Back

ⓘ অপুষ্টি



                                               

হাইপোলিপোপ্রোটিনেমিয়া

হাইপোলিপোপ্রোটিনেমিয়া, হাইপোলিপিডেমিয়া, হলো এক ধরনের ডিসলিপিডেমিয়া যেটিকে রক্তে লিপিড অথবা লিপোপ্রোটিনের অস্বাভাবিক নিম্ন মাত্রা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি জিনগত রোগ যেমন হাইপোফলিপোপ্রোটিনেমিয়া ও হাইপোবেটালিপোপ্রোটিনেমিয়া, অপুষ্টি, অপশোষণ, ক্যান্সার, হাইপারথাইরয়েডিজম এবং লিভারের রোগের মাধ্যমে ঘটে থাকে।

অপুষ্টি
                                     

ⓘ অপুষ্টি

অপুষ্টি বা পুষ্টির অভাব হল একটি অবস্থা, এটা এমন একটা খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাওয়ার ফলস্বরূপ ঘটে যেখানে পুষ্টিকর উপাদানগুলো যথেষ্ট নয় অথবা এত বেশি যে তার কারণে স্বাস্থ্যের সমস্যা ঘটে। সংশ্লিষ্ট পুষ্টিকর উপাদানগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে: ক্যালরি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বা খনিজ পদার্থ। এটা অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্টভাবে পুষ্টির অভাবের প্রতি নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট; তবে অধিক-পুষ্টিও এর অন্তর্ভুক্ত। যদি গর্ভাবস্থায় অথবা দুই বছর বয়স হওয়ার আগে পুষ্টির অভাব ঘটে, তাহলে এর ফলস্বরূপ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে স্থায়ী সমস্যা হতে পারে। উপোস নামে পরিচিত পুষ্টির চরম অভাবের যে উপসর্গগুলো থাকতে পারে তার অন্তর্ভুক্ত হল: খাটো উচ্চতা, রোগা শরীর, খুব দুর্বল প্রাণশক্তির মাত্রা এবং পা ও পেটে ফোলাভাব। লোকেরা প্রায়ই সংক্রমণের শিকার হন এবং ঘন ঠান্ডা লাগায় ভোগেন। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতির লক্ষণগুলো নির্ভর করে যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি হয়েছে তার ওপর।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চমানের খাবার খাওয়ার জন্য উপলব্ধ না থাকার কারণে পুষ্টির ঘাটতি হয়। এটা প্রায়ই খাবারের বেশি দাম ও দারিদ্রের সাথে সম্পর্কিত। স্তন্যপান করানোর ঘাটতিও দায়ী হতে পারে, এবং বেশ কয়েকটি সংক্রামক রোগ যেমন: গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া ও হাম যেগুলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের প্রয়োজন বাড়িয়ে দিতে পারে সেগুলোও এর জন্য দায়ী হতে পারে। পুষ্টির ঘাটতির দুটি প্রধান ধরন আছে: প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি এবং খাদ্যের ঘাটতি। প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টির দুটি তীব্র রূপ আছে: মারাসমাস প্রোটিন ও ক্যালরির ঘাটতি ও কোয়াশিওরকোর শুধুমাত্র প্রোটিনের একটি ঘাটতি। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের সাধারণ ঘাটতিগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল: আয়রনের অভাব, আয়োডিন ও ভিটামিন এ। গর্ভাবস্থায়, প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘাটতিগুলো আরো বেশি সাধারণ হয়ে ওঠে। কিছু উন্নয়নশীল দেশে অতি-পুষ্টি স্থূলতা হিসেবে পুষ্টির ঘাটতির মত একই সমাজে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। অপুষ্টির অন্যান্য কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা ও বেরিয়াট্রিক সার্জারি। প্রবীণ মানুষদের মধ্যে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কারণগুলোর জন্য অপুষ্টি আরো বেশি সাধারণ হয়ে ওঠে।

পুষ্টি উন্নত করার প্রচেষ্টা হল উন্নয়নগত সহায়তার সবচেয়ে কার্যকর রূপ। স্তন্যপান করালে, তা শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও মৃত্যুর হার কমাতে পারে, এবং এই অভ্যাস প্রচারের প্রচেষ্টা হার বৃদ্ধি করে। ছয় মাস ও দুই বছরের মধ্যে ছোট শিশুদের বুকের দুধের পাশাপাশি খাবার দেওয়া হলে, তা ফলাফলকে উন্নত করে। উন্নয়নশীল বিশ্বে গর্ভাবস্থায় এবং ছোট শিশুদের মধ্যে অনেকগুলি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের সম্পূরক প্রদান-কে সহায়তা করারও ভাল প্রমাণ আছে। যে মানুষদের খাদ্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদেরকে খাদ্য দেওয়ার জন্য, তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং অর্থ প্রদান করা, যাতে লোকেরা স্থানীয় বাজার থেকে খাদ্য কিনতে পারেন, এই দুটোই কার্যকর হয়। মানুষকে শুধু স্কুলে খাবার খাওয়ানো যথেষ্ট নয়। বেশির ভাগ সময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত আরোগ্যকারী খাদ্য এর সাহায্যে সেই ব্যক্তির বাড়ির ভিতরে তীব্র অপুষ্টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। যাদের তীব্র অপুষ্টি আছে এবং স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যার কারণে তা আরো জটিল হয়ে যায়, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর জন্য প্রায়ই রক্তে কম শর্করা, শরীরের তাপমাত্রা, জলশূন্যতা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, এবং ধীরে ধীরে খাওয়াতে হয়। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির কারণে সাধারণত গতানুগতিক অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘকালীন পদক্ষেপগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল: কৃষির অনুশীলনগুলোকে উন্নত করা, দারিদ্র হ্রাস করা, নিকাশী ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং নারীদের ক্ষমতা প্রদান করা।

2010 সালে বিশ্বে 925 মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছিলেন, যা 1990 সালেপর থেকে 80 মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছিল। আরো একশত কোটি মানুষের শরীরে ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি আছে বলে অণুমান করা হয়। 2010 সালে প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টির কারণে in 600.000 মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে অণুমান করা হয়, যে সংখ্যাটি 1990 সালে 883.000 টি মৃত্যুর থেকে হ্রাস পেয়েছিল। আয়োডিনের ঘাটতি এবং আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তাল্পতা সহ অন্যান্য পুষ্টিগত ঘাটতির ফলস্বরূপ আরো 84.000 জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। 2010 সালে প্রতিবন্ধকতার কারণে পরিবর্তিত আয়ুষ্কালের সমস্ত ঘটনার 1.4% এর জন্য দায়ী ছিল পুষ্টির অভাব। শিশুমৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ অপুষ্টির কারণে ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়, তবে মৃত্যুগুলোকে খুব বিরল ক্ষেত্রেই এইভাবে চিহ্নিত করা হয়। অণুমান করা হয়েছিল 2010 সালে নারী ও শিশুদের মধ্যে প্রায় 1.5 মিলিয়ন মৃত্যুর জন্য অপুষ্টি দায়ী ছিল, যদিও কিছু মানুষ অণুমান করেন যে এই সংখ্যা 3 মিলিয়নের বেশি হতে পারে। রোগটির কারণে আরো অতিরিক্ত 165 মিলিয়ন শিশুর বৃদ্ধি রুদ্ধ হয়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপুষ্টির ঘটনা বেশি সাধারণ।

Free and no ads
no need to download or install

Pino - logical board game which is based on tactics and strategy. In general this is a remix of chess, checkers and corners. The game develops imagination, concentration, teaches how to solve tasks, plan their own actions and of course to think logically. It does not matter how much pieces you have, the main thing is how they are placement!

online intellectual game →