Back

ⓘ ক্যাওস (গণ)




ক্যাওস (গণ)
                                     

ⓘ ক্যাওস (গণ)

১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে অগস্ট যোহান রোসেল ভন রোসেনহফ গ্রিক পৌরাণিক রূপ-পরিবর্তনকারী সমুদ্র দেবতা প্রোতিয়ুসের নামে দের ক্লেইন প্রোটিয়াস জার্মান: Der Kleine Proteus ; ছোট্ট প্রোটিয়াস নামে অ্যামিবা সদৃশ একটি জীবের বর্ণনা দেন। ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রোসেলের প্রোটিয়াসের চিত্র না দেখেই কার্ল লিনিয়াস তার নিজের শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতিতে এই জীবকে ভলভক্স ক্যাওস নাম দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু যেহেতু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবালের একটি গণের নামের সঙ্গে ভলভক্স শব্দটি যুক্ত করা হয়ে গেছিল, তাই তিনি এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ক্যাওস ক্যাওস । ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জোসেফ লেইডি স্বাদু জলের সমস্ত এককোষী অ্যামিবাকে একত্রে অ্যামিবা প্রোটিয়াস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করেন, যার মধ্যে ক্যাওস গণের প্রজাতিও অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে হেনরি ভ্যান পিটার্স উইলসন একটি বৃহদাকৃতি অ্যামিবা আবিষ্কার ও আলাদা করতে সক্ষম হন, যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অ্যামিবা প্রোটিয়াস প্রজাতির মিল থাকলেও এই জীবের শতাধিক নিউক্লিয়াস ছিল। যেহেতু ততদিনে বহু-নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বৃহদাকৃতি অ্যামিবাগুলিকে পেলোমিক্সা নামক গণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে গেছিল, উইলসন তার আবিষ্কৃত জীবকে পেলোমিক্সা ক্যারোলিনেন্সিস নাম দেন।

১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে আসা স্খেফার মতপ্রকাশ করেন যে, রোসেল বর্ণিত দের ক্লেইন প্রোটিয়াস, কার্ল লিনিয়াস বর্ণিত ক্যাওস ক্যাওস এবং উইলসন আবিষ্কৃত পেলোমিক্সা ক্যারোলিনেন্সিস একই জীব। এই কারণে তিনি জীবটির নাম ক্যাওস ক্যাওস রাখার পক্ষে মত দেন। বহু বিজ্ঞানীদের অমত সত্ত্বেও অনেকে তার মত গ্রহণ করেন। আবার বেশ কিছু বিজ্ঞানী গণ হিসেবে ক্যাওস নামটি গ্রহণ করলেও উইলসন দ্বারা নামাঙ্কিত ক্যারোলিনেন্সিস শব্দটিকে প্রজাতির নাম হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর দশক পর্য্যন্ত এই জীবের জন্য তিন রকমের নামই প্রচলিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী গবেষণা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই জীঈবের সঙ্গে অন্যান্য পেলোমিক্সা গণের প্রজাতিগুলির মধ্যে প্রচুর অমিল রয়েছে, যার ফলে এই জীবের নাম সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাওস ক্যারোলিনেন্সিস দেওয়া হয়েছে।

                                     

1. বৈশিষ্ট্য

ক্যাওস গণের জীবগুলির সঙ্গে অ্যামিবা গণের জীবগুলির অনেক মিল রয়েছে। উভয় গণের প্রজাতিরা এককোষী এবং শেষ প্রান্তে গোলাকার মুণ্ড বিশিষ্ট একাধিক সিউডোপড গঠন করে। কিন্তু যেখানে অ্যামিবা গণের প্রজাতিদের একটিমাত্র নিউক্লিয়াস থাকে, সেখানে ক্যাওস গণের প্রজাতিদের কোষে শতাধিক থেকে সহস্রাধিক নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে। এই কারণে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই প্রজাতিগুলিকে পেলোমিক্সা নামক গণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি, অণু জীববিদ্যার বিভিন্ন নিরীক্ষণ থেকে পূর্বের গবেষকদের সঠিকতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে যে, এই গণের প্রজাতিরা পেলোমিক্সা অপেক্ষা অ্যামিবা গণের প্রজাতিদের সঙ্গে অধিক সম্পর্কযুক্ত।

ক্যাওস প্রজাতিগুলির কোষ-পর্দা অত্যন্ত নমনীয়, যা প্রতি মূহুর্তে কোষের আকার পরিবর্তনে সাহায্য করে। সাইটোপ্লাজম দানাদার এন্ডোপ্লাজম এবং স্বচ্ছ অথচ গাঢ় এক্টোপ্লাজম- এই দুই ভাগে বিভক্ত। এন্ডোপ্লাজম অংশে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ইত্যাদি অঙ্গাণুগুলি অবস্থান করে। এই দুই প্রকার সাইটোপ্লাজমের প্রবাহের ফলে "

ক্যাওস প্রজাতিগুলি ব্যাক্টেরিয়া, শৈবাল, প্রোটিস্টা এমনকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বহুকোষী প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। সকল অ্যামিবোজোয়া প্রজতির মত এই গণের প্রজাতিরাও ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে সিউডোপড দ্বারা খাদ্যকণাকে চারিদিক থেকে আবদ্ধ করে ভ্যাকুওল তৈরি করে, যেখানে সেগুলি উৎসেচক দ্বারা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এই প্রজাতির কোষের কোষ-পর্দায় কোন নির্দিষ্ট স্থান থেকে ফ্যাগোসাইটোসিস ঘটে না।

                                     

2. আরো পড়ুন

  • Smirnov, A.V.; Goodkov, A.V. 1997: Description of the large multinucleate lobose amoeba Chaos glabrum sp. n. Lobosea, Amoebidae, with notes on the diagnosis of the genus Chaos. Acta protozoologica, 36 3: 227-233. Abstract
  • Nozawa 1938: Chaos cyaneus n. sp., a large amoeba of Proteus type. Zoological magazine, Tokyo, 50: 292-293.
  • Willumsen, N.B.S.; Siemensma, F.; Suhr-Jessen, P. 1987: A multinucleate amoeba, Parachaos zoochlorellae Willumsen 1982 comb. nov., and a proposed division of the genus Chaos into the genera Chaos and Parachaos Gymnamoebia, Amoebidae. Archiv für Protistenkunde, 134: 303-313.
  • Willumsen, N.B.S. 1982: Chaos zoochlorellae sp. nov. Gymnamoebia, Amoebidae from a Danish freshwater pond. Journal of natural history, 16: 803-813.

টেমপ্লেট:অ্যামিবোজোয়া