Back

ⓘ কাবুকি




কাবুকি
                                     

ⓘ কাবুকি

কাবুকি বিশেষ জাপানী ধ্রুপদী নাট্যধারা । সাধারণের রঙ্গালয় হিসাবে এই নাট্যধারার আবির্ভাবকাল সপ্তদশ শতাব্দী। কাবুকির অভিনয় আঙ্গিকে নো-নৃত্য এবং পুতুলনাচের প্রভাব আছে। এই নাট্যধারার আবিষ্কর্তা একজন মহিলা হলেও এখানে স্ত্রী ও তরুণদের অভিনয় নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। নাচের সাথে কড়া সাজ,মূকাভিনয়, স্থিআর সঞ্চালিত দেহভঙ্গি, ভাব প্রকাশের সাবেকি পদ্ধতি, ইঙ্গিত আর প্রতীকের ব্যবহাএর প্রধান উপকরণ। সংলাপ সংক্ষিপ্ত । গায়ক মঞ্চের বামদিক থেকে ঘটনা এবং চরিত্রের মানসিকতা বর্ণনা করে, সঙ্গে থাকে সামিসেন বাদক। প্রেক্ষাগৃহের মধ্য দিয়ে মঞ্চের ডানদিকে প্রসারিত থাকে একটি কাঠের পথ হানামিচি যার উপর দিয়ে অভিনেতারা যাওয়া-আসা করেন। এর সামনে মঞ্চে ঘেরা স্থানে বাদ্যকারদের আসন। ঘূর্ণমান মঞ্চ ও যান্ত্রিক কৌশলের মাধমে মঞ্চাভিনেতাদের উপরে ওঠানোর প্রথা প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে।

                                     

1. কাবুকির ইতিহাস

কাবুকি নাটকের ইতিহাসে দেখা যায় ১৬০৩ সালে ইজুমো নো ওকুনি শুখনো নদীখাতে বিশেষ এক ধরনের নৃত্যনাট্যের সূচনা করলেন, এই নাটকের সমস্ত রকম অভিনয় মেয়েরাই করতো । এই মহিলা কাবুকিদের অন্না-কাবুকি বলা হতো। সেটা ছিলো মহিলা কাবুকির যুগ ১৬০৩-১৬২৯ । অতি দ্রুত তা জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গেল এবং কাবুকি তার সহজাত পথ ভুলে নিছকই বিনোদনের পথে পা বাড়ালো। নাটকের অভিনেত্রীরা সহজেই যৌনপেশায় যুক্ত হতে লাগলো । তাএই সময় কাবুকি নাট্যধারাকে বারাঙ্গনাদের নৃত্য সংগীত বলা হতে থাকলো। জাপানের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে এই পরিবর্তিত কাবুকি সংস্কৃতি মিশে গিয়ে সামাজিক অবক্ষয়ের সূচনা হতেই তৎকালীন জাপানের শোগুন শাসক ১৬২৯ সালে এই মহিলা কাবুকি বা অন্না-কাবুকিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অন্না-কাবুকিকে অনুসরণ করে জাপানের একদল উৎসাহী তরুণেরা ওয়াকাসু-কাবুকি অভিনয় করতে শুরু করে, কিন্ত এরাও যৌনকর্মে সক্ষম হওয়ায় শোগুন শাসক অন্না-কাবুকির মতোই ওয়াকাসু-কাবুকিকেও নিষিদ্ধও করেন। সুতরাং, অনিবার্যভাবেই কাবুকি নাট্যধারা সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের হাতে গিয়ে পড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অভিনীত এই কাবুকিকে বলা হতো ইয়ারো-কাবুকি।

                                     

2. ১৬২৯-১৬৭৩: ইয়ারো কাবুকি যুগ

ইয়ারো কাবুকিদের মধ্যে যারা মহিলা চরিত্রে অভিনয় করতো তাদের বলা হতো অন্নাগাতা। নারী বর্জিত এই নাট্যধারা বেশ চলছিলো ; কিন্তু সমস্যাটা দেখা দিলো কিছুদিন পর। অন্নাগাতারা নারী চরিত্রে অভিনয় করতে করতে নিজেদের মধ্যে নারীসুলভ আচরণের লালন করতো, ফলে এইসব অভিনেতাগণ পুরুষ-নারী উভয়ের কাছেই যৌনকর্মী হিসাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠত । সঙ্গত কারণে শোগুন প্রসাশন অন্নাগাতা ও ওয়কাসু কাবুকিদের নিষিদ্ধ করেছিলেন । অবশ্য আরও পরে ১৬৫২ সালে এদের উভয়ের উপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।