এক স্বতন্ত্র শিল্প হিসাবে দাড় করিয়েছে এবং তার নাম দিয়েছে সমসাময়িক মালদ্বিভিয়ান রন্ধন contemporary Maldivian cuisine ব্যবহার করে সকল স্থানীয় পরিশুদ্ধ মশল্লা, ঐতিহ্যগত রান্নার পদ্ধতি এবং সাথে পাশ্চাত্যের কিছু চমক যা নিয়ে আসে সমগ্র রান্নায় এক নতুন মাত্রা। ইথা ই প্রথম এবং একমাত্র রেস্টুরেন্ট যেখানে ফিউশন মালদ্বিভিয়ান রান্না পাওয়া যায়।

                                     

6. বহিঃসংযোগ

  • মধ্যাহ্নভোজ মেনু
  • নৈশভোজ মেনু
  • হিলটন মালদ্বীপ রিসোর্ট – ইথা, সমুদ্রতলের রেস্তোরা
  • এম.জে. মরফি –স্থপতি ও রেস্টুরেন্টের প্রকৌশলী
  • রিভিউ ও ছবি সমগ্র
  • নিউজ অন হসপিটালিটিনেট